প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৪ ১৯:৪২ পিএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৪ ১৯:৫০ পিএম
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সংগৃহীত ছবি
নীরবে, নিভৃতে এক লড়াকু ক্রিকেটারের প্রতিচ্ছবি বলা হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। অনেকে তাকে বেশি চেনে ‘সাইলেন্ট কিলার’ নামে। বাংলাদেশের হয়ে অসংখ্য ম্যাচের জয়ের নায়ক সেভাবে কখনোই আলোয় আসতে পারেননি। যে কারণে তার নামের পাশে যুক্ত হয় সাইলেন্ট শব্দটি। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নামের পাশে জুড়িয়েছেন অনেক কীর্তি। ভক্তদের প্রশংসার পাত্রও হয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। কিন্তু এবার এক অদ্ভুত কীর্তির সঙ্গেই নাম জড়িয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ে ছয়বার প্রতিপক্ষ বোলারের হ্যাটট্রিকের অংশ হলেন মাহমুদউল্লাহ। বলা ভালো, তিনি সবচেয়ে দুর্ভাগা। ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে মাহমুদউল্লাহই যে সবচেয়ে বেশিবার হ্যাটট্রিকের অংশ হয়েছেন।
শুক্রবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামের এই খেলায় অজিদের বিপক্ষে ডিএলএস পদ্ধতিতে ২৮ রানে হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন অজি পেসার প্যাট কামিন্স। ১৮তম ওভারের শেষ দুই বল ও ২০তম ওভারের প্রথম বলে উইকেট নেন কামিন্স, যা এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক।

কামিন্সের টানা তিন বলে উইকেট নেওয়ার পথে প্রথম শিকার মাহমুদউল্লাহ। ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলে এই পেসারের অফস্টাম্পের বাইরের বল পুল করতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ বল টেনে আনেন স্টাম্পে। কামিন্সের পরের দুই বলের শিকার শেখ মাহেদী হাসান ও তাওহিদ হৃদয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ নিয়ে ষষ্ঠবার হ্যাটট্রিকের অংশ হলেন মাহমুদউল্লাহ। আর কোনো ব্যাটারকেই এমন দুর্ভাগ্যের মুখোমুখি হতে হয়নি। টি-টোয়েন্টিতে তিনবার, ওয়ানডেতে দুবার ও টেস্টে একবার।
মাহমুদউল্লাহর এই দুর্ভাগ্যের শুরু ২০১৫ সালে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ছিল সেটি। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা অভিষিক্ত প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদার তৃতীয় শিকার ছিলেন তিনি।
তিন বছর পর ২০১৮ সালে ওই একই স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আবারও একই দুর্ভাগ্যের শিকার হন মাহমুদউল্লাহ। লঙ্কান পেসার দিলশান মাদুশঙ্কার তুলে নেওয়া হ্যাটট্রিকে শেষ উইকেটটি ছিলেন রিয়াদ। ওয়ানডেতে দুবার হ্যাটট্রিকের অংশ হওয়ার পর টেস্টে একই দুর্ভাগ্যের শিকার হন মাহমুদউল্লাহ। ২০২০ সালে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানি পেসার নাসিম শাহর হ্যাটট্রিকে শেষ উইকেটটি ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ওয়ানডে ও টেস্টে তিনবার হ্যাটট্রিকের অংশ হওয়ার পথে প্রতিবারই শেষ উইকেট ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে অস্ট্রেলিয়া। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজে তৃতীয় ম্যাচে ইনিংসের শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করেন অজি পেসার নাথান এলিস। সেবার এলিসের প্রথম উইকেটটি ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। চলতি বছর একই সংস্করণে দুবার হ্যাটট্রিকের অংশ হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। মার্চে সিলেটে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন শ্রীলঙ্কার পেসার নুয়ান তুসারা।
সে পর্যন্ত মোট পাঁচবার হ্যাটট্রিকের অংশ হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তাতে রেকর্ডটি আগেই গড়া হয়ে গিয়েছিল। তিন সংস্করণ মিলিয়ে আর কোনো ব্যাটার যে তিনবারের বেশি হ্যাটট্রিকের অংশ হননি। কিন্তু আজ ষষ্ঠবারের মতো হ্যাটট্রিকের অংশ হতে হলো তাকে।