প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ১৪:৫০ পিএম
আপডেট : ২৯ জুন ২০২৪ ১৪:৫১ পিএম
ফাইনালে মুখোমুখি ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা
দক্ষিণ আফ্রিকার নামের সঙ্গে স্থায়ী হয়ে আছে চোকার্স অপবাদ। বিশ্বকাপ জেতার আগ পর্যন্ত এই দুর্নাম থেকে মুক্তি নেই প্রোটিয়াদের। তবে এবারে শাপমুক্তির জোরালো সম্ভাবনা জাগিয়েছে প্রোটিয়ারা। প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে তারা। এর আগ পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাঁচবার আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজেছে তাদের। যেকোনো বৈশ্বিক আসরে ভারতকে চোকার্স বলার কোনো সুযোগই নেই। তবে ম্যাচটা যদিও ফাইনাল, সেক্ষেত্রে বিষয়টা কিন্তু আলাদা। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে যেকোনো বৈশ্বিক আসরে ফাইনালে ভারত হারবে এটাই যেন নিয়তি নির্ধারিত। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, মিনি বিশ্বকাপ খ্যাত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে পাঁচটি ফাইনালে হেরেছে ভারত।
সাধারণত বলা হয়ে থাকে, মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসরের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের ফাইনাল জেতাটাও চলে গেছে অবসরে। অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের সর্বশেষ হারে নেতৃত্বে ছিলেন ধোনি। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ওই আসরে শিরোপার লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬ উইকেটের ব্যবধানে হারে ভারত। সেই যে ফাইনাল ট্র্যাজেডির শুরু। এর থেকে আর বোরোতে পারেনি ভারত। ২০১৭ সালে মিনি বিশ্বকাপ খ্যাত আইসসির বৈশ্বিক ইভেন্ট চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে বিরাট কোহলির দল হারে ১৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে। মজাটা হচ্ছে, গ্রুপ পর্বে এই পাকিস্তানকেই ভারত হারিয়েছিল ১২৪ রানের বড় ব্যবধানে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালেও ট্র্যাজেডিই হয়েছে ভারতের সঙ্গী। একমাত্র দল হিসেবে দুটো আসরেই ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখিয়েছে ভারত। ২০২১ সালে প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারে কোহলি ব্রিগেড। দুই বছর পর ২০২৩ সালে আবারও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠে ভারত। কিন্তু পরিণতি সেই একই। শিরোপার লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে তারা হেরে যায় ২০৯ রানের ব্ড় ব্যবধানে। কোহলির জায়গায় রোহিত শর্মা অধিনায়ক হলেও ভাগ্যের বদল হয়নি ভারতের। মাত্র ৭ মাস আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে একমাত্র দল হিসেবে অপরাজিত থেকেই ফাইনালে ওঠে রোহিতের ভারত। গ্রুপ পর্বে তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারায় ৬ উইকেটের ব্যবধানে। আহমেদাবাদে ঘরের মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত পায় অস্ট্রেলিয়াকেই। কিন্তু ফাইনালের জট খুলতে পারেনি তারা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬ উইকেটে হেরে শিরোপাস্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হয় রোহিতদের।
বৈশ্বিক আসরে সবচেয়ে ট্র্যাজিক দল দক্ষিণ আফ্রিকা। র্যাঙ্কিংয়ে অনেকবার এক নম্বর দল হিসেবে অংশ নিয়েও ঝরে পড়েছে সেমিফাইনাল থেকেই। বর্ণবাদের ঘোর অমানিশা কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৯৯২ সালে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসরেই জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। বৃষ্টি আইনের প্যাঁচে পড়ে হারার আগেই হেরে যায় তারা। এরপর থেকে দুঃস্বপ্নই তাদের নিত্যসঙ্গী। তবে ফাইনালে প্রোটিয়াদের চোকার্স বলার কোনো সুযোগই নেই। কেননা এবারই কোনো বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে তারা। আর একটা বিষয় কিন্তু বড় প্রেরণা হতে পারে প্রোটিয়াদের। একমাত্র বৈশ্বিক আসর মিনি বিশ্বকাপ খ্যাত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ফাইনালে উঠেছিল প্রোটিয়ারা। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল প্রোটিয়ারা। আর তাতেই বৈশ্বিক আসরে দুই যুগ আগে ফাইনালের একমাত্র অভিজ্ঞতাটি কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বেশ সুখকর।
ভারত সর্বশেষ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে ২০১১ সালে। ৫০ ওভারের ওই আসরে ফাইনালে তারা হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। ১৩ বছর ধরে ফাইনাল ভারতের কাছে হয়ে আছে এক রহস্যের নাম। আর বিশ্বকাপ তো প্রোটিয়াদের জন্য হয়ে আছে খুব বড় এক রহস্য। এর আগের বেশিরভাগ আসরগুলোতে দেখা গেছে একমাত্র দল হিসেবে ফাইনালের আগ পর্যন্ত ভারত থাকে অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু এবারে দুই ফাইনালিস্টই এখন পর্যন্ত অপরাজিত। অর্থাৎ অজেয় থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ দুদলের সামনেই। ঐতিহাসিক অপবাদ ঘোচানোর জন্য দুদলের জন্যই এরচেয়ে ভালো সুযোগ আর হতে পারে না।