প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪ ০৮:৩৫ এএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪ ১১:৪৬ এএম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসরের আয়োজক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র। ক্যারিবীয় অঞ্চলে এর আগে খেলা হলেও মার্কিন মুলুকে এবারই প্রথম আয়োজিত হচ্ছে ক্রিকেটের বৈশ্বিক ইভেন্ট। দেশটির ফ্লোরিডা, টেক্সাস ও নিউইয়র্কে বসেছে ক্রিকেটের মেলা। অবশ্য বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে নিউইয়র্কের পিচ নিয়ে। রাজ্যটির ইস্ট মিডো অঞ্চলে আইজেনহাওয়ার পার্কের অংশ হয়েছিল নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়াম। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ম্যাচ শেষেই ভেঙে ফেলা শুরু হয়েছে অস্থায়ী এই স্টেডিয়ামটি।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নাসাউ স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। ২ জুন মারকাটারি এই আসর শুরুর আগেই পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যায় স্টেডিয়ামটি। আইজেনহাওয়ার পার্কের একটি অংশে মাত্র ১০৬ দিনের ব্যবধানে অস্থায়ী স্টেডিয়ামটি বানানো হয়েছিল। এবার কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপে শেষ হয়েছে নিউইয়র্ক পর্বের খেলা। এখন বিভিন্ন সংযুক্তি খুলে ও কিছু স্থাপনা ভেঙে সেগুলো সরিয়ে নিতে প্রায় ৬ সপ্তাহ মানে ৪২ দিন সময় লাগবে। ফলে আবার প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে সেই পার্কটি।
এটিকে অনেকেই বলছেন ক্রিকেটের প্রথম ‘মডিউলার’ স্টেডিয়াম। স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি স্থাপনা, যা চাইলেই স্থানান্তর করা যায়। অর্থাৎ স্থাপনার সংযুক্তিগুলো খুলে ও বুলডোজারের মাধ্যমে ভাঙা অংশগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্টেডিয়ামের পাশে প্রচুর বুলডোজার দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। ৩৪ হাজার আসনের এ স্টেডিয়াম ভেঙে ফেলার কার্যক্রম ম্যাচ শেষেই শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এ স্টেডিয়ামে ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সেখানে লোকজনের অবাধ যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। স্টেডিয়ামের স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর আবার সেখানে সাধারণ মানুষ অবাধে যাতায়াত করতে পারবেন। তবে স্টেডিয়াম যেখানে বানানো হয়েছিল, সেই জায়গাটি কর্দমাক্ত, ঘাস ও বালুতে ভরপুর। তবে মাঠের ড্রপ-ইন উইকেটের কী হবে, সে ব্যাপারে এখনও কেউ জানাতে পারেননি। আইসিসির মতে, উইকেটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। আইসিসির এক কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে বলেন, ‘তারা চাইলে এটি (উইকেট) নিজেদের তত্ত্বাবধানে রেখে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে।’ কিন্তু স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ রাজি না হলে ড্রপ-ইন উইকেট অন্যত্র স্থানান্তর করবে আইসিসি।
মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) কিছু ম্যাচ এই স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে বলে এর আগে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এমএলসি কর্তৃপক্ষ এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সেখানে খেলতে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। এমএলসির দল এমআই নিউইয়র্কের মালিক ভারতের ধনকুবের আম্বানি পরিবার ভবিষ্যতে নিউইয়র্কের অন্য কোনো স্থানে ক্রিকেট স্টেডিয়াম বানাবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।