ম্যাচ প্রিভিউ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ১১:০৩ এএম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪ ১৩:২১ পিএম
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বার্বাডোজ শহরটা ইংলিশদের জন্য খুবই স্মরণীয়। ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালেই যে নতুন ইতিহাস গড়েছিল তারা। ক্রিকেটের জনকরা এই মাঠেই প্রথমবারের মতো পেয়েছিল বিশ্বকাপ ট্রফি। ওই শুরুর পরই তো তারা এরপর পেয়েছে ওয়ানডে বিশ্বকাপসহ দুটি শিরোপা।
আরেকটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের যাত্রা শুরু হচ্ছে সেই কেনসিংটন ওভালে। আজ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। খেলাটি শুরু হবে রাত সাড়ে ৮টায়; সরাসরি সম্প্রচার করবে নাগরিক টিভি।
আর্চারের ফেরাতে অধিনায়ক বাটলার বেজায় খুশি, ‘ইংল্যান্ডের হয়ে তার উইকেট তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখতে পারাটা সত্যিই আনন্দের।’ সতীর্থ ক্রিস জর্ডান আরও এক ধাপ এগিয়ে, ‘ওর উইকেট নেওয়া দেখাটা আমার জন্য শিহরন জাগানিয়া
প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রমাণ করেছে ইংল্যান্ড। সবশেষ ১৪ বছরে সমীহ আদায় করে নিয়েছে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে। ফলস্বরূপ ২০১৯ সালে পেয়েছে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ ট্রফি। এরপর ২০২২ সালের কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপেও শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ওই আসরের পর অবশ্য সাদা বলের ক্রিকেটে কিছুকাল ধুঁকছে ইংলিশরা। ভারতে ১০ দলের বিশ্বকাপ তারা শেষ করে সেরা সাতে থেকে। রাউন্ড রবিন লিগের ৯ ম্যাচের ছয়টিতেই হার দেখেছে জস বাটলারের দল। বিপরীতে জিতেছে কেবল তিন ম্যাচে।
যুক্তরাষ্ট্র-উইন্ডিজ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালাই করার সে অর্থে সুযোগ পায়নি ইংল্যান্ড। প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে তারা ঘরের মাঠে ডেকেছিল পাকিস্তানকে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে বৃষ্টির বাগড়ায়। চার ম্যাচ সিরিজের দুটিই হয়েছে পরিত্যক্ত। তবে বাকি দুটিতে ইংল্যান্ড মাঠ ছাড়ে জয় নিয়েই। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পাড়ি দিয়েও বৃষ্টি পিছু ছাড়েনি ইংলিশদের। প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপের কথাও শোনা গেছে ইংল্যান্ডের কাছ থেকে। তবে এত কিছুর পরও শুরুটা রাঙাতে চায় জশ বাটলারের দল। বেশ কয়েকবার ওয়ানডে ফরম্যাটে স্কটিশদের মোকাবিলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এখন পর্যন্ত দলটির বিপক্ষে কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেনি ইংল্যান্ড। একদিক থেকে তাই ‘অচেনা’ স্কটল্যান্ডকে দিয়েই এবারের বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বেশ কিছু আত্মবিশ্বাসের রসদ পাচ্ছে ইংল্যান্ড। স্মৃতিময় ভেন্যুর সঙ্গে তাদের শক্তি জোগাবে বেশ কিছু তারকা ক্রিকেটারের ফিরে আসা। দীর্ঘবিরতির পর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ফিরেছেন সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ডের অন্যতম মারকুটে ব্যাটার হ্যারি ব্রুক। এবার তিনি ব্যাটের ঝলক দেখানোর জন্য মুখিয়ে আছেন। ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ইনজুরির সময়টা খুব একটা সুন্দর ছিল না। তবে এ সময় আমি পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটিয়েছি। এটি আমাকে শক্তিশালী করেছে, খেলাটাতে মনোযোগ দিতে এটা কাজে দেবে। ইয়র্কারশায়ারের হয়ে মাঠের অধ্যায়টাও ভালো কেটেছে। এখানে আমরা দারুণ কিছু করে দেখাতে চাই। তবে এটাও আশা করছি, আবহাওয়া যেন অনুকূলে থাকে। স্কটল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।’
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো ক্রিকেটারের জন্য সমর্থকদের এমন প্রতীক্ষা সবশেষ কবে দেখা গেছে সেটি মনে করা দুষ্কর। তবে জফরা আর্চারের বেলাতে হয়েছে এমনটাই। বারবার ইনজুরিতে পড়েছেন আবার ফিরেছেন। খেলার মাঠে না থাকলেও তাকে নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ কখনোই কমেনি। এবারও একই ব্যাপার। সবার প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফের ইংল্যান্ড দলে ফিরেছেন ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক আর্চার। তার ফেরাতে অধিনায়ক বাটলার বেজায় খুশি, ‘ইংল্যান্ডের হয়ে তার উইকেট তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখতে পারাটা সত্যিই আনন্দের।’ সতীর্থ ক্রিস জর্ডান আরও এক ধাপ এগিয়ে, ‘ওর উইকেট নেওয়া দেখাটা আমার জন্য শিহরন জাগানিয়া।’