টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৪ ১৪:২৯ পিএম
খেলাধুলায় বিশেষ করে ক্রিকেটে ‘হোম গ্রাউন্ড অ্যাডভান্টেজ’ কথাটি খুবই প্রচলিত। সহজ কথায়, ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ সাফল্য তুলে নেওয়া। কিন্তু এই প্রচলিত ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই চলেছে টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ঘরের মাঠ হয়ে উঠেছে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’। এই ফরম্যাটে কোনো বিশ্বকাপ আয়োজক দেশই আজ পর্যন্ত নাগাল পায়নি শিরোপার। শুধু এখানেই শেষ নয়। দুদুবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড ঘরের মাঠে উঠতে পারেনি ফাইনালেও। ক্রিকেটের দুই পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া ও ভারত ঘরের উঠোনে ঝরে গেছে ফাইনালের আগেই। ঐতিহাসিক দুঃস্বপ্নের বলি হয়েছে এবারের আয়োজকরাও। গ্রুপ পর্বে ঝড় তোলা যুক্তরাষ্ট্র অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে সুপার এইট পর্বে। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজও ছিটকে গেছে সেমিফাইনালের রেস থেকে।
‘সি’ গ্রুপে চার ম্যাচের সবগুলো জিতে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সুপার এইটে জায়গা করে নেয় স্বাগতিক ক্যারিবীয়রা। গ্রুপ পর্বে সেই পুরোনো সময়কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জোড়া ট্রফিজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু সুপার এইটে তিন ম্যাচের দুটিতে হেরে সেমির আগেই বিদায়ঘণ্টা বাজল স্বাগতিক ক্যারিবীয়দের। ইংল্যান্ড ছাড়াও তারা হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে চমক দেখানো নাম ছিল যুক্তরাষ্ট্র। বড় দলগুলোর ঘাম ছুটিয়ে তারা উঠে আসে সেরা আটে। গ্রুপ পর্বে তারা সুপার ওভারের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে হারায় ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত শক্তি পাকিস্তানকে। কিন্তু সেরা আট পর্বে বায়ুশূন্য বেলুনের মতো চুপসে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। হেরেছে তিন ম্যাচেই।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুধু দুবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব আছে ইংল্যান্ড আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েই ছুটছিল স্বাগতিক ক্যারিবীয়রা। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারল না তারা। ডু অর ডাই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩ উইকেটের ব্যবধানে হেরে সেমির মঞ্চে জায়গা করে নিতে পারেনি অন্যতম আয়োজক ক্যারিবীয়রা। দলটির অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল বলেছেন, আমরা বিশ্বকাপ জিতিনি, এমনকি সেমিফাইনালেও উঠিনি। তবে গত এক বছর ধরে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে। উইন্ডিজ ক্রিকেট ঘিরে আবার অনেক উত্তেজনা ফিরে এসেছে। গত এক বছরে দারুণ কিছু আমরা করতে পেরেছি। র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর থেকে ৩ নম্বরে উঠে এসেছি।’
ক্রিকেটের ছোট সংস্করণের এই বিশ্বকাপে আয়োজকদের দুঃস্বপ্নের শুরু প্রথম আসর থেকেই। ২০০৭ সালের ওই আসরে সেমিফাইনালেও পৌঁছাতে পারেনি স্বাগতিক প্রোটিয়ারা। তাদের বিদায়ঘণ্টা বাজে সুপার এইট পর্ব থেকেই। শেষ চারের টিকিট পায় ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। পরের আসর অর্থাৎ ২০০৯ সালের টুর্নামেন্টে শেষ চারে জায়গা করে নিতে পারেনি স্বাগতিক ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের পেছনে ফেলে সেমির মঞ্চে উঠে আসে পাকিস্তান , শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বলা বাহুল্য, প্রথম দুটো আসরের চ্যাম্পিয়ন যথাক্রমে ভারত ও পাকিস্তান।
তৃতীয় আসরের আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ পা রাখতে পারেনি সেমির মঞ্চেই। ২০১০ সালের এই টুর্নামেন্টে ক্যারিবীয়রা বিদায় নেয় সুপার এইট পর্বেই। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথম কোনো বৈশ্বিক আসরে শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড। ২০১২ সালে স্বাগতিক দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখায় শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শিরোপার স্পর্শ পায়নি কুমারা সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, তিলকারত্নে দিলশান, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, অজন্তা মেন্ডিস, লাসিথ মালিঙ্গার মতো তারকাঠাসা লঙ্কানরা। স্বাগতিকদের হারিয়ে শিরোপা উৎসব করে ক্যারিবীয়রা।
পঞ্চম অর্থাৎ ২০১৪ সালের টুর্নামেন্টটি স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্নের নাম। বাছাই পর্বে হংকংয়ের কাছে ২ উইকেটের ব্যবধানে হারের লজ্জায় ডোবে টাইগাররা। তবে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। আর মূল পর্বে চার ম্যাচেই বড় হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। ঘরের মাঠে ভারত সব সময়ই বাঘ। কিন্তু ২০১৬ সালের টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিড়াল বনে যায় স্বাগতিক ভারতও। সেমির লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৭ উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। পরের আসর ২০২১ সালে যৌথ আয়োজক ক্রিকেটের পিছিয়ে থাকা জনপদ আরব আমিরাত ও ওমান। আর তাই এখানে হোম গ্রাউন্ড বিষয়টা প্রযোজ্য নয়। কেননা মূল পর্বেই জায়গা হয়নি তাদের। এরপর ২০২২ সালের আসরে ঘরের দর্শকদের সামনে হতাশায় ডোবে অস্ট্রেলিয়া। পৌঁছাতে পারেনি সেমিফাইনালেই। অজি দর্শকদের জলুনি বাড়িয়ে ক্রিকেটের তীর্থস্থান মেলবোর্ন মাঠে শিরোপা উৎসব করে ইংলিশরা।
ক্রীড়াঙ্গনে সব টুর্নামেন্টে ঘরের মাঠ বড় প্রেরণা হলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজকদের জন্য হয়ে উঠেছে এক সাক্ষাৎ মৃত্যুফাঁদ। এবার সেই ফাঁদে আটকে পড়ল গ্রুপ পর্বে স্বপ্নের মতো শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র।