শফিকুল হক হীরা
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ১০:০১ এএম
আপডেট : ২৯ জুন ২০২৪ ১৬:১৭ পিএম
শফিকুল হক হীরা— সংগৃহীত ছবি
ভারতের ১ থেকে ৯ নম্বর অবধি ব্যাটার। আমি ঠিক এ কারণেই রোহিত শর্মার দলকে ফাইনালে এগিয়ে রাখব। ওদের জেতার যে মানসিকতা, তা দুর্দান্ত। এই বিশ্বকাপে প্রায় সব ম্যাচের মতো সেমিফাইনালেও খুব সহজেই জিতেছে। দলটির খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে বোঝাপাড়াটাও খুব দারুণ। ওদের স্পিন অ্যাটাক বলেন আর পেস বোলিং অ্যাটাক— সবটাই দারুণ। ভারতের অলরাউন্ডার বেশি, তারা খুবই কার্যকরী। দলের যেকোনো খারাপ সময়ে হয় বোলিং নয়তো ব্যাটিংয়ে সামলে নেয়। মূলত ওরা দল হিসেবে খেলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেরা বোলার যে ছিল, মার্কো জানসেন, সে কিন্তু পুরো বিশ্বকাপে ভালো করেনি। তবে ওদের বোলিং লাইনআপও ভালো। তবে ভয় ধরাবে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনআপ। একাদশের তিন থেকে চারজন মূলত ব্যাটার। তারা যদি ভালো করতে পারে, তবে ভারতকে ভুগতে হবে। কিন্তু ওদের ব্যাটিং অর্ডারটা অনেকটাই যেন অনিশ্চিত। আনসারটেইন। আবার ভারতের বোলিং লাইন বেশ শক্ত।
একমাত্র বিরাট কোহলি বাদে রোহিত শর্মাদের প্রায় সবাই ফর্মে আছে। সেও কয়েকটা ম্যাচে রান পেয়েছে। আমার ধারণা, কোহলি ফাইনালে ভালো করবে। রোহিত তো বলেছেন, ফাইনালের জন্য জমিয়ে রেখেছেন কোহলি। তাছাড়া ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ বেশ ভোগাতে পারে প্রতিপক্ষকে। দিনটা যদি ভারতের পক্ষে থাকে, খেলোয়াড়রা পারফর্ম করতে পারে তবে তারাই শিরোপা জিতবে। আইসিসির শিরোপা-খরাও কাটাতে পারবে রোহিতরা।
এখানে কথা আছে, মূলত পাওয়ার প্লের ৬ ওভারই নির্ধারণ করে দেবে খেলার গতি। খেলার পুরো দৃশ্যপটও। আবহাওয়া একটু বাগড়া দিতে পারে। কিন্তু রিজার্ভ ডে আর বাড়তি ওভার ওই চাপ বাড়তে দেবে না। প্রথম ছয় ওভার তাই দুদলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে বুমরাহরা যদি ডি কককে না ফেরাতে পারে, তবে রান কিন্তু বেশি হবে। টসও অনেক গুরুত্বপুর্ণ। যারা জিতবে তারা ফাইনালে আগে ব্যাটিং নেওয়ার কথা ভাববে। রোহিত শর্মা প্রায়ই এটা করে আসছে। ইংল্যান্ড সেদিন (সেমিফাইনালে) হারার কারণও কিন্তু ব্যাটিং না নেওয়া। ক্যারিবিয়ান এসব পিচে দেখা যাচ্ছে রান তাড়া করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারত সেক্ষেত্রে ব্যাটিংটাই আগে নিতে চাইবে। সেটি না হলেও তারা বোলিংয়ে বাকিটা পুষিয়ে দেবে। বিশেষ করে ওদের মিডল অর্ডার বেশ ব্যালেন্সড। দক্ষিণ আফ্রিকা অত সহজে ছেড়ে দেবে না ভারতকে। জোরালো লড়াই হবে। তবে সেটি শেষ অবধি ভারতের পক্ষেই যেতে পারে।
কারণও আছে বেশ। এই ধরনের পিচ ভারতের খুব পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকা যেভাবে মেরে খেলে, তাতে দেখা যাবে খুব দ্রুতই উইকেট হারায়। ভারতের ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা হওয়ার সুযোগ নেই। ওদের টপ অর্ডার ফেল করলে, মিডল ধরে খেলে, সেখানেও ভালো না হলে লোয়ার মিডল অর্ডার দারুণভাবে সাহায্য করে। শুধু ভারতের পক্ষেই বলা হচ্ছে! মনে রাখতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাও দুর্দান্ত অবস্থায় আছে। তাদের জেতার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। কতবারের চেষ্টায় অবশেষে ফাইনালে এসেছে দলটি। প্রোটিয়ারা অল আউট স্পোর্টস খেলবে। হয় লাক নয়তো শেষ। ভারত অমনভাবে হাঁটবে না। তারা বেশ কয়েকটি ফাইনাল খেলেছে ইতোমধ্যে। শিরোপাও জিতেছে। তাই তারা একটু সতর্ক হয়ে হাঁটবে আজ।
সব মিলিয়ে ফাইনাল খেলা তো, এখানে আসলে প্রেডিকশন করা যায় না। তবুও ভারতের জেতার চান্স অনেক বেশি। যদি শতকরা হিসাব করে বলি তাহলে ভারতের সম্ভাবনা ৬০ পার্সেন্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪০! এটা শুধুই ভবিষ্যদ্বাণী। যারা জিতবে তারা কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ রানের ব্যবধানে জিতবে। উইকেটের ব্যবধানেও একেবারে শেষ পর্যায়ে। দুইটা সেমিফাইনালের মতো একপেশে হবে না। বাকিটা দেখা যাবে বার্বডোজে। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমার বাজি রোহিতের ভারত।
শফিকুল হক হীরা
সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল