প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৪ ১৭:২৭ পিএম
অনুশীলনে বাংলাদেশ দল। ছবি : সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের উদ্বেধনী ম্যাচ জিতে ফুরফুরে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে কঠিন প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হচ্ছে টাইগাররা। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮ টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। এই ম্যাচের আগে অবশ্য প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে নয়, টারগার শিবির বেশি চিন্তিত নিউই্য়র্কের নাসাউ কাউন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে।
সাধারণত আইসিসি ইভেন্টে স্পোর্টিং উইকেট হয়ে থাকে। সেখানে ব্যাটারদের পাশাপাশি সমান সুবিধা থাকে বোলারদেরও। কিন্তু নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামের উইকেটে এমন কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। গতকাল ভারত ও পাকিস্তানের লো স্কোরিং ম্যাচ আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে উইকেটের সার্বিক চরিত্র। এই মাঠেই নাজমুল হোসেন শান্ত দল পরীক্ষা দেবে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে। যেখানে প্রতিপক্ষের চেয়েও বাংলাদেশ বেশি ভাবছে নতুন এই স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে ২ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। সুপার এইটে জেতে যা অনুপ্রাণিত করছে দলকে। দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য বাংলাদেশের চেয়ে বেশি এগিয়ে। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে এইডেন মার্করামের দল। পরের রাউন্ডে জেতে আজ বাংলাদেশকে হারালেই মিলবে টিকিট।
দুই দলের পরিসখ্যানের দিকে তাকালে কিছুটা হতাশই হতে হবে টাইগারদের। টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৮ ম্যাচ খেলে কোনও জয় নেই বাংলাদেশের। ২০০৮ সালে আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে সবচেয়ে কম ১২ রানের ব্যবধানে হেরেছিল। এরপর সেই ব্যবধানটা কেবল বেড়েছেই। সবশেষ ২০২২ বিশ্বকাপেও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারতে হয়েছে। সবমিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হচ্ছে।
নিউইয়র্কের এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতায়ও অনেকটাই এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপপর্বের প্রথম দুটি ম্যাচ প্রোটিয়ারা খেলেছে এখানেই। দুই ম্যাচেই শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ডসকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৭৭ রানে অলআউট করে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতেছে। পরের ম্যাচেও নেদারল্যান্ডসকে ১০৩ রানে থামিয়ে জিতেছে ৪ উইকেট হাতে রেখে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল ভারতের বিপক্ষে এই নাসাউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র ১২২ রান তুললেও রোহিত শর্মারা তুলেছিলেন ১৮২ রান। প্রতিপক্ষ বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি তাই বেশ কঠিনই হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আশাবাদের কথাই শুনিয়েছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই চাপের। আমাদের জন্য এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এমন কিছু করতে চাই, যা আগে কখনও করতে পারিনি, দ্বিতীয় ধাপে যেতে চাই। সেই লক্ষ্য পূরণের পথে আরেকটি বড় সুযোগ এই ম্যাচ।’ নিউইয়র্কে ব্যাটিং করাটা কঠিন বলেই আশা দেখছেন হাথুরুসিংহে, ‘ব্যাটারদের জন্য উইকেট খুব সহজ নয়। এই কারণেই আসলে দুই দল একই কাতারে চলে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণ বেশ ভালো। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ওদের সঙ্গে খুব ভালো লড়াই করতে পারবো।’