টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ২২:০০ পিএম
গেল কয়েকটা সপ্তাহ দুর্দান্ত কেটেছে আফগানিস্তানের। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার
মতো দলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপের আসরে খেলেছে সেমিফাইনালে। কিন্তু
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে প্রোটিয়াদের
কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে আফগানরা। সেমিফাইনালে বাজেভাবে হারার পর আফগান অধিনায়ক
রশিদ খান দুষছেন কন্ডিশনকে। একই সঙ্গে দলটির কোচ জোনাথন ট্রটও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন
উইকেটকে।
কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৯
উইকেটে হেরেছে আফগানিস্তান। ম্যাচে আফগানদের দেওয়া ৫৭ রানের সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে
মাত্র ৮.৫ ওভারেই পেরিয়ে যায় প্রোটিয়ারা। হারের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রশিদ
খান বলেন, ‘দল হিসেবে আমাদের জন্য কঠিন এক রাত গেছে। আমরা এরচেয়ে ভালো করতে পারতাম।
কিন্তু কন্ডিশন আমাদের সেটা করতে দেয়নি, তবে এটাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট।’
ম্যাচে পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারেই ২৮ রান তুলতে ৫ উইকেট হারায় আফগানরা।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। ১১.৫ ওভারে মাত্র ৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় এশিয়ার
দলটি, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আফগানদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ। তাই সেমিফাইনালে সতীর্থ
ব্যাটারদেরও দায় দেখছেন আফগান অধিনায়ক, ‘আমরা ব্যাটিংটা ভালো করিনি। ব্যাটিং নিয়ে কিছু
কাজ করতে হবে। যেটা বলছিলাম, অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আমরা দারুণ কিছু অর্জন করেছি,
কঠোর পরিশ্রম করে আমরা আবার ফিরব।’ যোগ করেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্ট উপভোগ করেছি। টুর্নামেন্টের
আগে যদি কেউ আমাদের বলত, তোমরা সেমিফাইনাল খেলবে, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শীর্ষ
কোনো দলের বিপক্ষে হেরে যাবে। আমরা তা ভালোভাবেই গ্রহণ করতাম। এটা মাত্র শুরু, যেকোনো
দলকে হারানোর বিশ্বাস আমাদের আছে।’
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উইকেটকে দুষেছেন আফগানিস্তান কোচ ট্রটও, ‘এটা
এমন পিচ ছিল না যেটাতে সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ আপনি চাইবেন। বল-ব্যাটের একটা ভারসাম্যমূলক
প্রতিযোগিতা থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। আমি বলছি না যে একদম ফ্ল্যাট হবে যেখানে স্পিন
হবে না, সিম মুভমেন্ট হবে না। বলছি ব্যাটারদের ভীতির কারণ হয় এমন হওয়াও উচিত না।’
আফগানিস্তানকে প্রথম সেমিফাইনাল খেলতে হয়েছে খুব তাড়াহুড়োর মধ্যে।
সেন্ট ভিনসেন্টে সুপার এইটে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে জলদি সেমির ভেন্যু গায়ানায়
যেতে গিয়ে ফ্লাইট বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে আফগানদের। শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের
কারণ হিসেবে ক্লান্তিকে দায়ী করে ট্রট বলেন, ‘আমরা হোটেলে গিয়েছি রাত ৩টায়, সকাল ৮টায়
ফ্লাইট ধরেছি। কেউ ঘুমায়নি, সবাই ক্লান্ত ছিল। আমি আশা করি ছেলেরা এই অভিজ্ঞতা থেকে
শিখবে। আমরা ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ থেকে এটাতে একধাপ এগোলাম। এমন একটা পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার
মতো পেসারদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা হলো ব্যাটারদের। গত নভেম্বরে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ
থেকে একধাপ এগোতে পেরেছি আমরা। ব্যাপারটি হলো, প্রতিটি পদক্ষেপ ধরে এগোনোর। আশা করি,
আজকের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখতে পারব।’