প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৪ ২০:৩৭ পিএম
আফগানিস্তানে মানবাধিকার ও নারী স্বাধীনতা নেইÑ এমন অভিযোগে রশিদ
খানদের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না অস্ট্রেলিয়া। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জল ঘোলা
হচ্ছে। পক্ষে-বিপক্ষে মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। এসবে থোড়াই কেয়ার অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড।
যদিও আফগান বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইসিসির বৈশ্বিক ইভেন্টে দুদল মুখোমুখি হতে
পারলে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনে বাধা কোথায়। নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলোচনা হচ্ছে
দুদেশের বৈরিতার বিষয়টি। অজি ব্যাটার উসমান খাজাও মনে করেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে
দ্বিপাক্ষিক সিরিজে খেলা উচিত অস্ট্রেলিয়ার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে মিচেল মার্শদের বিপক্ষে ২১ রানে
জয় পান রশিদ খানরা। অজিদের হারিয়ে শেষ চারের আশা উজ্জ্বল হয়েছে আফগানদের। গত ওয়ানডে
বিশ্বকাপে প্যাট কামিন্সদের কাছে ধরাশায়ী হয়ে সেমির স্বপ্ন চুরমার হয় রশিদদের। এবার
সেটি হতে দেয়নি রশিদ ব্রিগেড। আফগানদের বীরত্বের প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত
খাজা। তিনি বলেছেন, ‘ভাইয়েরা খুবই ভালো খেলেছ। তোমরা ভালো দল হিসেবে জয় পেয়েছ। তোমরা
তোমাদের দেশের বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা। যে আফগানরা অন্য দেশে থাকেন তাদের কাছেও
তোমরা অনুপ্রেরণা। দুঃখের বিষয় হলো, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তোমাদের সবাইকে একসঙ্গে খেলতে
দেখার সুযোগ পাই না আমরা।’
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট ছাড়াও গণমাধ্যমে আফগান-অস্ট্রেলিয়া বোর্ডের
দ্বন্দ্ব নিয়ে কথা বলেছেন খাজা। গতকাল সোমবার নাইন নিউজ পেপারে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ
করেছেন তিনি। তার মতে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে অবশ্যই খেলা উচিত অস্ট্রেলিয়ার। ৩৭ বছর
বয়সি খাজা বলেছেন, ‘আমি অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
করি। দ্বিতীয়বারের মতো আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল করেছে অজি ক্রিকেট
বোর্ড। এ নিয়ে আমি রশিদ খানের সঙ্গে কথা বলেছি। সে খুবই হতাশ এ ব্যাপারে। কারণ, তার
দেশের মানুষ ক্রিকেট ভালোবাসে। সুখ খোঁজার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে তারা ক্রিকেটকেই বেছে
নেয়। আগে অস্ট্রেলিয়াতে আফগানিস্তানের অনেক ট্যুর থাকত। এখন সেটি হয় না। মূলত সরকারের
(আফগান) কারণে জনগণ এটার কারণে বঞ্চিত।’
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হলেও আইসিসি ইভেন্টের পাশাপাশি বিগ ব্যাশে খেলে
থাকেন আফগানিস্তানের বেশ কজন ক্রিকেটার। খাজার মতে, এটি ভণ্ডামি হবে যদি আপনি বলে থাকেন
আফগানিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলবেন না। কারণ দলটির বেশ কজন ক্রিকেটার বিবিএলে নিয়মিত
খেলে থাকেন।’
আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের উচ্ছ্বাসের
কিছু ছবি পোস্ট করেছিলেন অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর। অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে কিছু বার্তাও
দিয়েছিলেন, ‘আমরা ক্রীড়াবিদ। খেলাধুলা ভালোবাসি। দেশের মানুষও খেলাধুলা ভালোবাসে।
দেশের মানুষের কাছে ক্রিকেটই সুখের একমাত্র উৎস। একমাত্র খেলা, যেটা নিয়ে আফগানিস্তানের
মানুষ উৎসব করতে পারে। যদি সেই সুখটাকেও আমরা কেড়ে নিই, তাহলে জানি না আফগানিস্তানের
জন্য আর কী পড়ে থাকবে। আমাদের সুখের একমাত্র উৎসটাকেও যদি আপনারা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা
করেন, তাহলে আমাদের জন্য সেটা খুব দুঃখের ব্যাপার।’