টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ১৬:৩২ পিএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪ ১৭:৪১ পিএম
ট্র্যাজেডি অথবা রূপকথাÑ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টের নাম যদি হয়
দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান, তবে এমন শব্দ দুটি কোনোভাবেই বাহুল্য নয়। ক্রিকেটে প্রোটিয়াদের
নামের পাশে চোকার্স দুর্নাম। স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে প্রায়ই শেষাঙ্ক মেলাতে অক্ষম দলটি।
আর বড় টুর্নামেন্টে প্রাণে নতুন শক্তির সঞ্চার হয় আফগানিস্তানের। নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও
সেটি দৃশ্যমান। আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্টে প্রথমবার সেমি নিশ্চিত করা দলটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার
লড়বে এইডেন মার্করামদের বিপক্ষে। ত্রিনিদাদের বায়ার্ন লারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময়
সকাল ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি লাইভ ও নাগরিক টিভি।
র্যাঙ্কিং ও ধারে-ভারে আফগানিস্তানের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে দক্ষিণ
আফ্রিকা। বিশ্বমঞ্চে অভিজ্ঞতার বিচারেও প্রোটিয়ারা যোজন এগিয়ে। যদিও খুব একটা মুখোমুখির
সুযোগ মেলেনি দুদলের। স্বল্প ফরম্যাটের ক্রিকেটে মাত্র দুবারই খেলে দুদল। শতভাগ জয়
প্রোটিয়াদের। নবম আসরেও সম-দাপট এইডেন মার্করামের দলের। সাত ম্যাচের সবকটিতে জয়। যদিও
বেশিরভাগ ম্যাচে ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ ওভার পর্যন্ত। আসরে কেবল সহজ জয়
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। নেদারল্যান্ডসের মতো দলও তাদের পরীক্ষা নিয়েছে। চাপের মুহূর্তে
কিংবা নকআউটে পরিণত হওয়া ম্যাচে প্রোটিয়ারা চোক করে বসত, এবার সেটির ছিটেফোঁটাও লক্ষ
করা যাচ্ছে না। বরং বিরুদ্ধস্রোতে দাঁড়িয়ে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। চলতি আসরে সাত
ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই শেষ ওভারে জিতেছেন মার্করামরা।
নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভযাত্রা আফগানিস্তানের। গ্রুপ
পর্বে চার ম্যাচের তিনটিতে জয়। সুপার এইটের ‘১’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে কাটে সেমির
টিকিট। শেষ আটে তিন ম্যাচের দুটিতে জয় পায় রশিদের দল। অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ছাড়াও গতকাল
মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিপক্ষে আট রানে জয় তুলে তারা। তাতেই প্রথমবার বৈশ্বিক কোনো ইভেন্টে
সেমিতে ওঠার গৌরভ অর্জন করে আফগানরা। এই জয়ের পর খেরো খাতায় আফগান রূপকথা লিখতে মরিয়া
রশিদরা। তবে নাজমুল হোসেনদের বিপক্ষে জয়ের আনন্দ উপভোগের ৪৮ ঘণ্টাও সুযোগ পাচ্ছেন না
মোহাম্মদ নবি-নূররা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডু অর ডাই ম্যাচে নামতে হচ্ছে তাদের।
ম্যাচটিতে স্পিনে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয় ধরা দেয় তবে মুহূর্তটা
কেমন দাঁড়াবে আফগানদের জন্য। সেমির আগে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে রশিদ বলেছেন,
‘দেশে ব্যাপক উদযাপন হবে। আমাদের জন্যও এটা বড় অর্জন। আমরা অনূর্ধ্ব–১৯
বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলেছিলাম, দেশে এখন কী অবস্থা সেটা বোঝানোর ভাষা নেই। সেমিতে
আমাদের পরিষ্কার চিন্তাভাবনা নিয়ে যেতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে আমরা যেন মঞ্চটা উদযাপন
করি।’
আফগানদের মুখোমুখির আগে বেশ সতর্ক প্রোটিয়ারা। বিশেষ করে স্পিনে দুর্বলতার
কারণে সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছিল তাদের। ক্যারিবিয়ান অফস্পিনার
রোস্টন চেজকে মারতে গিয়ে আউট হন ডেভিড মিলার, ট্রিস্টান স্টাবস ও কেশব মহারাজ। সেমির
আগে মার্করাম বলেছেন, ‘আশা করি সামনে এমন জটিল অবস্থায় পড়ব না। ক্যারিবিয়ানদের ম্যাচে
শেখার ব্যাপার আছে। আশা করি (ভুলের) পুনরাবৃত্তি করব না।’ তবে মহারণে রূপ নিতে যাওয়া
ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষকে একটা হুমকি দিয়েও রেখেছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক, ‘নিজেদের সেরা
ক্রিকেট ম্যাচটি এখনও খেলিনি। সেমিফাইনালে সেটি করার চেষ্টা করব।’
মার্করামের সেই হুমকি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে কতদূর গড়াবে কিংবা আফগানদের
রূপকথায় প্রোটিয়ারা ট্র্যাজেডি হবে কি না? সেই উত্তরের অপেক্ষা বৃহস্পতিবার সকাল অবধি।