ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৪ ১৩:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪ ১৬:৪১ পিএম
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো গোল পাননি, তবে রেকর্ড সেই অপেক্ষায় থাকেনি৷ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে তুরস্কের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দুটি নতুন রেকর্ডের সাক্ষী হয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। রোনালদোর রেকর্ড গড়া দিনে জিতেছে তার দলও। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোও।
শনিবার (২২ জুন) রাতে ডর্টমুন্ডে তুরস্ককে ৩-০ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ইউরোর শেষ ষোলোয় নাম লিখিয়েছে ২০১৬ আসরের চ্যাম্পিয়নরা। বের্নার্দো সিলভা ও ব্রুনো ফার্নান্দেজ একটি করে গোল করেন। বাকিটা আত্মঘাতী।
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক আগেই ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইউরোর সবচেয়ে বেশি আসরে অংশগ্রহণের রেকর্ডও গত ম্যাচে নিজের করে নেন। এবার রোনালদো আরও একটা রেকর্ডে ছাপিয়ে গেলেন সবাইকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই এদিন ব্যাস্ত ছিলেন রোনালদো। তুরস্কের গোলমুখে প্রথম শটটাও নেন তিনিই। দ্বিতীয় মিনিটে নেওয়া সেই শট অবশ্য তুরস্ক গোলকিপার আতলাই বায়িন্দির সহজেই আটকে দেন। অষ্টম মিনিটে রোনালদোর নেতা হেডও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচে পর্তুগাল কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ২১ মিনিটে। নুনো মেন্ডেসের বাড়ানো বল ধরে সহজেই জালে জড়ান বের্নার্দো সিলভা। দ্বিতীয় গোল পেতেও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি পর্তুগালকে। সাত মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। তবে এ গোলটা আসে আত্মঘাতী থেকে।
প্রথমার্ধে আর কোনো গোল আসেনি। তুরস্ক পারেনি তেমন কোনো সুযোগ বের করতে। তবে প্রথমার্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা পর্তুগাল তৃতীয় গোলটি পেয়ে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। ৫৫তম মিনিটে গোলটা আসে রোনালদোর সহায়তায়।
ব্রুনোর কাছে থেকে যখন রোনালদো বল পান তখন সামনে শুধুই গোলরক্ষক। কিন্তু নিজে চেষ্টা না করে রোনালদো পাস বাড়ান অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ব্রুনোকে। হালকা করে বল জালে ঠেলে দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক।
আর এতেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান রোনালদো। যা ইউরোতে রোনালদোর সপ্তম অ্যাসিস্ট। ১৯৮০ সাল থেকে সংরক্ষিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি গোলে সহায়তার রেকর্ড নেই আর কারোরই। ৬ অ্যাসিস্টে এতদিন রেকর্ডটি এককভাবে ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের সাবেক উইঙ্গার কারেল পোবোর্স্কির।
শেষ সময়ে আর কোনো গোল না হলে শেষ ষোলোর টিকিট নিয়েই মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল। ২ ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বে এসেছে তারা। তবে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোর সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছে তুরস্কও।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রোনালদো, ‘দারুণ দ্রুততায় প্রথম স্থান নিশ্চিত আমাদের। এই দলের জন্য গর্বিত, আমরা পর্তুগাল।'
প্রথম ম্যাচে কোনোরকমে জয়ের পর যখন পর্তুগালের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা সমালোচনা ছিল, কোচ মার্তিনেজ তখনও বলেছিলেন যে, তার দল যথেষ্টই ভালো খেলেছে। স্রেফ দ্রুত গোল করতে না পারা নিয়ে আক্ষেপ ছিল তার। তুরস্কের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরিই সন্তুষ্ট কোচ, ‘আমার মনে হয়, আমাদের খেলা প্রথম ম্যাচের পর্যায়েই ছিল এবং এ পর্যায়টা ধরে রাখা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। পার্থক্য ছিল, আজকে আমরা দ্রুত গোল করতে পেরেছি এবং এটা আমাদের আরও শান্তিতে ও স্বস্তিতে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।’