দ্য গ্রিন রেড স্টোরি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৪ ২১:১২ পিএম
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪ ২১:১৩ পিএম
মাহমুদউল্লাহর মনে বড় আশা, বিশ্বকাপ জিতে ফিরবেন— সংগৃহীত ছবি
সময়ের হিসাবে ছাপিয়ে গেছে দুই যুগ। ১৯৯৯ থেকে এখন অবধি— প্রায় ২৫ বছরে সাতটি ওয়ানডে এবং আটটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশের অর্জন এক কথায় শূন্য। এ সময়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিসহ এশিয়ান প্রতিযোগিতাতেও অভিন্ন ফল। প্রত্যাশার পারদ চাপিয়ে বিশ্ব মঞ্চে লড়তে যাওয়া টাইগাদের সম্ভাবনা চুপসে যায় বাযুশূন্য বেলুনের মতো। দেশে ফিরে বাংলাদেশ দেখে ‘চৌধুরী বাড়ির রাস উৎসব।’ লাল-সবুজের দল বিশ্ব আসরে কেন ট্রফিলেস, মাহমুদউল্লাহ খুঁজে পেয়েছেন মোক্ষম উত্তর, ‘ভাগ্য সহায় হয় না।’ বাংলাদেশের হয়ে আটলান্টিক পাড়ে ক্রিকেট খেলতে যাওয়া দলটির অন্যতম অভিজ্ঞ সদস্যেরও আশা, এবার বাকি সব বারের চেয়ে আলাদা হবে।
বাকি সব হিসাব দূরে রেখে শুধু টি-টোয়েন্টির ঠিকুজি খুঁজলেও ফল বদলাবে না। এখন অবধি আটটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ট্রফি বা ফাইনাল তো দূরে, শেষ চারের সম্ভাবনাও জাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। একটিতে জুটেছিল শেষ আটে খেলার যোগ্যতা। কুড়ি কুড়ির বিশ্ব মঞ্চের জয়ও ঝুলে আছে একটিতেই। বিপরীতে হার ছিল আইসিসির সহযোগী অনেক দেশের কাছেও। তবু বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। বিসিবির প্রচারিত ‘দ্য গ্রিন রেড স্টোরি’তে প্রায় সব সদস্যের মুখেই ঘুরেছে একটি কথা, ‘এবার আগের সব বারের চেয়ে ভালো হবে।’ গতকাল বুধবার বিসিবির ভিডিওতে মাহমুদউল্লাহও বলেছেন অমন, ‘আমাদের সমর্থন করুন, বিশ্বকাপে যা সম্ভব সবই করব আমরা।’
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন দেশে থেকেই সমর্থন চেয়ে গেছেন। বাকি সবাই চেয়েছেন দোয়া। তবে বিশ্বকাপের বলয়ে ঢোকার আগের সপ্তাহ মোটেও ভালো যায়নি টাইগারদের। স্বাগতিক মার্কিনিদের কাছে সিরিজ হার, প্রস্তুতি ম্যাচে হার। বড় অ্যালার্মিং ওপেনারদের ব্যাটে রান নেই, টপ অর্ডার টপলেস, মিডলেও যাচ্ছেতাই। আস্থার জায়গা বোলিং ইউনিটেও জমেছে চোটের শঙ্কা। এত কিছু ‘নেই নেই’ এর মাঝে মাহমুদউল্লাহ শোনালেন আশার কথা। সাতটি বিশ্বকাপ খেলে আটটির পথে থাকা মাহমুদউল্লাহর চোখ শুরুতে, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বলা যায় না, যেকোনো কিছু হতে পারে। আমাদের যেমন প্রস্তুতি দেখা যাক…সবকিছু নির্ভর করছি কীভাবে আমরা শুরু করছি। শুরুটা ভালো হলে অনেক দূর যাব।’
আগামী ৮ জুন ডালাসে শান্তদের বিপক্ষে লড়বে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপে শুরুর ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে নাকানিচুবানি খাওয়া দলটি ফিরতে মরিয়া। তাদের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করলে বাকি সব ঝামেলাও মিটে যাবে বলে আশাবাদী দলের সহ-অধিনায়ক তাসকিন আহমেদও। অনেক দূর যাবেন বলে গতকাল ডালাসে সাংবাদিকদের বলেছেন। অনেক দূরটা ঠিক কত দূর?
মাহমদুল্লাহর মতে, ‘সুযোগ সব সময় থাকে, কখনও আমাদের চেষ্টার কমতি থাকে না। এবার ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো কিছু করে দেখাব। আমার মনে হয়, একটু ভাগ্যেরও সাহায্য লাগে। আমরা কয়েকটা ইভেন্টে খুব কাছাকাছি গিয়েছিলাম। তবে দুর্ভাগ্য সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। এবার আমাদের জন্য একটি সুযোগ রয়েছে বিশ্বকাপে। আমাদের সমর্থন করুন, বিশ্বকাপে যা সম্ভব সবই করব।’
৩৮ বছর বয়সি মাহমুদউল্লাহর এটাই সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। শেষটা নিশ্চয়ই রাঙিয়ে দিয়ে যেতে চাইবেন! আপাদমস্তক ‘টিম ম্যান’ হিসেবে তার ওপর আস্থার জায়গাও থাকছে। প্রতিদানও দিচ্ছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। জাতীয় দলে খেলা প্রসঙ্গে মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা, সেটা সিরিজ হোক কিংবা কোনো মেগা ইভেন্ট হোক, সব সময়ই স্পেশাল। যখনই নতুন জার্সিটা পাই, সব সময়ই খুব ভালো লাগে।’ ক্যারিয়ারে নানা উথান-পতনের সাক্ষী মাহমুদউল্লাহ ‘ক্রাইসিস ম্যান’ হয়েই থাকতে চান। নিজের চেয়ে এখনও বেশি মনোযোগী দলের চাওয়ায়, ‘কখনও আমার নাম নিয়ে চিন্তা করিনি। ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তা করি না। দলের লক্ষ্য যদি অর্জন হয়, ওটাতেই অনেক খুশি।’
মাহমুদউল্লাহর মনেও বড় আশা, বিশ্বকাপ জিতে ফিরবেন। সব বারের মতো এবার না হোক, অভিজ্ঞ তারকাদের চাওয়ার জায়গাটাও বড় হোক। বাংলাদেশে শত না থাকার মাঝে একটি অন্তত এমন কিছু থাকার মতো আসুক। স্বপ্ন পূরণ হোক স্বপ্নসারথিদের।