প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৪ ০১:৪২ এএম
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪ ১১:০৪ এএম
উইকেট তুলে লগান ফন বিকের বুনো উল্লাস
লক্ষ্য সাদাসিধে, ১০৭ রান। বাধা ডিঙাতে অবশ্য খুব একটা বেগ পেতে হয়নি নেদারল্যান্ডসের। মঙ্গলবার ডালাসের গ্র্যান্ড প্রেইরি স্টেডিয়ামে নেপালকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ডাচেরা। ম্যাচসেরা হয়েছেন টিম প্রিঙ্গলে। ২০ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলেছেন এই ঘূর্ণি জাদুকর।
এদিন টস জিতে নেপালকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। প্রথমে ব্যাটিং করে ১৯.২ ওভারে ১০৬ রানে থামে হিমালয়পুত্ররা। জবাবে ৮ বল হাতে রেখে নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে ডাচেরা।
ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড ম্যাচের মতো দিনের তৃতীয় ম্যাচেও বৃষ্টি বাগড়া দেয়। এতে খেলা শুরু হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। তবে নেপালের সমর্থনে বিশাল একটি অংশ দর্শক ঠিকই মাঠে উপস্থিত হয়। প্রতিটি মুহূর্ত দলকে উৎসাহ দিয়েছে তারা। কিন্তু রোহিত পাউডালরা দর্শকদের ভালোবাসার সিকিভাগও মূল্য দিতে পারেননি। মূলত ডাচ্ পেসার লগান ফন বিক ও স্পিনার টিম প্রিঙ্গলের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন তারা। এ দুই বোলার ৩টি করে তুলেছেন ৬ উইকেট। আর ৬৬ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে নেপাল। সেখান থেকে দলকে টানেন টেল এন্ডাররা। কিন্তু বেশিদূর এগোয়নি দলীয় সংগ্রহ। ১৯.২ ওভারে নেপাল অলআউট হয় ১০৬ রানে।
রান তাড়ায় শুরুতেই ওপেনার মাইকেল লেভিটকে হারিয়ে বসে নেদারল্যান্ডস। বিক্রমজিৎ সিংকে নিয়ে সে ধাক্কা সামাল দেন ম্যাক্স ও’ডাউড। দুজন ৩৯ রানের জুটি গড়েন। এরপর ব্যক্তিগত ২২ রানে বিক্রমজিৎ ফিরে গেলেও ম্যাক্স ধীরে ধীরে রানের চাকা ঘোরাতে থাকেন। সিব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। দুজন মিলে গড়েন আরও একটি সুন্দর জুটি। যদিও এ জুটি ২৮ রানে সীমাবদ্ধ ছিল, সিব্রান্ডের বিদায়ে ফাটল ধরে। এরপর স্কট নামেন ব্যাট হাতে, তিনি সুবিধা করতে পারেননি। তবে এক পাশ আগলে ঠিকই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ম্যাক্স ও’ডাউড। একই সঙ্গে তুলে দেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। দলের পক্ষেই তিনিই সর্বোচ্চ রানের (৫৪) ইনিংস খেলন।
আসরের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের জন্য বোলারদের কৃতিত্ব দিলেন ডাচ্ অধিনায়ক এডওয়ার্ডস, ‘পাওয়ার প্লেতে আমরা ২-৩টি উইকেট পেয়েছি। আমাদের সব বোলারই মেধাবী। ম্যাক্সকে বিশেষ ধন্যবাদ, সে দারুণ ইনিংস খেলেছে। দুর্দান্তভাবে ম্যাচের ইতি টেনে দিয়েছে।’
ম্যাচে সহজ তিনটি ক্যাচ মিস করেছে নেপাল। হারের জন্য ক্যাচ মিসকেই দায়ী করেছেন অধিনায়ক পাউডেল। ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের মতো বড় স্টেজে ক্যাচ মিসের মতো ঘটনা আপনি সমর্থন করতে পারবেন না। আমরা বেশ কয়েকটি সহজ ক্যাচ মিস করেছি।’
সবশেষ ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সেরা আটে থেকে শেষ করেছিল ডাচেরা। অস্ট্রেলিয়ায় সেই আসরে চারটি ম্যাচ জিতে চমক দেখিয়েছিল তারা। সেই সাফল্য পুঁজি করেই এবারও গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চমক দেখাল ইউরোপের দেশটি।