টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৪ ১০:৪৯ এএম
আপডেট : ১১ জুন ২০২৪ ১০:৫২ এএম
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরও একটি শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচের দেখা মিলেছে। রোমাঞ্চে ঠাসা লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। রহস্যময় পিচে আগে ব্যাট করতে নেমে ১১৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় প্রোটিয়ারা। টাইগার বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে শুরুতে বেশ চাপে পড়ে যায় প্রোটিয়ারা। পরে ডেভিড মিলার এবং হেনরিখ ক্লাসেনের ব্যাটে চড়ে পায় লড়াকু পুঁজি। জবাব দিতে নেমে শুরুতে উইকেট হারালেও মাঝে তাওহিদ হৃদয় এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে চড়ে জয়ের পথে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু একদম শেষ বেলায় গিয়ে তরি ডুবিয়ে ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। এতে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলে আসরে নিয়েছে টানা তৃতীয় জয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের সাফল্যের রহস্য খোলাসা করেছেন ৪৪ বলে ৪৬ রান করে প্রোটিয়াদের জয়ের নায়ক ক্লাসেন। তিনি বলেন, ‘আসলে এখানে আমাদের অনেকটা ওয়ানডে ম্যাচের মত ব্যাট করতে হয়েছে। আমাদের চিন্তাভাবনা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মত ছিল না। এখানে নেমে বলে বলে রান নেওয়ার চিন্তা ছিল আমাদের। গতকাল (রবিবার) ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটা দেখেছি। দারুণ দুইটি দলও ১২০ রান করতে সংগ্রাম করেছে। ফলে এখানে আমাদের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে হয়েছে। কেবল দাঁড়িয়ে ছয় মারার সুযোগ নেই এখানে। ফলে আমি এবং ডেভিড এখানে ওয়ানডে মেজাজে ব্যাট চালানোর চেষ্টা করেছি। এটা কাজেও দিয়েছে। শেষ ৩ ওভারে চেষ্টা করেছি কিছুটা টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট চালাতে।’
আইপিএলে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ক্লাসেন। কিন্তু বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন দেখছেন বিশ্বকাপের উইকেট, কন্ডিশনে। তার ভাষায়, ‘হ্যাঁ এটা বিশাল পরিবর্তন। এমন দল থেকে এসেছি যেখানে ২৭০ রান ২৬০ রান হত। এখানে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এটা খেলারই অংশ। আপনাকে তবুও ম্যাচ জিততে হবে। ফলে আমাদের ব্যাট করতে হবে। ক্যারিবিয়ানের উইকেট এখান থেকে অনেক বেশি ভালো হবে এমনও না। সবাইকে মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের স্মার্ট ক্রিকেট খেলতে হবে এবং নিজেদের ক্রিকেট ব্রেইনকে আরেকটু বেশি কাজে লাগাতে হবে।’
তবে এসব নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই ক্লাসেনের, ‘এখানে ভালো ক্রিকেট হচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ভালো ব্যাপার। অবশ্যই আপনাকে এটি বিশ্বের কাছে বিক্রি করতে হবে। যদিও আমি মনে করি না এটি খুব ভালো বিক্রি করার বিষয় (হাসি)। ক্রিকেটে এতটা প্রতিযোগিতার ফলে অন্য দলও খেলার মধ্যে চলে আসে। ফলে খেলাটা উন্মুক্ত হয়ে যায়। খেলার ভিত্তিই এটা। আমাদের জন্য বিষয়টা কিছুটা শ্বাসরুদ্ধকর, কারণ সব খেলাই বড় খেলা। কোনো সহজ ম্যাচ নেই, বিশেষ করে আমাদের গ্রুপে। সবাই টানটান উত্তেজনার মধ্যে থাকে। দারুণ বিনোদনপূর্ণ খেলা। যেকোনো দল যেকোনো দলকে হারিয়ে দিতে পারে এই মাঠে।’
ম্যাচে ব্যাটিংয়ে কৌশলগত পরিবর্তন আনা প্রসঙ্গে ক্লাসেন জানিয়েছেন, ‘আসলে আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি। পরে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি। এখানে তবুও বল হিট করতে হবে। টেকনিক কিছুটা আঁটসাঁট হয়ে যায়। নিজেকে জায়গা দিয়ে খেলতে হয়েছে কিছুটা। আমাদের কিছুটা অভিজ্ঞতা ছিল অস্ট্রেলিয়ায় অপটার স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড নিয়ে। ফলে আমাদের মাথায় ছিল এখানে বাউন্ডারি বের করা সহজ হবে না। উইকেটও এখানে কাজটা কঠিন করে দিয়েছে বিশেষ করে যারা কিছুটা স্লো বল করে তাদের ক্ষেত্রে। যখন পেস বেশি ছিল তখন হয়ত বলকে মারা গেছে। তবুও মনে হয়েছিল ১২০ ভালো স্কোর।’
নিউইয়র্কের নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেও উইকেটের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ। টানা ৩ ম্যাচে ৩ জয়ের পর নিউইয়র্কেই বাকি ম্যাচ খেলতে চাইবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ক্লাসেন বলেন, ‘(হাসি) না না। আসলে ব্যাটাররা নিশ্চিতভাবে এখান থেকে বের হতে চায়। বোলাররা হয়ত থেকে যেতে চাইবে। আমরা আমাদের কাজটা করেছি। ৩ ম্যাচে ৩ জয়। ভালো প্রস্তুতি সামনের জন্য। দারুণ অভিজ্ঞতা অবশ্যই। যা কঠিন সময়ে কাজে লাগবে।’