চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৪ ০৩:১২ এএম
আপডেট : ০২ জুন ২০২৪ ১২:৪৫ পিএম
ফাইনালে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ছবি : এক্স
বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ফাইনালের আগে পরিস্কার ফেভারিট ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে খেলা শুরুর পর দেখা মিললো অন্য চিত্র। সাবধানী শুরুর খানিক পরই প্রতিপক্ষের ডেরায় একের পর এক আক্রমণের ঝড় তুললো ডর্টমুন্ড। তাতে সুযোগ তৈরি হলো বেশ। কিন্তু কাঙ্খিত গোলের দেখাই পাচ্ছিল না জার্মান ক্লাবটি। কখনও নিজেদের ভুলে, কখনও বারপোস্টে লেগে, আবার কখনও রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত থাকলো এডিন টারজিকের দল। তবে সুযোগ মিসের হতাশায় ভোগেনি কার্লো আনচেলত্তির দল। শেষ সময়ের গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আরও একটি ফাইনাল জিতে নিল রিয়াল।

শনিবার রাতে ওয়েম্বলিতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে রিয়াল। ৭৪ মিনিটে দানি কারবাহালের গোলে লিড নেওয়ার পর ৮৩ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। শেষ পর্যন্ত দুই গোলের লিড রেখেই শিরোপা উল্লাস করে আনচেলত্তির শিষ্যরা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এ নিয়ে ১৫টি শিরোপা জিতে নিলো রিয়াল। ২০২২ মৌসুমে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপা জেতার এক মৌসুম পরই আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল রিয়াল। ১৯৯২ সালের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এ নিয়ে ৯টি ফাইনাল খেলল রিয়াল। প্রতিটি ফাইনালেই জিতেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ১৮টি ফাইনাল খেলে কেবল ৩টি ফাইনাল হেরেছে রিয়াল, বিপরীতে জিতেছে ১৫বার। অন্যদিকে দ্বিতীয় শিরোপা জেতা হলো না ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমের ইউসিএল শিরোপা জেতা ডর্টমুন্ড।

এদিন খেলা শুরুর পর রিয়ালকে চেপে ধরে ডর্টমুন্ড। খেলায় প্রথম ভালো সুযোগ পায় ডর্টমুন্ড। বলা যায় প্রথমার্ধে সেভাবে সুযোগই তৈরি করতে পারেননি ভিনি, রদ্রিগো, বেলিংহামরা। ১৪ মিনিটে নিকো স্লটারব্যাকের কাছ থেকে ক্রস পেয়ে নিকোলাস ফুলক্রুর্গ ঘুরে বল আসে জুলিয়ান ব্র্যান্টের সামনে তিনি মারেন বাইরে। পরের কয়েক মিনিটে রিয়ারে রক্ষণের উপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দেন বরুশিয়ার ফরোয়ার্ডরা। ২১ মিনিটে ম্যাট হামেলসের কাছ থেকে বল পেয়ে ছুটে যান করিম আদেয়েমি। কর্তোয়ার সঙ্গে ওয়ান ওয়ান লড়াইয়ে টিয়েও জালে বল জড়াতে পারেননি, গোলমুখে তাকে আটকে দেন কারভাহাল।
তিন মিনিট পর ফের সুযোগ হাতছাড়া করে জার্মানির ক্লাবটি। এবার ইয়ান মাতেসেনের কাছ থেকে বল পেয়ে ফাঁকা বার পেয়েও পোস্টে মারেন ফুলক্রুর্গ। নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে বেঁচে যায় রিয়াল। দুই মিনিট পর আরেকটি বিপদের হাত থেকে দলকে বাঁচান কর্তোয়া।

ডর্টমুন্ডের তুমুল আক্রমণের স্রোতে ৩০তম মিনিটে প্রথম কর্নার পায় রিয়াল। যদিও তাতে সুযোগ তৈরি হয়নি। পাল্টা আক্রমণে উঠে ডর্টমুন্ড। এবারও রিয়ালকে বাঁচিয়ে দেন কোর্তয়া। ৪১ মিনিটে আবার সুযোগ পেয়েছিল ডর্টমুন্ড। এবার মার্সেল সাবিতজারের মারা শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ফেরান কোর্তোয়া।
৫৭ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে কারভাহালের শট কোনরকমে ঠেকান ডর্টমুন্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। অবশেষে ৭৪ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ক্রুসের নেওয়া কর্নার কিক থেকে হেডে রিয়ালকে এগিয়ে দেন কারভাহাল। একের এক আক্রমণে বন্যায় দিশেহারা ডর্টমুন্ড ভুল করে বসে খানিক পর। ৮৩ মিনিটে আর আটকানো যায়নি ভিনিসিয়ুসকে। রক্ষণের ভুলে ফাঁকায় বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। এই গোলে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় রিয়ালের জয়।