রুবেল রেহান
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ২০:১৭ পিএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৪ ২০:১৮ পিএম
জয়ের ফিনিশিং টানেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ছবি : সংগৃহীত
সকালের সূর্য দেখে নাকি বোঝা যায় দিনটি কেমন যাবে! কিন্তু চলতি বিশ্বকাপের বেলায় কথাটি বোধ করি আর খাটে না। ২০ দলের এই আসরের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখেছে চার-ছক্কার বৃষ্টি। কানাডার ছুড়ে দেওয়া ১৯৫ রানের লক্ষ্য সেদিন ১৪ বল হাতে রেখেই পৌঁছে গিয়েছিল সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। খেলায় অ্যারন জোন্স একাই হাঁকান ১০টি ছক্কা। কিন্তু সেই ধারা অব্যাহত থাকেনি। লো স্কোরিং ম্যাচের জন্যই বারবার আলোচনায় এসেছে এবারের আসর। তেমনই আরও একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গতকাল শনিবার। লো স্কোরিং থ্রিলারে যেখানে শ্রীলঙ্কাকে হারায় বাংলাদেশ। রোমাঞ্চকর এই ম্যাচের গল্পই তুলে ধরা হলো পাঁচ পয়েন্টে।

পাথুম নিশাঙ্কার জমজমাট শুরু
ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই শ্রীলঙ্কা হারায় কুশল মেন্ডিসের উইকেট। কিন্তু পাথুম নিশাঙ্কার কিছু ঝকঝকে স্ট্রোকের সুবাদে এরপরও পাওয়ারপ্লেতে তারা স্কোরবোর্ডে সংগ্রহ করে ৫৩ রান। ছয় বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পাওয়ারপ্লে শেষে ১৪ বলে ৩৪ রানের অপরাজিত থাকেন ডান হাতি ব্যাটার নিশাঙ্কা। এর মধ্যে চারটি বাউন্ডারি আসে পঞ্চম ওভারে। সাকিব আল হাসানের করা ওই ওভারে লঙ্কানরা তোলে ১৬ রান। মোমেন্টাম পেয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

রিশাদ হোসেনে লঙ্কান পতনের সূত্রপাত
১৪ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ১০৩/৩। বড় সংগ্রহের পথেই ছুটছিল শ্রীলঙ্কা। এই সময়েই দৃশ্যপটে রিশাদ হোসেন এবং তার জোড়া আঘাত। পরপর দুই বলে তুলে নেন চারিত আসালাঙ্কা ও পিঞ্চ-হিটার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে। এরপর ১৭তম ওভারে এসে নিজের শিকার বানান ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে। তিন উইকেটে ১০৩ রানে থাকা লঙ্কানরা থেমে যায় মাত্র ১২৪ রানে।

নুয়ান থুসারার বিস্ফোরণ
গেল মার্চে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সিলেটে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। ওই সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ উইকেট তুলে একাই হারিয়ে দেন পেসার নুয়ান থুসারা। এরপর গতকালই তিনি ফের বাংলাদেশের মুখোমুখি হন। এই দেখাতেও সিলেটের সেই বিধ্বংসী থুসারাকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন এই পেসার। এদিন ২৮ রানে তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। যার মধ্যে দুটিই নেন থুসারা। এরপর ১৮তম ওভারে এসে পরপর তুলে নেন আরও দুই উইকেট। ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ২৯ বছর বয়সি এই পেসার।

হৃদয়-হাসারাঙ্গা দ্বৈরথ
৮.৫ ওভারের পর বাংলাদেশের রান তখন ৫২/৩। বাকি ৬৭ বলে জিততে প্রয়োজন ৭৩ রান। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বর বোলার হাসারাঙ্গাকে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে হৃদয় সমীকরণ নামিয়ে আনেন ৫১ বলে ৩৩ রানের। এর মধ্যে তিনটি ছক্কা এসেছে টানা তিন বলে। তিনটিই মিড উইকেটের ওপর দিয়ে। হাসারাঙ্গা অবশেষে হৃদয়কে আউট করলেও ততক্ষণে যা করার সেটি করে গেছেন হৃদয়।

স্নায়ু কাটিয়ে জয়ের বন্দরে বাংলাদেশ
কোনো টুইস্ট ছাড়া বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচ এখনও বোধ করি শেষ হবে না। হয়তো ক্রিকেটবিধাতাই এমনটি লিখে রেখেছেন। শনিবারের ম্যাচটিতেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। খেলা শেষদিকে মোড় নেয়। হৃদয় ফেরার পর ৬ ওভারের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারায় টাইগাররা। শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১১ রানের, হাতে কেবল দুই উইকেট, শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। নখ কামড়ানো মুহূর্ত। কী হবে কী অবস্থা। এমন চাপের মুহূর্তে স্নায়ুর সর্বোচ্চ পরীক্ষা দিলেন অভিজ্ঞ রিয়াদ। তাতে শতভাগ সফল তিনি। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে দাসুন শানাকাকে ছক্কা হাঁকিয়ে সব শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন টাইগারদের অসংখ্য জয়ের নায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।