প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৪ ১৭:০৮ পিএম
সাম্প্রতিক সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না এই দুই দলের। প্রস্তুতি ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বড় চমক দেখিয়েছে অপেক্ষাকৃত দুর্বল নেদারল্যান্ডস। আর সর্বশেষ টি- টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবেছে বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত শক্তি দক্ষিণ আফ্রিকা। ‘ডি’ গ্রুপে ফিরে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজ (সোমবার) রাতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লড়াইয়ে নামছে এই দুই দল। নিউইয়র্কের নাসাউ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮.৩০ মিনিটে।
চলতি বিশ্বকাপে দুটো বড় দলের মধ্যে এটাই প্রথম ম্যাচ। বাংলাদেশের জন্যও ম্যাচটি পরোক্ষভাবে হলেও গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ‘ডি’ গ্রুপে এই দুই দল ছাড়াও আছে বাংলাদেশ, নেপাল ও নেদারল্যান্ডস। গ্রুপ পর্ব পেরোনোর চ্যালেঞ্জে নাজমুল হোসেন শান্তদের মূল প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ অভিযাত্রা শুরু করবে লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই।
ক্রিকেটের অন্য সময়ের সঙ্গে কোনো মিল নাই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার। বছরের বেশিরভাগ সময় বড় দলগুলোর বিপক্ষে ছড়ি ঘোরায় প্রোটিয়ারা। কিন্তু বৈশ্বিক আসরে বায়ুশূন্য বেলুনের মতো চুপসে যায় তারা। এবারের বিশ্বকাপের মূলপর্বে অংশ নেওয়ার আগে, কেমন যেন বেসুরো হয়ে উঠেছে দলটি। হালে সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না লঙ্কানদের। এর প্রভাব পড়েছে র্যাংকিংয়েও। তারা আছে আট নম্বরে। আবার বিশ্বকাপ শুরুর মুহূর্তে অবনবন হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকারও। দু ধাপ নেমে তাদের অবস্থান এখন ৭ নম্বরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।
পরিসংখ্যানে শ্রীলঙ্কার চেয়ে ঢের এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুদলের ১৮ লড়াইয়ে লঙ্কানদের ৫ জয়ের বপিরীতে প্রোটিয়াদের জয় ১২ ম্যাচে। বাকি একটি ম্যাচ থেকেছে নিষ্ফলা। বিশ্বকাপেও শ্রেয়তর রেকর্ড প্রোটিয়াদেরই। দুদলের চার দেখায় তিনবার জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর লঙ্কানদের জয় একবার। তবে একটা জায়গায় কিন্তু লঙ্কানরা অনেক এগিয়ে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপে একবার চ্যাম্পিয়ন ও একবার রানার্সআপ ট্রফি জিতেছে শ্রীলঙ্কা। সেখানে এই আসরে শিরোপা জেতা তো অনেক দূরের ব্যাপার এখন পর্যন্ত ফাইনালেরই নাগাল পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা।
শক্তি-সামর্থ্যের দিক থেকে লঙ্কানদের চেয়ে যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ দল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বের সেরা পেস স্কোয়াড তাদের। ইনজুরি কাটিয়ে অ্যানরিস নরকিয়া যোগ হওয়াতে আরও শানিত হয়েছে তাদের পেস স্কোয়াড। স্পিন আক্রমণেও তারা কম যায় না। বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে পরীক্ষায় ফেলতে পারেন বাঁহাতি প্রোটিয়া স্পিনার তাবরাইজ শামসি। আর দলটিতে হার্ডহিটারের ছড়াছড়ি। এ সময়ের বিশ্বের অন্যতম পাওয়ার হিটার হিসেবে ধরা হয় হেনরিখ ক্লাসেনকে। প্রায় দুশর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেট নিয়ে বোলারদের জন্য বড় বার্তা দিয়ে রেখেছেন ক্লাসেন।
প্রোটিয়াদের তুলনায় কিছুটা সাদামাটা মনে হলেও বড় আসরে ভালো খেলার একটা সুনাম আছে লঙ্কানদের। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দ্রুতগতির বোলার না থাকলেও টি -টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভীষণ কার্যকরী পেসার মাথিশা পাথিরানা। সবে শেষ হওয়া আইপিএলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের জন্য এই লঙ্কান পেসার ছিলেন বড় মাথাব্যথা। ভিন্ন ঘরানার স্পিনিং অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গারা যে সহজে হাল ছাড়বেন না, তা বলাই বাহুল্য।