প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ১৬:০৮ পিএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪ ১৭:১৫ পিএম
বাংলাদেশের সামনে পানির মতো সহজ সমীকরণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংসটাউনে
হারাতে হবে নেদারল্যান্ডসকে। বাকি হিসাবনিকাশ পরে কষলেও চলবে। আর্নোস ভ্যাল গ্রাউন্ডে
ডাচদের থামাতে পারলে অতসব হিসাবের দরকারও হয়তো পড়বে না। বলতে সহজ হলেও সহজলভ্যতায় ঘাটতি
বেশ। একে তো এই মাঠ সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না বাংলাদেশ, তার ওপর দলের ব্যাটিং অর্ডারের
অবস্থাও নড়বড়ে। প্রত্যয়ী স্কট এডওয়ার্ডসদের বিপক্ষে মরিয়া টাইগারদের চোখ আপাতত জয়ে।
রান রেটের হিসাব রাখা যদিও এখানে অত গুরুত্বপূর্ণ নয়। মোদ্দাকথা, কিংসটাউনে জয়ে হাসবে
যারা তারাই বনে যাবে রাজা। শেষ আটের পথ তাদের জন্য হবে মসৃণ।
আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার লড়াইয়ে টাইগারদের মতো ডাচদেরও বাঁচা
কি মরার ম্যাচ! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’ থেকে ইতোমধ্যে শেষ আট নিশ্চিত করে
বসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই গ্রুপ থেকে আরেকটি দল পাবে পরের পর্বের টিকিট। সেটি হতে পারে
বাংলাদেশ কিংবা নেদারল্যান্ডস। টেবিলের হিসাব বলছে, এই সমীকরণে ইতোমধ্যে ছিটকে গেছে
বাকি দুই দল তথা নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। কিংসটাউনের লড়াই তবে কতটা মাহাত্ম্যপূর্ণ বোঝাই
যায়! আরেকটু খোলাসা করা হোক বিষয়টি। টানা তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রোটিয়ারা।
টেবিলের দুই ও তিনে থাকা দুটি দলেরই পয়েন্ট ২। বাকি দুদলের পয়েন্ট ১ করে। দুটি করে
ম্যাচ বাকি থাকলেও তলানিতে থাকা শ্রীলঙ্কা ও নেপালের বিদায় অনেকটা নিশ্চিত। টিকে রইল
দুই দল।
এই দুইয়ের একটি হবে শেষ আটের সারথি। বাংলাদেশ সেই পথে এগিয়ে। ডাচদের
আজকের পর বাকি থাকবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ। আজ হারলে সেটিতে তাদের জিততেই হবে।
তারপর তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচের ফলের দিকে। উল্টো চিত্র বাংলাদেশের
ক্ষেত্রেও। কিংসটাউনে ফল পক্ষে না এলে নেপালকে হারাতেই হবে। সঙ্গে রান রেটের ঝইঝক্কিও
সামলাতে হবে। তবে এই গ্রুপ থেকে হিসাবনিকাশ আজই শেষ হয়ে যেতে পারে। শান্তর দল সেদিকে
তাকিয়েই ছক কষছে।
টি-টোয়েন্টি দিনের খেলা হলেও শক্তি-সামর্থ্যের বিচারে টাইগাররা এগিয়ে।
মারকাটারি ফরম্যাটে তিন জয়ের বিপরীতে ডাচরা জিততে পেরেছে একটিতে। দুপক্ষের সবশেষ দেখা
২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। কুড়ির মেলায় ৯ রানে জয় পেয়েছিল লাল-সবুজ দল। তবে
সবশেষ লড়াইয়ে ডাচদের বিপক্ষে টাইগারদের হারের ক্ষত এখনও তাজা। এবার প্রতিশোধ মেটানোর
পালা। টাইগারদের হয়ে প্রচ্ছ্ন্ন হুমকি ছুড়ে রেখেছেন তানজিম হাসান সাকিব। উল্টো লড়াইয়ের
বার্তাও দিয়েছেন ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। আনকোরা মাঠটিতে এবার শেষ আটের ট্রেন ধরার
চ্যালেঞ্জ।
সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনে আগে কখনোই টি-টোয়েন্টি খেলেনি বাংলাদেশ।
এখানে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচই হয়েছে স্রেফ দুটি, তাও সেই ২০১৩ সালে। সেই দুই
ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। রানও বেশি ওঠেনি। একবার
দেড়শ ছাড়িয়েছিল, আরেকবার ১৩০ রান। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) কোনো ম্যাচ
কখনোই হয়নি আর্নোস ভ্যালেতে। পর্যাপ্ত খেলা না হওয়ায় সেন্ট ভিনসেন্টে উইকেট কেমন আচরণ
করবে তা বোঝা আপাতত মুশকিল। তবে এই মাঠে স্পিনাররা বেশ সহায়তা পেতে পারেন। বাংলাদেশ
দলের টিম ম্যানেজমেন্ট সেদিকে চোখ রেখেই একাদশ সাজাতে পারে। আসতে পারে পরিবর্তনও। ব্যাটিংয়ে
দাপুটে ডাচদের থামিয়ে দিতে বোলাররা কার্যকরী হলে সমীকরণ মেলানো সহজ হবে টাইগারদের।
তবে ব্যাটিংয়ে অশনিসংকেত চলা সময়েও চলে আসছে সবশেষ দেখায় হার। কলকাতায় ওয়ানডে বিশ্বকাপে
বাংলাদেশকে হারিয়ে দিয়েছিল ডাচরা। সেটি নিয়ে অবশ্য ভাবছে না বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার
বিপক্ষে তোপ দাগা পেসার সাকিব আজকের লড়াইয়েও প্রত্যয়ী, ‘নেদারল্যান্ডসের কাছে আমরা
যে ম্যাচে হেরেছিলাম, সেটি এখন অতীত। ওইটা ছিল ওয়ানডে ফরম্যাট। কিন্তু এটা ক্রিকেটের
ভিন্ন ফরম্যাট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারও এখন অতীত। আমাদের হাতে দুটি ম্যাচ আছে,
ওই দুই ম্যাচ জিততে হবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী, ওই দুই দলকে হারাতে পারব।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় নির্বাসিত কিংসটাউনে ক্রিকেট ফেরার দিনে
বাংলাদেশ যদি জয়ের আনন্দে ভাসতে পারে, তবে সেই শেষ আটের পথ আরেকটু কাছে আসবে। সব কথার
শেষ কথা, কিংসটাউনে আজ রাজা হওয়ার দিন। সাকিব আল হাসান তার ফেসবুক পেজে লড়াইয়ের ঝাঁজটাও
বুঝিয়েছেন, ‘সব কিছু দিতে প্রস্তুত আমরা।’
শুধু জয় চাই।