টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল
হেলাল নিরব
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ১৫:২২ পিএম
ফাইনালে টক্কর হবে সেয়ানে সেয়ানে— ছবি: সংগৃহীত
বলা হয়, ফাইনাল ম্যাচে প্রভাব রাখে না অতীত পরিসংখ্যান। মুখ্য হয়ে ওঠে না আগে কোন দল কী করেছে কিংবা কার শক্তি কতটুকু। শেষাঙ্কে পৌঁছানো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তেমন সংকট যদিও নেই। বলা চলে দুদলই সেরা, আর সেরা বলেই তো তারা শিরোপার মঞ্চে! খাতা-কলমে কতশত কাটাকুটি, হিসাবনিকাশ আর বিস্তর ভবিষ্যদ্বাণী— সব মিটে যাবে বার্বাডোজে। আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শিরোপা ফয়সালার মঞ্চ প্রস্তুত, দুদলের খেলোয়াড়রা তবে কতটা প্রস্তুত? আসল লড়াইয়ে কে কাকে ছাপিয়ে ওঠেন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আটলান্টিক পারের কন্ডিশন, সাম্প্রতিক ফর্ম আর হার না মানা মানসিকতাই পুঁজি দুদলের। ভারত এখনও ৭ ম্যাচে খেলে অপরাজিত। অপরদিকে কুড়ি কুড়ির আসরে এবার টানা ৮ ম্যাচ হারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। সাড়ে সাত মাসের মধ্যে আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা রোহিতদের সামনে শিরোপা-খরা ঘোচানোর মিশন। বিপরীতে কখনও বিশ্বকাপ ফাইনাল না খেলা প্রোটিয়াদের ইতিহাস গড়ার। মুখোমুখি লড়াই, ব্যাটিং কিংবা বোলিং পরিসংখ্যানের হিসাবে ফেভারিট ভারতই। কেনসিংটন ওভালে শনিবার যদিও টক্কর হবে কয়েকটি ব্যক্তিগত লড়াইয়ে। রোহিত-মার্করামদের ম্যাচের ভেতরের ওসব লড়াই গড়ে দেবে পার্থক্য।

কুইন্টন ডি কক-জাসপ্রিত বুমরাহ
দুজনই দুদলের ম্যাচউইনার। দক্ষিণ আফ্রিকার যেমন কুইন্টন ডি ককের ব্যাটিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকবে। তেমনি ভারতও চাইবে বুমরাহ যেন দ্রুত তাকে ফিরিয়ে স্বস্তি দিতে পারেন। বিশ্বকাপে নিজের চেনা ছন্দে আছেন প্রোটিয়া ওপেনার। লম্বা সময়ের চোট কাটিয়ে ফেরা বুমরাহ আছেন চেনা ছন্দে।
আর্শদীপ সিংয়ের পর এবারের আসরে বুমরাহ আছেন ভারতীয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি উইকেটের তালিকায়। ৭ ম্যাচে চারের একটু বেশি ইকোনমিতে তুলে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। গতি, ইয়র্কার ও ইনসুইংয়ের রাজত্বে তাকে মোকাবিলা করা বেশ কঠিনই! বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে শেষ প্রমাণের অপেক্ষায় ডি ককরা। বার্বাডোজে আবহাওয়া বাগড়া না দিলে ইয়র্কারের রাজা বুমরাহকে সামলাতে দেখা যাবে ড্রাইভ কিংবা পুল শটের কিং ডি কককে। ৮ ম্যাচে ডি কক করেছেন দুই শতাধিক রান, ব্যাট করছেন দেড়শ স্ট্রাইক রেট ছাপিয়ে।
শিরোপার মঞ্চে দর্শক-সমর্থকদের চোখও থাকবে এ দুজনের ওপর। বুমরাহ-ডি ককের ঠান্ডা লড়াই আরও একবার দেখার অপেক্ষায় থাকবে বিশ্ব। দুই তারকার পাওয়ার প্লে পাওয়ার জোগাবে পুরো ম্যাচের।
রোহিত শর্মা-কাগিসো রাবাদা
পিচ রিপোর্ট বলছে, বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভাল পেস বোলারদের স্বর্গরাজ্য হতে পারে। কাগিসো রাবাদা কিংবা বুমরাহরা বাউন্সের সঙ্গে পেতে পারেন বাড়তি সুইং। দুই দলের পেসারদের এই সুবিধা ভোগান্তিতে ফেলতে পারে ব্যাটারদের।
বিশ্বকাপে এখন অবধি দুর্দান্ত ব্যাটিং করে যাওয়া রোহিত শর্মা সেক্ষেত্রে খানিকটা সতর্ক থাকতেই পারেন। কেননা, ভারতের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুর দিকে রাবাদা আসেন দমিয়ে রাখতে। পুরো বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষকে প্রোটিয়া পেসার বেশ ভুগিয়েছেন। ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট, আছে দুটি মেডেন ওভারও। ব্যাট হাতে রান তোলার কাজটাও দারুণ করেছেন রোহিত।
ভারতের অধিনায়ক ওপেনিংয়ে নেমে কচুকাটা করেছেন প্রতিপক্ষ বোলারদের। ৭ ম্যাচে দেড়শ ছাড়ানো স্ট্রাইক রেটে করেছেন প্রায় আড়াইশ রান। সেরার দৌড়ে সেরা দুই তারকার লড়াই আলাদা করে নজর কাড়তে পারে কেনসিংটন ওভালে। পাওয়ার প্লেতে দুজনেই থাকতে চাইবেন সেরা ছন্দে। ভারত কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা দুদলের ফাইনালম্যানও হতে পারেন এই দুজন।
সূর্যকুমার যাদব-তাবরেজ শামসি
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণ নিয়ে স্তুতি যতটা, ঠিক ততটাই ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েও। মেন ইন ব্লুদের ব্যাটিং ভিত মানা হয় যাকে, সেই কোহলি খুব একটা ছন্দে নেই। তবে ভারত আছে দাপুটে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষেও দাপট দেখাচ্ছেন টপ মিডল অর্ডার ব্যাটাররা। সেই মিডলের মিডলম্যান হচ্ছেন সূর্যকুমার যাদব। ৩৬০ ডিগ্রিখ্যাত ব্যাটার আছেন দারুণ ছন্দে। দেড়শ ছাড়িয়ে স্ট্রাইক রেটে ব্যাট হাঁকিয়ে এনেছেন ১৯৬ রান।
টপে প্রোটিয়াদের টপ বোলারদের লড়াই শেষে মিডলে তাবরেজ শামসিকে খুব প্রয়োজন হবে প্রোটিয়া অধিনায়ক মার্করামের। এখন অবধি ৪ ম্যাচ খেলা শামসি শিকার করেছেন ১১ উইকেট। ফাইনালে ভারতের ব্যাটিং ভিতের অন্যতম তিন ব্যাটার— রিশভ পন্ত, সূর্যকুমার এবং শিবম দুবেদের জন্য আজ হতে পারেন শামসি। ভারতের ব্যাটিংয়ে রান তোলার গড়ও কমিয়ে দিতে পারেন এই স্পিনার। উল্টো হলে, অর্থাৎ মিডলে যাদব কিংবা পন্তের ব্যাটে চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছুটলে ভুগতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
এইডেন মার্করাম-হার্দিক পাণ্ডিয়া
একজন অধিনায়ক, অন্যজন সহঅধিনায়ক। দুজনই ফ্রন্টলাইনার। ভারত যখন বোলিংয়ে ব্যাকফুটে থাকেন, ডাক পড়ে হার্দিকের। ব্যাটিংয়ে ধুঁকছে দল কিংবা দ্রুত রান তোলার দরকার, কাজটা করে দেন পাণ্ডিয়া। হার্দিকের সঙ্গে মার্করামের টক্কর হবে মূলত সেই প্ল্যান ভেস্তে দেওয়াতে। হার্শেল গিবস, গ্রায়েম স্মিথ, এবি ডি ভিলিয়ার্স কিংবা শন পোলক যা পারেননি, সেটিই করে দেখিয়েছেন মার্করাম। প্রথমবার কোনো বিশ্ব আসরে দলকে তুলে হুমকিও ছুড়ে রেখেছেন।
ব্যাট হাতে বুমরাহ-হার্দিকদের সামলানোর পর মার্করামের দায়িত্ব থাকবে দল পরিচালনারও। প্রথমবার ফাইনালে উঠে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ কে না চায়? ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত থাকা হার্দিকও নিশ্চয় ভারতের ১১ বছর ধরে চলা আইসিসির শিরোপা-খরা কাটাতে মরিয়া!