প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৪ ১৩:১০ পিএম
আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪ ১৩:৪৭ পিএম
একটা সময় মনে হচ্ছিল, শেষটা পাকিস্তানেরই হবে। অভিজ্ঞতার কাছে হার মানবে যুক্তরাষ্ট্র। টি-টোয়েন্টির সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। গতবারের রানার্সআপ তো বটেই। দলটির ভান্ডারে অভিজ্ঞ সব ব্যাটার। শাহিন আফ্রিদি, মোহাম্মদ আামির, নাসিম শাহ ও হারিস রউফদের নিয়ে গড়া বিশ্বসেরা পেস ইউনিট। তবু লজ্জার হার। ব্যাটিং জুতসই হলেও ছন্নছাড়া বোলিংয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরেছে তারা। মূলত সুপার ওভারে ঠেকা ম্যাচ মানসিক শক্তিগুণে জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র; যা অবিশ্বাস্য লেগেছে অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেলের। তার মতে, বাবর আজমদের বিপক্ষে এ জয় দেশটির ক্রিকেটের অনেক নতুন দুয়ার খুলে দেবে।
ডালাসের অনিবারণীয় কাব্য লেখার পর ৩১ বছর বয়সি উইকেটকিপার-ব্যাটার বলেছেন, ‘পাকিস্তানকে হারানোয় আমাদের জন্য অনেক দুয়ার খুলে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট সম্প্রদায়ের মতো মানুষ এ ব্যাপারে জানবে। বিশ্বকাপ আয়োজন করা এবং দল হিসেবে খেলা, এসব যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের প্রসারে কাজে দেবে।’
মোনাঙ্কের কথায় অবশ্য যুক্তি আছে। বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। অথচ গতকাল বৃহস্পতিবার ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি ভিউ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানেরই দর্শক ছিল বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কিছু দর্শক এলেও তা হাতেগোনা। মূলত মার্কিনিরা এখনও খুব একটা পরিচিত নয় ক্রিকেটের সঙ্গে। তবে শূন্যস্থান দ্রুতই পূরণ হবে সেটা মোনাঙ্কদের সফলতায় স্পষ্ট। দেশকে সাফল্য এনে দিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি, ‘ম্যাচ জিতে আমি খুশি। পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলা এবং তাদের হারানো আমাদের দলের জন্য অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স।’
আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অ্যারন জোন্সের ৪০ বলে ৯২ রানের সুবাদে ৭ উইকেটে জয় পায় মোনাঙ্ক ব্রিগেড। টানা দুই জয়ে গ্রুপসেরা যুক্তরাষ্ট্র। তাদের পয়েন্ট ৪। পরপর দুই জয়ে সুপার এইটে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনই সেসব নিয়ে ভাবতে চাইছেন না দলটির অধিনায়ক, ‘আমরা একসময় একটি ম্যাচেই মনোযোগ দিতে চাই। এখন আমাদের পূর্ণ মনোযোগ ভারত ম্যাচের দিকে। আয়ারল্যান্ড ম্যাচ নিয়েও এখন ভাবছি না। সুপার এইট অনেক দূরের বিষয়।’
ইতিহাস রচনার দিনে ৩৮ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোনাঙ্ক। যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক যখন বাইশগজ ছাড়েন, তখন দলীয় রান ১১১। হাতে ছিল পর্যাপ্ত উইকেট। তিনি মনে করেন, ম্যাচটা নির্ধারিত ওভারেই শেষ হওয়া উচিত ছিল, ‘আমি আউট হওয়ার সময়ও ম্যাচে ছিলাম। আমার মনে হয়েছে ম্যাচটি শেষ করা উচিত ছিল আমাদেরই, সুপার ওভারে যাওয়া উচিত হয়নি। তবে হ্যাঁ, বিশেষ করে সুপার ওভারে যেভাবে আমরা স্নায়ু ধরে রেখেছি, ১৮ রান করেছি—এটি আমাদের এগিয়ে দিয়েছে।’
বাবরদের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য অঘটন বলছেন অনেকেই। ‘আসলেই এটি আকস্মিক সাফল্য’, সাংবাদিকদের প্রশ্নে মোনাঙ্কের জবাব, ‘লোকে কী বলছে তা আমাদের ভাবনায় নেই। আমরা জানি আমরা কী করেছি, কতটুকু সামর্থ্য আমাদের। ফলে আমরা নির্দিষ্ট ম্যাচের দিকেই নজর দিই। নিজেদের আবেগের খুব একটা ওঠানামা হতে দিই না। এ জয় যা-ই হোক না কেন, আমরা আজ উপভোগ করব এবং পরের দিন আবার ফুরফুরে হয়ে ফিরব।’