মুখোমুখি বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ১০:১৪ এএম
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪ ১১:০৫ এএম
অতীত রোমন্থন সহজ। বৃষ্টির টাপুরটুপুর শব্দ কিংবা অলস বিকালে স্মৃতিদের মনোজগতে সরব বিচরণ! সেই স্মৃতি যদি পুনরাবৃত্তি ঘটে, বাস্তবে ধরা দেয়Ñ ব্যাপারটা কেমন হবে, ভাবুন তো! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অভিযাত্রিক দলের সামনে তেমনই সুযোগ। অষ্টম বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে হারানোর স্মৃতি আটলান্টিক পাড়ে পুনর্জাগরণের অপেক্ষায় নাজমুল হোসেন ব্রিগেড। অভিন্ন লক্ষ্য ডাচদেরও। ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্মৃতি ফেরাতে প্রস্তুত স্কট এডওয়ার্ডসরা।
আজ বৃহস্পতিবার সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নোস ভ্যালে গ্রাউন্ডে দুদলেরই ‘মাস্ট উইন ম্যাচ’। রাত সাড়ে ৮টার আনকোরা মাঠে গড়ানো ম্যাচে পরিসংখ্যান ও শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে বাংলাদেশ। মারকাটারি ফরম্যাটে তিন জয়ের বিপরীতে ডাচরা জিততে পেরেছে একটিতে। দুপক্ষের সবশেষ দেখা ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। কুড়ির মেলায় ৯ রানে জয় পেয়েছিল লাল-সবুজ দল। যদিও এবারের আসরে সম-পয়েন্ট দুদলের। দুই ম্যাচে একটি করে জয় তুলেছে তারা। তাছাড়া সবশেষ লড়াইয়েও ডাচদের বিপক্ষে টাইগারদের হারের ক্ষত এখনও তাজা।
শেষ আট মেলানোর দিনে সেই প্রতিশোধও নিতে চাইবে বাংলাদেশ। তবে লড়াইয়ে দুদলের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে আর্নোস ভ্যালের উইকেট এবং কন্ডিশন। প্রায় দশ বছর পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফিরেছে এই ভেন্যুতে। ডাচদের এই পিচ পরখের সুযোগ মেলেনি। বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চেনাজানা। বিশ্বকাপ দলের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসানের অভিজ্ঞতা রয়েছে এ মাঠে খেলার। ২০০৯ সালে এখানে টেস্ট খেলেন সাকিব। স্মরণীয় সে টেস্টে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল সফরকারী দল। ২০১৪ সালের টেস্টে খেলেছেন রিয়াদ। ২০০৯ সালে তামিম ইকবাল ও ২০১৪ সালে মুশফিকুর রহিম এই ভেন্যুতেই টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন।
কিংসটাউনের উইকেট কেমন আচরণ করবে, তা নিয়েও চায়ের আড্ডায় আলোচনা। ২০১৩ সালে এখানে যে দুই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছে তাতে খুব বেশি রান হয়নি। প্রথম ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের ১৫২ রানে থামিয়ে ২ উইকেটে জেতে পাকিস্তান। আরেক ম্যাচে পাকিস্তান ১৩৫ রান করেও স্পিনারদের ঝলকে ম্যাচ জিতে যায়। দুই দলেরই স্পিনাররা মিলে নিয়েছিলেন ১১ উইকেট। ১১ বছর আগে স্পিনাররা দাপট দেখালেও বর্তমানে উইকেটের কী হাল তা নিয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
উইকেট অচেনা হলেও জয়ে পাখির চোখ করেছে বাংলাদেশ। তরুণ পেসার তানজিম সাকিবের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর। গ্রুপ পর্বের তৃতীয় লড়াইয়ে আগে টাইগার পেসার বলেছেন, ‘টি-টোয়েন্টি ভিন্ন ফরম্যাট। মানসিকভাবে চিন্তা করলে আমরা অনেক শক্ত আছি। আমাদের দলীয় একতা অসাধারণ। আমি মনে করি, এভাবে যদি খেলতে থাকি, তবে কোনো দলই আমাদের কাছে ব্যাপার নয়। আর এটা নিয়ে আলোচনা করি। যেকোনো দলকেই আমরা হারাতে পারি।’
শেষ আটের সমীকরণ মেলানোর নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ডাচরা। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ জিততে জিততে হেরে গেলেও এইডেন মার্করামদের বিপক্ষে স্কট এডওয়ার্ডসদের হারটি ছিল তুলনামূলক বড়। শান্তদের মুখোমুখির আগে বলেছেন, ‘প্রোটিয়ারা ভালো বল করেছে। একই সঙ্গে তাদের ব্যাটিং ছিল ভালো। আমরা প্রেসারে পড়ে যাই, যা দলে প্রভাব ফেলেছে। আগামী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াব। আমরা (জয়ের ব্যাপারে) আশাবাদী।’
ক্রিকেটের দুই ফরম্যাটÑ ওয়ানডে এবং কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপের সবশেষ ফল দুপক্ষের ঘরে গেছে। সেই আত্মবিশ্বাসই পুঁজি বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের। ওয়ানডে বিশ্বকাপে হারার প্রতিশোধ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সুখস্মৃতি ফেরাতে পারবেন শান্তরা নাকি চমক দেখিয়ে দিনটি নিজেদের করে নেবেন ডাচরাÑ সময় দেবে উত্তর।