রুবেল রেহান
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৪ ১৯:০৬ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৪ ১৯:৩৪ পিএম
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের (বিপিএল) এবারের মৌসুমের বাকি কেবল শেষ রাউন্ডের খেলা। যদিও তিন ম্যাচ হাতে রেখে আগেই শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলেছে বসুন্ধরা কিংস। শেষের আগেই তাই রঙ হারিয়েছে লিগের। তবে বিপিএলে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেস চলমান। সেরার দৌড়ে থাকা তিনজনই অবশ্য বিদেশি। এই তালিকায় বাংলাদেশের সবেধন নীলমণি কিংসের ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন। শেষ রাউন্ডে অতিমানবীয় কিছু না করলে সেরা চারেই হয়তো থাকবেন জাতীয় দলের এই তারকা ফুটবলার। আবার তাকে পাঁচে নামিয়ে দিতে পারেন আর্নেস্ট বোয়েটিং ও মিগুয়েল ফেরেইরা।
এবারের লিগে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় তিনে থাকা কিংসের ফরোয়ার্ড দোরিয়েলতন গোমেস নাসিমেন্তোর গোল ১৪টি। ৯ গোল করা রাকিবের চেয়ে এগিয়ে ৫ গোল ব্যবধানে। এই তালিকার চারে থাকা রাকিবের প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়েটিং। রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটির ঘানার এই ফুটবলারেরও গোলসংখ্যা রাকিবের সমান ৯টি। এখন পর্যন্ত মৌসুমে ১৯ গোল করে সবার ওপরে আবাহনীর ফরোয়ার্ড কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট। ১৭ গোল করে তার পরের স্থান মোহামেডানের মালির ফরোয়ার্ড সোলেমান দিয়াবাতের দখলে। তাই শীর্ষ তিনে উঠতে বাংলাদেশি স্ট্রাইকারকে পরের ম্যাচে শেখ রাসেলের বিপক্ষে করতে হবে অন্তত ছয় গোল। যেটি প্রায় অসম্ভবই বটে। তবে এককভাবে শীর্ষ চারে থাকতে রাকিবকে ছাড়িয়ে যেতে হবে বোয়েটিংকে।
ঘরোয়া পেশাদার ফুটবল লিগে সেরার দৌড়ে সর্বশেষ কোনো বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড রেসে ছিলেন সেটি জানতে যেতে হবে ছয় বছর পেছনে। ২০১৮ মৌসুমে সেরা তিনে উঠে এসেছিলেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা নাবিব নেওয়াজ জীবন। লিগে সেবার ১৬ গোল করে হয়েছিলেন তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। এরপর আর কোনো বাংলাদেশি গোলের সংখ্যাকে দুই অংকের ঘরে নিতে পারেননি।
এরপর বাকি ছয় বছরে লিগ হয়েছে আরও পাঁচটি। করোনা মহামারির কারণে ২০১৯-২০ মৌসুমের খেলা থেমেছিল অর্ধেক পথে গিয়েই। পাঁচ রাউন্ড শেষে বাতিল হয়ে যায় লিগ। সেবারও শীর্ষ আটজনের মধ্যে ছিলেন না কোনো বাংলাদেশি। ছয় গোল করে শীর্ষে থেকেছিলেন আরামবাগের এলিটা কিংসলে। ২০২০-২১ মৌসুমেও সেরা আটজন গোল স্কোরারের মধ্যে ছিলেন না কোনো ঘরের ছেলে। ২১ গোল করে টপ স্কোরার ছিলেন কিংসের রবিনহো। এই তালিকার নয়ে জায়গা পেয়েছিলেন দুই স্থানীয় ফুটবলার। আবাহনীর জুয়েল রানা ও উত্তর বারিধারার সুমন রেজা। সমান ১০ গোল করেছিলেন দুজন।
পরের লিগে অর্থাৎ ২০২১-২২ মৌসুমে তো গোলের জন্য হাহাকার করেছেন বাংলাদেশি ফুটবলাররা। এই আসরে পাঁচ গোলের ওপরে যেতে পারেননি স্থানীয় কোনো ফুটবলার। চারজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে সেরা গোলদাতার দৌড়ে তারা পান ১২তম স্থান। অথচ সবশেষ পাঁচ আসরের মধ্যে ওই বছরেই গোল হয়েছিল সবচেয়ে বেশি। গোলের হার ম্যাচপ্রতি ৩ দশমিক ৩৮।

ঘরোয়া ফুটবলে প্রিয় ক্লাবকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি নিজেদের তারকাদের কাছ থেকে গোল দেখতে চান সমর্থকরা। কিন্তু ঘরের ছেলেরা সমর্থকদের সেই চাওয়া পারছেন না পূরণ করতে। দেশি ফুটবলারদের কাছ থেকে গোল দেখার আক্ষেপ মেটেনি ২০২২-২৩ মৌসুমেও। এই আসরে মোট ১১০ ম্যাচে গোল হয় ৩২৪টি। যার মধ্যে দেশিদের অবদান ১০৭ গোল। ১১ দলের আসরে প্রতিটি দলে সর্বোচ্চ চারজন করে বিদেশি ফুটবলার খেলে থাকেন। সংখ্যায় অল্প হলেও গোল করার দিক থেকে অনেক এগিয়ে বিদেশিরা। তবে লিগে প্রায় প্রতিটি দলেই ফরোয়ার্ড লাইনে বিদেশিদের আধিপত্য। সেবারই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেওয়া কিংসলে ৮ গোল করে হয়েছিলেন দেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল স্কোরার। সম্মিলিতভাবে জায়গা হয় আটজনের পর।
কিংসলের পর দ্বিতীয় দেশি ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি করে গোল করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর ইকবাল হোসেন ও ঢাকা আবাহনীর জীবন। বিদেশি ফরোয়ার্ডদের আধিক্যের কারণে জীবন ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন কেবল ১৩টি। চট্টগ্রাম আবাহনীর উইঙ্গার ইকবালও সুযোগ পেয়েছিলেন স্রেফ ১৩ ম্যাচে। অথচ ওই মৌসুমে প্রতিটি দল খেলে ২০টি করে ম্যাচ।
গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই ম্যাচপ্রতি গড়ে কম গোল হয়েছে। তারপরও সেরা পাঁচের মধ্যে বাংলাদেশি রাকিবের থাকাটা আশা জাগানিয়া। দেশের ফুটবলের উন্নতির চিত্রটাও তাতে কিছুটা হলেও অনুধাবন করা যায়। স্থানীয় ফুটবলারদের মধ্যে অবশ্য রাকিব ছাড়া আর কেউ আলো ছড়াতে পারেননি। যদিও ইনজুরির কারণে বেশিরভাগ সময়ই মাঠের বাইরে ছিলেন আলোচিত শেখ মোরছালিন। লিগের শেষ দিকে এসে খুব একটা দলে সুযোগ মেলেনি জামাল ভূঁইয়ার। তবে সুযোগ পেলেই ঝলক দেখিয়েছেন শাহরিয়ার ইমন, সুমন রেজা, জাফর ইকবালরা। আবার তরুণদের মধ্যে নজর কেড়েছেন মোহামেডানের উইঙ্গার মিনহাজুল আবেদীন বাল্লু।
সর্বোচ্চ গোল (বিপিএল)
১। কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্ট ১৯ গোল
২। সুলেমান দিয়াবাতে ১৭ গোল
৩। দোরিয়েলতন গোমেস ১৪ গোল
৪। রাকিব হোসেন ৯ গোল
আর্নেস্ট বোয়েটিং ৯ গোল
৫। মিগুয়েল ফেরেইরা ৮ গোল