টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৪ ০০:১০ এএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৪ ০০:১৫ এএম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের আট আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়া কোনো টেস্ট প্লেয়িং দলকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই শ্রীলঙ্কাকে হারায় নাজমুল হেসেন শান্ত ব্রিগেড। এরপর সোমবার রাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সমানে সমান লড়াই করেছে দল। কিন্তু থ্রিলার ম্যাচের শেষে বাংলাদেশকে হারতে হয়েছে ৪ রানে। এই ম্যাচে ব্যাটিং নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার জায়গা থাকলেও তাওহিদ হৃদয়ের বিশ্বাসÑ শুধু শেষ আট নয়, সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলারও সামর্থ্য আছে বাংলাদেশের।
সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রানে থামেন টাইগাররা। এতে সুপার এইটের পথে প্রথম ধাক্কা খান চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। এই ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তাওহিদ বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় শুধু সুপার এইট না, আমরা সেমিফাইনাল-ফাইনাল খেলার মতো দল। এটা আমার বিশ্বাস। আমার এ বিশ্বাস আছে।’ হৃদয়ের আশা দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে দল, ‘ব্যাটাররা রান করছে না, প্রত্যেক ম্যাচেই সব দলের সবাই রান করে না, এক-দুজন খেলে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট, এখানে ১১ জন খেলে না। যে দু-তিনজন খেলবে সেদিন যেন খেলাটা শেষ করে। এটা আমার ব্যক্তিগত মত। ব্যাটাররা রান করছে না, আশা করি সামনের ম্যাচগুলোয় করবে। আশা করি দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াব।’
অনেকেই সাকিব আল হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট বিলিয়ে আসাকে হারের কারণ হিসেবে দেখছেন। তবে ভিন্ন মত তাওহিদের, ‘আমার মনে হয় ভালো শট ছিল। নরকিয়া বেশিরভাগ বল ব্যাক অব লেংথে করে। রান করতে গেলে তো পুল শট খেলতে হবে বা গতিটাকে ব্যবহার করতেই হবে। হয়তো এক্সিকিউশন ভালো হয়নি। আজ যেটা আউট হয়েছে পরেরবার এটা ছয় বা চার হবে।’
রান তাড়ায় ৩৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন হৃদয়। বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশকে ম্যাচে রেখেছিলেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে গড়েন ৪৪ রানের জুটি। নিজে ৩৪ বলে সমান ২টি করে চার ও ছক্কায় খেলেন ৩৭ রানের লড়াকু ইনিংস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি তিনি। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হয়ে যান। ওই আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। নিজের উইকেট হারানোয় দল ম্যাচ হেরেছে বলে মত ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী এই ব্যাটারের, ‘ম্যাচ হেরে গেছি আমার আউটে। খেলা ফিনিশ করলে হারতাম না। তারা (টপ অর্ডার) তো আউট হয়ে গেছে অনেক আগে। আমি তো শেষ পর্যন্ত ছিলাম। যদি আমি জেতাতে পারতাম… আমিই আউট হয়ে গেছি, পারিনি। আমার কাছে কখনও মনে হয়নি এই ম্যাচ হারতে পারি। যদি খেলা শেষ করতাম ভিন্ন দৃশ্য হতো। এখান থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে।’
ম্যাচটি ফিনিশিং করতে না পারায় আফসোস হৃদয়ের, ‘আমি যখন ব্যাট করি, টার্গেটই থাকে ইনটেন্ট নিয়ে ব্যাট করব। এটা রানের খেলা, মাথায় থাকে কীভাবে রান করতে পারি, পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন। কখনও হয়তো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হব। ম্যাচের চাহিদা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করি। এ উইকেটে অনেক বড় ব্যাটাররাও রান করতে পারছে না, এখানে স্ট্রাইক রেট কারও বেশি নয়। এখানে যেভাবে আমরা ব্যাট করেছি, শুরুটা ঠিকঠাক ছিল, মাঝখানেও ভালো ছিল। ফিনিশিং ভালো করতে পারিনি। আমি খেলতাম বা যদি ফিনিশ করতাম, হয়তো দৃশ্যপট এমন হতো না।’