প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৪ ২৩:১৪ পিএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৪ ২৩:১৮ পিএম
প্যাট কামিন্স
কুড়ি ওভারের বিশ্বমঞ্চে প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা মিলেছিল ২০০৭ সালে; দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের প্রথম বৈশ্বিক আসরে। ওই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর উল্লাসে মেতেছিলেন ব্রেট লি। অস্ট্রেলিয়ান এ কিংবদন্তি পেসার সেদিন টানা তিন বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও অলোক কাপালিকে।
বুঝতে বাকি নেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে ব্রেট লি হ্যাটট্রিক হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। কেপটাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৭তম ওভারে সেই দুরন্ত পারফরম্যান্সে টাইগারদের ধসিয়ে দিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছিলেন ব্রেট লি।
দেখতে দেখতে মাঝে কেটে গেছে ১৭টি বছর। কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের দেখা মেলেছে আরও পাঁচটি। কিন্তু তাদের মধ্যে ছিলেন না কোনো অস্ট্রেলিয়ান বোলার। এবারের টি-টোয়েন্টির মহাযজ্ঞে এসে নিজ দেশের সেই খরাটা কাটালেন প্যাট কামিন্স। তার মানে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বোলার হিসেবে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন তারকা এ পেসার।
আজ শুক্রবার সকালে নর্থ সাউন্ডের স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের কীর্তিটা গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে কাপ্তান কামিন্স। এবারের টোয়েন্টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই প্রথম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড।
অ্যান্টিগার মাঠে কামিন্সের হ্যাটট্রিক পারফরম্যান্সের শুরু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে দিয়ে। বাংলাদেশের ইনিংসের ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে মাহমুদউল্লাহর উইকেট ভেঙে দেন কামিন্স। পরের বলেই নতুন ব্যাটার শেখ মাহেদী হাসান ডাক মারেন। কামিন্সের বল উড়িয়ে বাউন্ডারি পার করতে গিয়ে ডিপ থার্ডম্যান অঞ্চলে অ্যাডাম জাম্পার তালুবন্দি হন মাহেদী।
প্রথম বলেই নেন বিদায় মাহেদী। এক ওভার বিরতি দিয়ে ফের বল হাতে নেন কামিন্স। ইনিংসের শেষ ওভারে (২০তম ওভার) প্রথম বলেই তাওহিদ হৃদয়কে জশ হ্যাজলউডের হাতে ক্যাচ বানিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এক দিনের বিশ্বকাপজয়ী ক্যাপ্টেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কামিন্সের ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক এটি। অস্ট্রেলিয়ার এ পেসারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও এটি প্রথম হ্যাটট্রিক। চতুর্থ অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক পেলেন কামিন্স।
এ সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের চারটি হ্যাটট্রিকের তিনটিই হলো বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কেপটাউনে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার লি। সেটি কিন্তু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেরই প্রথম হ্যাটট্রিকের মাইলফলক।
২০২০ সালে জোহানেসবার্গে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগার। পরের বছর মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন পেসার নাথান এলিস।
এরপর আজ সেই তালিকায় নাম লেখালেন কামিন্স। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা প্রথম হ্যাটট্রিক পাওয়ার পর দ্বিতীয়টির দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ১৩ বছর। এরপর দ্রুতই আরও দুটি হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কামিন্সের এ অর্জন সপ্তম হ্যাটট্রিকের কীর্তি। কামিন্সের আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের স্বাদ নেন ব্রেট লি (২০০৭), কার্টিস ক্যাম্ফার (২০২১), ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (২০২১), কাগিসো রাবাদা (২০২১), কার্তিক মায়াপ্পন (২০২২) ও জশ লিটল (২০২২)।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে বাংলাদেশের বিপক্ষে আজ কামিন্স পেস তোপ দাগিয়ে ৪ ওভারে ২৯ রান খরচ করে শিকার করেন ৩ উইকেট। তার আগুনে বোলিংয়ে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডিএলএস মেথডে অস্ট্রেলিয়া জেতে ২৮ রানে। এ নিয়ে সাদা বলের বিশ্বকাপে তার উইকেট প্রাপ্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫৪-এ।