প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৪ ২৩:০৩ পিএম
আপডেট : ০১ জুন ২০২৪ ০০:২৭ এএম
কৃষ্ণা রানী
পায়ের চোট কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। দেশে চিকিৎসা করিয়ে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। ফিট না থাকায় কৃষ্ণা রানী সরকার জায়গা পাচ্ছেন না জাতীয় দলে। চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তাই দর্শক হয়ে আছেন বাংলাদেশের তারকা এ ফরোয়ার্ড। ঝুঁকি নিয়ে সদ্য শেষ হওয়া নারী প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। তার দল নাসরিন একাডেমি চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।
কিন্তু প্রায় দেড় বছরের চিকিৎসার পরও ফিট না হওয়ায় মন ভালো নেই টাঙ্গাইলের এ ফুটবলকন্যার। সুচিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দ্বারস্থ হয়ে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছে না। এ কারণে চিকিৎসা অবহেলার জন্য ফেডারেশনকে কাঠগড়ায় তুলে ফেসবুক পেজে কৃষ্ণা দিয়েছেন দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস।
স্ট্যাটাসে কৃষ্ণা লিখেছেন, ‘প্রায় দেড় বছর হয়ে গেছে। পা আগের থেকে ভালো, কিন্তু এখনও পুরোপুরি ঠিক হয়ে উঠতে পারিনি। প্র্যাকটিস করলেই ব্যথা হয়। বাফুফের ফিজিও দিয়ে আমার চিকিৎসা চলছে। সবাই জানে, ইনজুরিটা অনেক জটিল। ব্যথা নিয়েই প্র্যাকটিস করছি। দেশে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও দেবাশীষ চৌধুরী স্যারকে দেখিয়েছিলাম। উনি প্রায় আমাকে অনেক দিন দেখেন, যখন ব্যথা কমছিল না। স্যার বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়া-ভারত গিয়ে চিকিৎসা করাতে। কিন্তু যখন আমি বাফুফেকে জানাই, তারা বলেছিল আর কিছুদিন দেশে ডাক্তার দেখাতে। আমি অনেক দিন তাদের বলেছি ভারতে যাওয়ার কথা। কিন্তু ওনারা আমার কথায় কোনো গুরুত্ব দেননি। আজ পর্যন্ত ব্যথা নিয়ে প্র্যাকটিস করছি।’
‘২০১৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ দলে সুযোগ পাই এবং ২০১৪ সালে সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পাই, সেখান থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কখনও কোনও দলের বাইরে থাকতে হয়নি। প্রায় ১০ বছর একটানা জাতীয় দলের হয়ে খেলেছি। টুকটাক ইনজুরিতে পড়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে এত বড় ইনজুরিতে পড়বো, কখনও ভাবিনি। অনেকদিন রেস্টে থাকার পর আর ভালো লাগছিল না এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলাম। তাই ব্যথা নিয়ে প্র্যাকটিস চালিয়ে যাচ্ছি।’
‘চীনে যখন এশিয়ান গেমস খেলতে যাই, তিনটা ম্যাচ বেঞ্চে বসে কাটিয়েছি। ব্যাক টু ব্যাক দুটা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে গেলাম। একজন প্লেয়ার হিসেবে এটা মেনে নেওয়া খুব দুঃখজনক।’
‘কষ্ট একটাই, কখনও কোনও টিমমেট, প্লেয়ার বা কোচকে বলতে শুনলাম না কৃষ্ণা ইনজুরিতে, তাকে তাড়াতাড়ি চিকিৎসা করানো হোক। কারও কোনও মাথা ব্যথাই নেই। ১০ বছরের পরিশ্রম এক নিমিষে শেষ।’
‘অনেক প্লেয়ারকে দেখেছি এভাবে হারিয়ে যেতে। মনে হয় সেই দিনটা আর বেশি দিন নেই কৃষ্ণার জন্য।’
‘সবাই আমার জন্য আশীর্বাদ এবং দোয়া করবেন। যাতে মানসিকভাবে ভেঙে না পরি। আবার আগের মতো মাঠে ফিরতে পারি।’