শান্ত থাকবেন অধিনায়ক?
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ২১:০৪ পিএম
নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে— ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ১৭ বছর পর শেষ আট নিশ্চিত, এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ জয় এবং জেগেছিল সেমিফাইনালের সম্ভাবনা— আগের সব বিশ্বকাপের তুলনায় এবার যথেষ্ট ভালো বিশ্বকাপ কাটিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এখানে যদি-কিন্তুতে আটকে ব্যাটাররা। পুরো বিশ্বকাপে রান খরায় ভোগা টাইগার ব্যাটারদের একহাত নিচ্ছে সাবেক-বর্তমান হয়ে দর্শক-সমর্থকরা। তোপটা সবচেয়ে বেশি পড়ছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দিকে। সফল বিশ্বকাপ কাটানোর পরও তার নেতৃত্বে থাকা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন!
বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে টাইগার অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ১১২ রান। কুড়ি কুড়ির ফরম্যাটে স্ট্রাইক রেট ছিল দৃষ্টিকটুÑ ৯৫.৭২! ব্যাট হাতে হতশ্রী পারফরম্যান্সের কারণেই অধিনায়কত্ব থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার কথা উঠছে। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস গতকাল শনিবার কৌশলে এড়িয়ে গেছেন উত্তর। নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে কিনা সেটি খোলাসা করে না বললেও জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, কারণ খোঁজা হবে ব্যাটারদের ব্যর্থতার। একই সঙ্গে অন্য ঘাটতিও খুঁজবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সব ফরম্যাটের জন্য দলের নেতৃত্ব পান শান্ত। তার অধীনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলে বাংলাদেশ। অম্লমধুর বিশ্ব আসরে সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে শান্তর নেতৃত্ব নিয়েই। বিশ্বকাপে তার কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও বেশ সমালোচনা হচ্ছে। এর মাঝেই জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, বোর্ড চাইলে পরিবর্তন হতে পারে নেতৃত্ব!
শনিবার জালাল ইউনুস বলেন, ‘শান্তকে এক বছরের জন্য নেতৃত্ব দিয়েছি। এখন পর্যন্ত এই বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করিনি। তাসকিন শুরু করেছে সহ-অধিনায়ক হিসেবে। আমার মনে হয়, সে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারে। কিন্তু এই মুহূর্তে অধিনায়ক পরিবর্তন হবে কি না, ভবিষ্যতেও হবে কি না— এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারব না। সবকিছু বোর্ডের সিদ্ধান্তে হয়। শান্তকে এই বছরের জন্য ম্যান্ডেট দিয়েছি। বাকিটা বোর্ডের ইচ্ছা।’
বিশ্বকাপে পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়েছেন সাকিব আল হাসান এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞরা। এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটারসহ আরও যারা খারাপ করেছেন তাদের ব্যাপারে ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাকিব-মাহমুদউল্লাহ কারও নাম নিয়ে বলছি না, যারা পারফর্ম করে সামনে আসবে তারাই খেলবে। এখন যারা খেলছে তারা সবাই পারফর্ম করেই এসেছে। যারা টি-টোয়েন্টি দলে গিয়েছে প্রত্যেকেই সামর্থ্য দেখিয়েই টিমে ছিল। দলের মধ্যে পারফর্ম্যান্সকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।’
অম্লমধুর কাটানো বিশ্বকাপে তবে বাংলাদেশের পাওয়াটাই বেশি দেখছেন বোর্ড পরিচালক। জালাল ইউনুসের মতে, প্রাথমিক লক্ষ্য পার করতে পারায় শান্তদের ওপর খুশি বিসিবি, ‘বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল দ্বিতীয় রাউন্ডে (সুপার এইট) কোয়ালিফাই করা। সেদিক দিয়ে কোয়ালিফাই করেছি। অবশ্যই এটা ইতিবাচক দিক, লক্ষ্যে পৌঁছতে পেরেছি। দুই ভাগে যদি ভাগ করি, তাহলে একদিক দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারায় সবাই খুশি।’
তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় কয়েকটি ক্লোজ ম্যাচ জিততে না পারার আক্ষেপ ঝরেছে ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যানের কণ্ঠে, ‘ওভার অল পারফরম্যান্সের কথা বললে, যদি ব্যাটিং আর বোলিংয়ে বলেন— আমরা ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারিনি। পুরো টুর্নামেন্টেই ভালো ব্যাট করিনি। প্রথম রাউন্ডের চার ম্যাচের চারটিতেই কিন্তু জিততে পারতাম। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে খুব ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। টপ অর্ডারে নিয়মিত ধস নেমেছে বলে ব্যাটিং ভালো করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে এভাবে ফেল করতে কখনও দেখিনি। হয়তো একজন করেছে, আরেকজন ওই জায়গায় গিয়ে কাভার দিয়েছে। কোন কোন জায়গায় দুর্বলতা আছে এটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে এবং সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে।’