রুবেল রেহান
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪ ১৭:৩৭ পিএম
বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে পরাজয়ে মারকাটারি আসরে আবারও পা হড়কানোর শঙ্কা ছিল। তবে ব্যাট হাতে সাকিব আল হাসানের অপরাজিত ফিফটি এবং বোলিংয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেনের দারুণ পারফরম্যান্সে জয় ছিনিয়ে নেয় নাজমুল হোসেন শান্ত ব্রিগেড। এই ম্যাচের গল্প থাকছে পাঁচ পয়েন্টে।
এবারই প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছেন আরিয়ান দত্ত। এর আগে সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছেন। ভারতের মাটিতে সফলেই ছিলেন নেদারল্যান্ডসের এই অফস্পিনার। বিশ্বমঞ্চের সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন শর্টার ফরম্যাটের এবারের আসরে। নতুন বল হাতে নিলেই উইকেটের দেখা পাচ্ছেন ২১ বছর বয়সী স্পিনার। বৃহস্পতিবারও নিজের প্রথম ওভারে আউট করেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে। দ্বিতীয় ওভারে এসেও পান আরেক উইকেট। এবার তার শিকার লিটন দাস। ২৩ রানে দুই উইকেট তুলে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নিজের কোটা শেষ করেছেন ৪-০-১৭-২।

দ্রুতই দুই উইকেট হারানোর পর আশ্চার্যজনকভাবে বদলে যায় বাংলাদেশ। নিজেদের ব্রান্ডের ক্রিকেটের বাইরে গিয়ে পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নেয় টাইগাররা। সাকিব আল হাসান এবং তরুণ তানজিদ হাসান তামিম ৫.২ ওভারে যোগ করেন ৪৮ রান। পাওয়ারপ্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোর দাড়ায় ৫৪/২। এর মধ্যে দুটি ওভার থেকেই আসে ৩৭ রান। এর মধ্যে ভিভ কিংমার করা তৃতীয় ওভারে ১৮ এবং ফন বিকের করা ষষ্ঠ ওভারে এই দুই ব্যাটার যোগ করেন আরও ১৯ রান।

পাল্টা আক্রমণের পর নবম ওভারে বিদায় নেন তানজিদ। কিন্তু একপ্রান্তে সাকিব ছিলেন অবিচল। ৬২ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশকে এনে দেন লড়াই করার মতো পুজি। অথচ এই ম্যাচের আগে ২০ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে ফিফটির দেখাও পাননি এই বাঁহাতি। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আবার ফিফটির দেখা পেলেন সাকিব।
নেদারল্যান্ডের দুই ওপেনারই কিছুটা সহজে বিদায় নেন। তবে ডাচদের মিডল অর্ডার এদিন ছিল দারুণ। বিক্রমজিৎ সিংয়ের ১৬ বলে ২৬, সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট ২২ বলে ৩৩ এবং স্কট এডওয়ার্ডস ২৩ বলে ২৫ করে বাংলাদেশকে বেকায়দায় ফেলে দেন। এই তিনজন যোগ করেন ৮৪ রান। ১৪ ওভার শেষে তাদের স্কোর হয়ে যায় ১০৪/৩। শেষ ৬ ওভারে জয়ের জন্য ডাচদের প্রয়োজন ছিল ৫৬ রান। ম্যাচের পরিস্থিতিতে তখন পাল্লা ভারি ছিল তাদের পক্ষেই।

ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন। এই জুটির বোলিংয়ে পিছিয়ে পড়ে ডাচরা। বলা ভালো ম্যাচ থেকেই নেদারল্যান্ডসকে ছিটকে দেন দুজনে মিলে। শেষ ৮ ওভারের মধ্যে ৪ ওভার বোলিং করেন মোস্তাফিজ ও রিশাদ। সম্মিলিতভাবে ওই চার ওভারে দুজনে তুলে নেন ৪ উইকেট। দুজনে রানও দিয়েছেন কম, মাত্র ১৮ রান। ১৫তম ওভারে রিশাদের জোড়া শিকারে ডাচদের পতন শুরু। এরপর ১৭তম ওভারে ফিজের স্রেফ এক রান দেওয়া। ওই ওভারে তিনি তুলে নেন অধিনায়ক এডওয়ার্ডসকে। টাইগারদের জয়ও তখন নিশ্চিত হয়ে যায়।