দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম আফগানিস্তান
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ২১:২১ পিএম
ক্রিকেটে নামি দল দক্ষিণ আফ্রিকা।
আফগানিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাস দেশটির যাপিত জীবনের মতোইÑ দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর
পারাবার। তবে একটি জায়গায় ঠিকই মিলÑ এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক কোনো ইভেন্টের ফাইনাল খেলেনি
দুদল। নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এসেছে সেই সুবর্ণ সুযোগ। ফাইনালের মিশনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে দুদল। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে
সনি লাইভ ও নাগরিক টিভি।
ত্রিনিদাদের বায়ার্ন লারা স্টেডিয়ামে
মহারণের আগে দুদলের কোচ শুনিয়েছেন আত্মবিশ্বাসের গল্প। ভয়ডর ছাড়া খেলা উপহারের প্রতিশ্রুতি
দিয়েছেন আফগান কোচ জোনাথন ট্রট। ‘চোক’ করার ভয় নেই দক্ষিণ আফ্রিকারও। প্রোটিয়া কোচ
রব ওয়াল্টার বলছেন, এই দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যরকম। আসরজুড়ে সেটিরই প্রমাণ দিয়েছে এইডেন
মার্করাম ব্রিগেড। তবে স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে শেষাঙ্ক মেলাতে গিয়ে খেই হারানোর জুড়ি
মেলা বার প্রোটিয়াদের। আর বড় টুর্নামেন্টে প্রাণে নতুন শক্তির সঞ্চার হয় আফগানিস্তানের।
সংগ্রাম করে রশিদ খানদের শেষ
চার নিশ্চিত হলেও দাপুটে দক্ষিণ আফ্রিকা। অজেয় মার্করামের দল। সাত ম্যাচের সাতটিতেই
জয়। দুপক্ষের লড়াইয়েও সফল তারা। এখন পর্যন্ত আফগানদের বিপক্ষে দুবারের লড়াইয়ে সফল দ.
আফ্রিকা। তবে রোমাঞ্চকর সেমির আগে নিজেদের ‘ভয়ংকর’ দাবি করে আফগান কোচ ট্রট বলেছেন,
‘কোনো ক্ষতচিহ্ন বা ইতিহাস ছাড়াই সেমিফাইনালে যাচ্ছি। এটা আমাদের জন্য নতুন এক জায়গা।
আমরা সেমিফাইনাল খেলব, সবটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আগের কোনো ধারণা নেই, সেমিফাইনালে আগের
বছরগুলোতে সফলতা বা ব্যর্থতার কোনো ইতিহাস নেই। এটি নতুন এক চ্যালেঞ্জ, হারানোর কিছু
নেই, এটাই সেমিফাইনালে ভয়ংকর দল বানিয়েছে (আফগানিস্তানকে), অবশ্যই প্রতিপক্ষের ওপর
চাপ বেশি থাকবে।’
আইসিসি আয়োজিত টুর্নামেন্টগুলোর
মধ্যে শুধু ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিই জিততে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে তাদের
গল্প বেশ মর্মান্তিক। কখনও প্রকৃতির বাধা, কখনও স্নায়ুচাপে নিজেদের ভুলে বাদ পড়তে হয়েছে
তাদের। বড় টুর্নামেন্টে চোক করা ‘বদভ্যাসে’ পরিণত করেছে তারা। নক আউটে চোকের ইতিহাস
প্রোটিয়াদের সুদীর্ঘ। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হতাশা উপহার দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
২০০৩ সালেও ছিল একই চিত্র। তবে প্রোটিয়া কোচ ওয়াল্টার বেশ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠেই জানিয়ে
দিলেন, ‘অতীতের ভূত এই দলে নেই। দুঃসহ অতীতের ছায়া থেকে বেরিয়ে এই আসরের স্বস্তির আবেশ
মেখেই এগিয়ে যেতে চান তিনি। বলেছেন, ‘আগে যারা কাছাকাছি এসেও পারেনি, সেটার দায় ওই
মানুষগুলোরই। সত্যি বলতে, এই দক্ষিণ আফ্রিকা তো আলাদা দল। আমাদের যা কিছু আছে, সে সবই
শুধু আমাদের। আমরা তাকাব আমাদের নিকট অতীতের পারফরম্যান্সে, যেখানে আমরা বারবার উতরে
যেতে পেরেছি। সেমিতেও আমরা সেরকমই ভাবছি।’ সেমির আগে দলটির অধিনায়ক মার্করামও বলেছেন
সে কথা। সেমিতে চোক কিংবা স্পিনধাঁধায় পড়ার মতো জটিল অবস্থায় পড়তে চান না তিনি। তবে
মহারণে রূপ নিতে যাওয়া ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষকে একটা হুমকি দিয়েও রেখেছেন তিনি, ‘নিজেদের
সেরা ক্রিকেট ম্যাচটি এখনও খেলিনি আমরা। সেমিফাইনালে সেটি করার চেষ্টা করব।’
মার্করামের সেই হুমকি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে
কতদূর গড়াবে কিংবা আফগানদের রূপকথায় প্রোটিয়ারা ট্র্যাজেডি হবে কি না? সেই উত্তরের
অপেক্ষা বৃহস্পতিবার সকাল অবধি।