প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ২০:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪ ০৯:১৬ এএম
প্রায় এক মাসের যাত্রা। রবিবার (২ জুন) শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা হবে ২৯ জুন। নবম আসরে খেলা হয়েছে
কেবল ছয়টি। এরই মধ্যে বিতর্ক! ম্যাজিক ভেন্যুখ্যাত নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি ক্রিকেট
স্টেডিয়াম এখন কাঠগড়ায়। উঠছে অভিযোগের পর অভিযোগ। প্রশ্ন উঠেছে আইসিসির ব্যবস্থাপনা
নিয়েও।
সোমবার ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে
শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচটিতে পেসারদের সামনে ঠিকমতো দাঁড়াতেই
পারেনি ব্যাটাররা। বাউন্স আর গতির ঝড়ে রীতিমতো খেই হারায় ব্যাটাররা। আউটফিল্ডও ছিল
ভীষণ মন্থর। সীমানাছাড়া হতে বেশ সময় নিচ্ছিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ আয়োজনেই
তোপের মুখে এই নাসাউ স্টেডিয়াম।
চার-ছক্কা আর মারকাটারি ক্রিকেটে
ব্যাটাররা যেন বাড়তি সুবিধা পান, এটাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মূল সুর। কিন্তু নাসাউ
স্টেডিয়ামে দেখা গেল ভিন্ন রূপ। এখানে শুধু পেসাররাই সুবিধা পেয়েছে। এমন উইকেট যে টি-টোয়েন্টির
জন্য মোটেও আদর্শ নয়, জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম। ম্যাচ শেষে বিজয়ী
প্রোটিয়া অধিনায়ক জানিয়েছেন, ‘উইকেট বেশ কঠিন ছিল। বেশ বাউন্স লক্ষ করা গেছে। এমন উইকেটে
খেলা কষ্টসাধ্য।’ সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি নাসাউয়ের বাইশ গজকে ‘স্পাইসি’
(ঝাঁজালো) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভারতীয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেও টুইটারে নিউইয়র্কের
এই ভেন্যু নিয়ে লিখেছেন, ‘একটি নতুন দেশে ক্রিকেটকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এটাই সেরা পন্থা
কি না আমি নিশ্চিত নই।’
বিশ্বকাপ ঘিরে ৩৪ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামটি তিন মাসের মধ্যেই তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র। যার টার্ফ আনা
হয়েছে ল্যান্ডটেক গ্রুপ থেকে, যারা নিউইয়র্ক মেজর লিগ বেসবল দল ও ইন্টার মিয়ামি মেজর
লিগ সকার টিমের অনেক প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। আর ড্রপ ইন উইকেট ফ্লোরিডায় অ্যাডিলেড
ওভাল টার্ফ সল্যুশন থেকে আনা হয়েছে, যা রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন হেড কিউরেটর ড্যামিয়েন হফ।
এই পিচেই ১০ জুন প্রোটিয়াদের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে
হারের পর আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ভেন্যু
ও আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন লঙ্কান অধিনায়ক ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। গ্রুপপর্বের
ম্যাচগুলো ভিন্ন ভেন্যুতে খেলতে হবে তাদের। শুধু তাই নয়, হোটেল থেকে ভেন্যুর দূরত্বও
বেশ। যা নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছে লঙ্কান ক্রিকেট দল।
নাসাউ স্টেডিয়াম থেকে শ্রীলঙ্কার টিম হোটেলের দূরত্ব প্রায় দেড় ঘণ্টার। সেখান থেকে চেক আউট করে ডালাসের বিমান ধরতে হয়েছে লঙ্কানদের। সেখানেই ৮ জুন বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের ম্যাচ। শুধু ম্যাচ শেষের এই তাড়াহুড়োই নয়, শ্রীলঙ্কা ভুগেছে ম্যাচের আগেও। নিউইয়র্কে ম্যাচ খেলার জন্য মায়ামি এয়ারপোর্টে লঙ্কানদের অপেক্ষা করতে হয় ৮ ঘণ্টা। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলে আরও দুবার দুই ভেন্যুতে গিয়ে শেষ দুটি ম্যাচ খেলতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। আবাসন ব্যবস্থার সঙ্গে ভ্রমণের ক্লান্তির সঙ্গেও লড়তে হবে লঙ্কানদের। এ নিয়ে তিতিবিরক্ত মাহেশ থিকশানাও, ‘অনেক দলের মাঠ থেকে ভেন্যুর দূরত্ব ১৪ মিনিটের। তারা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। অথচ আমাদের ছিল প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের। আমি ওই দলগুলোর নাম বলতে পারব না, যারা একই ভেন্যুতে খেলবে। তাই তারা কন্ডিশন সম্পর্কেও জানে। তারা প্রস্তুতি ম্যাচও একই ভেন্যুতে খেলেছে। আর কেউ এটি পাবে না।’