প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ০০:১৭ এএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪ ০০:২৩ এএম
সতীর্থদের সঙ্গে রশিদ খানের উদযাপন
আফগানিস্তান সেমিফাইনালে খেলবেÑ এমনটা ভাবার লোক খুব কমই ছিল। বরং গ্রুপ পর্ব থেকে আফগানরা বিদায় নেবে। এমন ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করার মতো লোকের অভাব ছিল না। তার বড় কারণ এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড। ক্যারিবীয় ও প্রোটিয়াদের পক্ষেই বাজি ধরার পাল্লাটা ভারী ছিল বেশি। ক্রিকেট দুনিয়ার ধারণা মিথ্যা প্রমাণকে ফেভারিট নিউজিল্যান্ডকে ছিটকে দিয়ে আফগানরা পেরিয়ে যায় গ্রুপ পর্বের বৈতরণী।
রশিদ খানরা সেরা আটে জায়গা করে নিতেই ক্রিকেট অনুরাগী আর বিশ্লেষকরা পুরোনো ধারণাতে ফিরে যায়। সবাই মিলে সেরা আটেই আফগানদের বিশ্বকাপ মিশনের শেষ দেখে ফেলেন। এবার তাদের সামনে বাধা ছিল ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দল। গ্রুপ পর্বে কিউইদের বিদায়ের পর এবার সুপার এইটে হট ফেভারিট অস্ট্রেলিয়াকে গুডবাই জানিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি।
কিন্তু বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আগে থেকেই কেবল একজন রশিদ খানদের সেমিফাইনালে খেলা নিয়ে বাজি ধরেছিলেন। আফগানদের শেষ চারে দেখতে পেয়েছিলেন ব্রায়ান লারা, ‘আফগানিস্তান, তারা শেষ চারে ওঠার সামর্থ্য রাখে।’ ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করে ঠিকই সেরা চারে নিজেদের নাম লিখেছে আফগানরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং গ্রেটের ভবিষ্যদ্বাণী নির্ভুল প্রমাণ করতে পেরে গর্বিত আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান।
কাপ্তান রশিদ খান গর্ব নিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা একজন ব্যক্তিকে সঠিক প্রমাণ করতে পেরেছিÑ ব্রায়ান লারা, একমাত্র ব্যক্তি যিনি সেরা চার, সেমিফাইনালে ওঠা দলের তালিকায় আফগানিস্তানের নাম উল্লেখ করেছিলেন। অভ্যর্থনা পার্টিতে যখন তার সঙ্গে আমাদের দেখা হলো, তখন আমরা তাকে বলেছিলাম, আমরা আপনাকে সঠিক প্রমাণ করতে চাই।’
লিজেন্ড লারার ভবিষ্যদ্বাণী আফগানদের রীতিমতো তাতিয়ে দিয়েছিল। এ নিয়ে রশিদের ভাষ্য, ‘একজন লিজেন্ড যখন আপনাকে নিয়ে এই ধরনের দারুণ বক্তব্য দেবেন, তখন একটি দল হিসেবে আমি মনে করি সেটা আপনাকে অনেক শক্তি দেবে।’
কুড়ি কুড়ির বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছে আফগানিস্তান। দলের এমন অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক সাফল্য দেশের তরুণদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে বলে রশিদের দৃঢ় বিশ্বাস, ‘আমি মনে করি সেমিফাইনাল হতে যাচ্ছে দেশের তরুণদের জন্য বিশাল, বিশাল অনুপ্রেরণার। আফগানিস্তান দল প্রথমবার সেমিতে। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে আমরা সেমিফাইনালে খেলেছি, কিন্তু এই পর্যায়ে আমরা কখনও সেটা করিনি। এমনকি সুপার এইটে খেলাও ছিল আমাদের জন্য প্রথম, তারপর সেমি। এটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি।’
এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে আফগানদের জয় ৫টি। এক আসরে তাদের সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ড এটি। ২০১৬ সালে ৭ ম্যাচে ৪টি জিতেছিল তারা। তবে ওই আসরে সুপার টেন থেকে পরের রাউন্ডে উঠতে পারেনি। পাঁচ দলের গ্রুপে তলানিতে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করেছিল তারা। সেই দারুণ পারফরম্যান্সের প্রায় ৮ বছর পর সেমিফাইনালে উঠে সংবাদ সম্মেলনে রশিদ জানালেন, উপযুক্ত দল হিসেবেই শেষ চারের মঞ্চে তারা জায়গা নিয়েছেন।
রশিদ বলেন, শেষ চারের টিকিট তাদের প্রাপ্যই ছিল, ‘আমি আসলে জানি না, কীভাবে অনুভূতি প্রকাশ করব। সেমিফাইনালে ওঠা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন। এখনও পর্যন্ত যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে আমরা খেলেছি, আমার মতে, সেমিফাইনালে খেলাটা আমাদের প্রাপ্যই। যেভাবে সবাই দায়িত্ব নিয়েছে এবং দলের জন্য সেরাটা দিয়ে পারফর্ম করেছে। জাতি হিসেবে আমাদের জন্য বিশাল অর্জন। এখন সেমির দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’