টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ২১:২২ পিএম
এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন এই দক্ষিণ আফ্রিকা দুর্দান্ত। সংগৃহীত ছবি
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বৃষ্টি আইনের অদ্ভুত নিয়মের বলি। ১৯৯৬ সালে এক ব্রায়ান লারার হাতেই স্বপ্নের সমাধি। ১৯৯৯ সালে ল্যান্স ক্লুজনার আর অ্যালান ডোনাল্ডের ভুতুড়ে দৌড়! ২০০৩ বিশ্বকাপে নিজেদেরই অঙ্কের ভুল। দক্ষিণ আফ্রিকার না পাওয়ার গল্পটা দীর্ঘ, ইতিহাসটা কান্নার। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে তাদের সুযোগ সব আক্ষেপ মুছে ফেলার। তবে এত হতাশার গল্পের মাঝেও দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পাওয়ার গল্প আছে। সেই গল্পে নাম জড়িয়ে কিন্তু বাংলাদেশের। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ (পরে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) কিন্তু প্রোটিয়ারাই জিতেছিল। ঢাকা স্টেডিয়ামে সেদিনের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের কিংবদন্তি অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রনিয়ের দলের জেতা সেই ট্রফিটাই এখন পর্যন্ত প্রোটিয়াদের জাতীয় দলের বড় সাফল্য। কিন্তু সেটা ছিল মিনি বিশ্বকাপ। প্রথমে আইসিসি নকআউট ট্রফি নামে যার যাত্রা শুরু। পরবর্তীকালে সেটাই হয়েছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। কিন্তু মঞ্চটা যখন বিশ্বকাপ, দক্ষিণ আফ্রিকা তখন চোকার্স! ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে মোট সাতবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলে প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে প্রোটিয়ারা।
২০২৪ বিশ্বকাপে অবশ্য সেই অভিশাপ ঘুচিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার প্রথম সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৯ উইকেটের জয় পেয়েছে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা। একপেশে ম্যাচে আফগানদের হারিয়ে বার্বাডোজের ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। এমন জয়ের দিনে আলাদা করে আলোচনায় এসেছেন মার্করাম। বৈশ্বিক ইভেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকার এই অধিনায়ক এখনও পরাজয়ের তেতো স্বাদ পাননি! যুব বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপÑ সব মিলিয়ে ১৬ ম্যাচে অপরাজিত অধিনায়ক মার্করাম।
বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ মার্করাম খেলেন ২০১৪ সালে। সেবার ৬ ম্যাচের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছিল মার্করামের দক্ষিণ আফ্রিকা। অপরাজিত হয়েই যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে তারা। অধিনায়ক হিসেবে মার্করামকে এরপর দেখা গিয়েছে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে। টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বে ভারত বিশ্বকাপে পা রাখে প্রোটিয়ারা। কিন্তু মাঝপথে ইনজুরিতে আক্রান্ত হন বাভুমা। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব সামলান দুই ম্যাচে। আর দুটিতেই জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা।
মার্করামের অধিনায়কত্বের সর্বোচ্চ রূপ দেখা গেল এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। আট ম্যাচ খেলেছেন। সবকটিতেই জয়। অপরাজিত থেকেই দলকে তুলেছেন ফাইনালে। যার অর্থ, এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ১৬ ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে অপরাজিত মার্করাম। চলমান আসরে টানা ৮ ম্যাচ জিতে আরও কিছু কীর্তি নিজের করে নিয়েছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব এখন মার্করামের দলের। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসেও টানা জয়ের রেকর্ড তার নামের পাশে। এবার ফাইনাল জিতলে আরও এক রেকর্ড গড়বেন মার্করাম। এখন পর্যন্ত কোনো দলই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। মার্করামের সামনে এখন সেই রেকর্ডের হাতছানি।