টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪ ২২:১১ পিএম
আপডেট : ১১ জুন ২০২৪ ০০:০৮ এএম
ছক কষে প্রতিপক্ষের ব্লু প্রিন্ট ধরে এগোনের কথা জানিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যুতসই বোলিং, সঙ্গে প্রত্যাশা মাফিক ব্যাটিংয়ে মিলবে ‘দ্বিতীয় সাফল্য’। টাইগার অধিনায়কের কথা-কাজে শতভাগ মিল পাওয়া গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বল হাতে প্রাথমিক কাজটি সেরে নিয়েছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান ও শক্তি-সামর্থে এগিয়ে থাকা প্রোটিয়াদের ওপর ছড়ি ঘোরান টাইগার পেসাররা। তানজিম হাসান সাকিব-তাসকিন আহমেদের তাণ্ডবে ১১৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি এইডেন মার্কামের দল। ওভারপ্রতি ৫.৭ রান তুলতে পারলেই শেষ আটের পথ আরো মসৃন হবে লাল-সবুজের অভিযাত্রিক দলের।
আগে
ব্যাটিংয়ের অর্থই ‘বিপদ’—নাসাউ কাউন্ডি স্টেডিয়ামের অতীত সে বার্তাই দিয়েছে।
পূর্বেকার ৬ ম্যাচের চারটির ফল গেছে আগে ব্যাটিং করা দলের বিপরীতে। তবুও ভিন্ন লক্ষ্যে
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মার্করাম। ব্যবহৃত উইকেট, একই সঙ্গে আগে ব্যাটিংয়ে
প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা যায়—টস নেওয়ার সিদ্ধান্তে এমন ভাবনা বলেছিলেন প্রোটিয়া
অধিনায়ক। তবে তার সে পরিকল্পনা বুমেরাং হয়। দর্শকরা গ্যালারিতে স্থির হওয়ার আগেই উইকেট
খোয়ায় প্রোটিয়ারা। আর ২৩ রানের মধ্যে সাজঘর মুখো হন চার ব্যাটার রেজা হেনডিক্স, কুইন্টন
ডি কক, এইডেন মার্করাম ও ট্রিস্টান স্টাবস। এ নিয়ে চতুর্থবার ২৩ বা এর কম রানে ৪ উইকেট
হারাল প্রোটিয়ারা। এর মধ্যে দুটি ঘটনা সর্বশেষ
দুই ম্যাচে।
সোমবার (১০ জুন) নিউইয়র্কে সুপার
এইটের রাস্তা সুগম করার ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তানজিম সাকিব। প্রথম
ওভারের শেষ বলে দারুণ এক ডেলিভারিতে রেজা হেনড্রিকসকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন
তরুণ এই পেসার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য পান সাকিব। কঠিন হওয়ার আগেই উইকেটরক্ষক
ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের স্ট্যাম্প ভেঙে দেন তিনি। ১১ বলে দুই ছক্কায় ১৮ রান করতে পেরেছিলেন
তিনি।
বাংলাদেশকে
তৃতীয় সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। থিতু হওয়ার আগেই প্রোটিয়া অধিনায়কে বোল্ড করে বাইশগজ
ছাড়া করেন। সিম আপ এবং দারুণ লেংথ আর লাইনে বলে মাত্র ৪ রানে সাজঘর মুখো হন মার্করাম।
প্রোটিয়া টিমের উইকেট মিছিলে চতুর্থ ব্যাটার স্টাবস। খুনে মেজাজের এই ব্যাটার রান খাতা
খোলার আগেই সাকিবের হাতে তালুবন্দী হয়ে ফেরেন। একাদশ ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাত
ধরে আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেটি হেলায় মিস করেন লিটন কুমার দাস।
রিয়াদের টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া ডেলিভারি ডেভিড মিলারের ব্যাটের বাইরের কানা ছুঁয়ে
যায় উইকেটের পেছনে। গ্লাভস কাছেও নিতে পারেননি লিটন। তার পায়ে লাগে বল। ১৫ বলে ১৩ রানে
বেঁচে যান মিলার।
সুযোগ কাজে লাগানো, সে সঙ্গে হেনরিখ ক্লাসেনকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান মিলার। দুজন প্রথমে ৫৬ বলে পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। পরে সেটাকে বড় করে পার করেন দলীয় সেঞ্চুরি। তবে ক্লাসেনের ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরাতে ৭৯ রানে জুটি ভাঙে। জুটিতে ফাটল ধরান তাসকিন। একটু পরই ক্লাসেনের দেখানো পথে হাটেন মিলার। রিশাদ হোসেনের বলে বোল্ড হন, থামেন ব্যক্তিগত ২৯ রানে। তখন প্রোটিয়াদের দলীয় স্কোর ছিল ১৮.২ ওভারে ১০৬ রান। তবে সেটিকে আর বেশিদূর এগোতে দেননি মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়েছেন কাটার মাস্টার। তাতেই ১১৩ রানে থেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টাইগারদের হয়ে ১৮ রানে সর্বোচ্চ তিন উইকেট তুলেছেন তানজিম সাকিব। তাসকিন ১৯ রান দিয়ে পান ২ উইকেট। আরেক পেসার মুস্তাফিজুর রহমান উইকেট না পেলেও ৪ ওভারে দেন ১৮ রান।