টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ২২:২৯ পিএম
১৫ মাসের ছোট্ট আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন মাত্র ১৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারই প্রথম আবির্ভাব রিশাদ হোসেনের। স্বাভাবিকভাবেই একটু নার্ভাস থাকার কথা তরুণ লেগ স্পিনারের। কিন্তু রিশাদ যেন অন্য ধাতুতে গড়া। মারকাটারি এ আসরে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেই করেছেন বাজিমাত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছেন ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। দলও পেয়েছে শ্বাসরুদ্ধকর জয়। লঙ্কানদের ধসানো এ লেগি পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। দলকে জিতিয়ে রিশাদ জানালেন, ভয়কে জয় করেই পেয়েছেন সাফল্যের দেখা।
শনিবার (৮ জুন) ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে লো স্কোরিং ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানদের মাত্র ১২৪ রানে আটকে ফেলে টাইগার বোলাররা। রান তাড়ায় শুরুতে পা হড়কালেও তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। শেষদিকে দল আবার বিপদে পড়লেও অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ১ ওভার হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। স্বস্তির জয়ে বল হাতে অবদান রেখেছেন রিশাদ। খেলায় ২২ রান খরচায় শিকার করেন ৩ উইকেট। পেয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, চারিথ আসালাঙ্কা ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভার উইকেট।
একজন ভালো লেগ স্পিনারের জন্য বাংলাদেশের যে দীর্ঘ দিনের হাহাকার, তা অনেকটাই দূর করেছেন রিশাদ। শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডারে ধস নামানোর পর যেন বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, লেগ স্পিনার নিয়ে বাংলাদেশকে আর চিন্তা করতে হবে না; তিনি ‘লম্বা রেসের ঘোড়া’ হতেই এসেছেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রিশাদও জানান, ‘আমি ভয় নিয়ে বোলিং করিনি। চেষ্টা করেছি দলকে উইকেট এনে দিতে।’ নিজের পারফরম্যান্স রিশাদ বলেছেন, ‘ভালো লাগছে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছি। চেষ্টা করছি যে দুই-চারটা বল করার পর এ উইকেটে কী হতে পারে।’
শ্রীলঙ্কা ইনিংসের শুরুর ১৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১০০ রান তুলে ফেলেছিল। শেষ ৬ ওভারে রানের গতি বাড়িয়ে দলের ১৫০-এর ওপরে নিয়ে যাবেন- এমন পরিকল্পনা নিশ্চয়ই করে রেখেছিলেন উইকেটে দুই সেট ব্যাটসম্যান চারিথ আসালাঙ্কা ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। কিন্তু নিজের শেষ স্পেল করতে এসে লঙ্কানদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছেন রিশাদ। প্রথম ২ ওভারে ১৬ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা এ দীর্ঘদেহী লেগ স্পিনার পরের ২ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। লঙ্কানদের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন কার্যত সেখানেই শেষ! ম্যাচের মোমেন্টামও বাংলাদেশের দিকে হেলে পড়েছে জাদুকরী ওই স্পেলটায়।
ইনিংসের ১৫তম ওভারের প্রথম দুই বলে আসালাঙ্কা ও হাসারাঙ্গাকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান। এর মধ্যে লঙ্কান অধিনায়কের উইকেট শিকারের ডেলিভারিটি ছিল চোখের শান্তি। একদম জাত লেগ স্পিনারের মতোই বল ফেলেন লেগ স্টাম্পের বাইরে, তা কয়েক ডিগ্রি বাঁক খাওয়ার পর হাসারাঙ্গার ব্যাটে আলতো ছোঁয়া দিয়ে জমা পড়ে স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকারের হাতে। সেই উইকেটকেই তার সেরা উইকেট বলে জানিয়েছেন এ লেগ স্পিনার, ‘স্লিপে যেটা ক্যাচ হয়েছে বেশি আনন্দ দিয়েছে। হ্যাটট্রিক ডেলিভারির সময় স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছি এবং ভালো জায়গায় বল ফেলার চেষ্টা করেছি। সঙ্গে এটাও জানিয়েছেন যে ম্যাচ জেতায় হ্যাটট্রিক না পাওয়ার আক্ষেপ নেই তার, ‘কোনো কিছু নিয়ে (হ্যাটট্রিক না পাওয়া) আক্ষেপ না করাই ভালো।’
ম্যাচ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিশাদকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। সামনের ম্যাচগুলোতেও তার কাছ থেকে ভালো বোলিংয়ের আশা তার, ‘রিশাদ অসাধারণ বল করেছে। শেষ কয়েক সিরিজ ধরেই ভালো করছে। যেভাবে ও অনুশীলন করে, ওর প্রস্তুতি খুবই ভালো। আমরা সব সময় সংগ্রাম করি যে, আমাদের একটা লেগ স্পিনার নেই। ওই জায়গাটা আমাদের পূরণ হয়েছে। আমি আশা করব সামনের ম্যাচগুলোতেও ও অবদান রাখবে।’
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বিদায় নেন ওপেনার সৌম্য সরকার (০) ও তানজিদ হাসান তামিম (৩)। ক্রিজে থিতু হতে পারেননি অধিনায়ক নাজমুল শান্তও (৭)। এরপর তৃতীয় উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়ে দলকে বেশ ভালোভাবেই টানছিলেন অফ-ফর্মে থাকা লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়। ১২তম ওভারে দলীয় ৯১ রানের মাথায় বিদায় নেন হৃদয়। ২০ বলে ৪টি ছক্কা ও ১টি চারে ৪০ রান করেন। ব্যক্তিগত ৩৬ রানে আউট হন লিটন। জয় থেকে তখন ২৬ রান দূরে বাংলাদেশ। এরপর দ্রুতই ফেরেন সাকিব (৮), রিশাদ হোসেন (১) ও তাসকিন আহমেদ (০)। তবে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ এখন জানেন কীভাবে ম্যাচ ফিনিশিং দিতে হয়। ১৯তম ওভারে দাসুন শানাকার করা প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে আছড়ে ফেললেন গ্যালারিতে। ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ১৩ বলে ১৬ রান করে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন সাইলেন্ট কিলার।