কাউন্টডাউন : টি-২০ বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৪ ১৫:২৭ পিএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৪ ১৫:২৯ পিএম
খেরো খাতার শাপ যদি এবারও মিলে যায়, তাহলে হয়তো সেমির বেশিদূর যেতে পারবে না ইংলিশরা— সংগৃহীত ছবি
শিরোপাধারীদের নিয়ে আশা থাকবেই, তুঙ্গে চাপবে প্রত্যাশার পারদও। সব সময় যদিও চ্যাম্পিয়ন ট্যাগ আশীর্বাদ বয়ে আনে না। কখনও কখনও হয়ে ওঠে দুর্ভাবনার প্রতিশব্দ। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে। ইতিহাসের খেরো খাতা বলছে, ৯টি বিশ্বকাপের ৯ বারই আশ্চর্যপতন হয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এসে কেউ ছিটকে গেছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। কেউ আবার সেমিফাইনাল অবধি গিয়ে থেমেছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা বাদে টানা দুবার ফাইনালেও উঠতে পারেনি আর কোনো চ্যাম্পিয়ন। শিরোপার মঞ্চে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন এ এক দুঃখগাথা বটে!
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরের কথাই শুরুতে বলি। ক্রিকেটকে বিশ্বায়নের রূপ দিতে গড়া কুড়ি কুড়ির আসরে দোর্দণ্ডপ্রতাপ দেখাল পাকিস্তান। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডার্স স্টেডিয়ামে যদিও ওয়ান্ডার তথা বিস্ময় জাগায় দলটি। ভারতের বিপক্ষে শিরোপার ফয়সালার ম্যাচে শেষ সময়ের ভুলে ট্রফিটা তোলা হয়নি। এখানে চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে গল্প। মারকাটারি আসরের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে তখন হই হই রব। পরের বিশ্বকাপেও ভারত গড়ল দুর্দান্ত এক দল। গ্রুপ পর্বেও চ্যাম্পিয়নরা দাপট দেখাল। দুটি ম্যাচের দুটিতেই প্রতিপক্ষকে হারাল বিশাল ব্যবধানে। কিন্তু আটকে গেল সুপার এইটে। শেষ আটে চার ম্যাচের একটিতেও জিততে পারল না ভারত। গ্রুপের তিন ম্যাচের তিনটিতে হেরে পাততাড়ি গোটাল। ওই আসরে তবে পুরোনো ভুল করেনি পাকিস্তান। আরেক এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কাকে তারা হারায় হেসেখেলে।
পরের আসর তথা ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসা টি-টোয়েন্টির তৃতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের কপাল ততটা খারাপ ছিল না। গ্রুপ পর্বের বাধার পর সুপার এইটও কষ্টেশিষ্টে উতরাল পাকিস্তান। কিন্তু শাপমোচন হয়নি এবার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তে হেরে বসে। ১৯৭ রানের লক্ষ্যে উমর আকমলরা ১৯১ রান অবধি যেতে পারেন। সেবার শিরোপার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে ইংল্যান্ডের।
পরের আসরে ইংলিশরা যা তা। গ্রুপ পর্ব কোনো মতে পার করলেও শেষ আটেই বিদায় নিতে হয় তাদের। ২০১২ সালের ওই আসরটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে কাঁদিয়ে প্রথম শিরোপা ঘরে তোলে ক্যারিবিয়ানরা। লঙ্কানরা অবশ্য পরেরবার সেই ভুলটি করেনি। পাকিস্তানের পর টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠে তারা। বাংলাদেশে বসা বিশ্বকাপে শিরোপাও ফয়সালা নিজেদের পক্ষে করে নেয়। এরপর সেই পুরোনো শাপ। চ্যাম্পিয়ন তো বটে রানার্স আপ দলও শিরোপার এত কাছে যেতে পারেনি।
২০১৬ সালে ভারতে বসা বিশ্বকাপে মুখ থুবড়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ভারতের দৌড়ও থামে শেষ চারে। ওই আসরের ফাইনাল খেলে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কার্লোস ব্রাথওয়েটের তাণ্ডবে হয় শিরোপা ফয়সালা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসা পরের আসরে মুদ্রার ওপর পিঠ দেখে ক্যারিবিয়ানরা। সুপার টুয়েলভে ৫ ম্যাচে হেরে বসে চারটিতে। তলানিতে থেকে বিদায় নিতে হয় চ্যাম্পিয়নদের। ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড অবশ্য শেষ চার অবধি যেতে পারে। তবে ভ্যাগের শিকে ছেঁড়েনি। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২১ সালে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে অস্ট্রেলিয়া।
কিন্তু ঘরের মাটিতে বসা ২০২২ সালের আসরে অজিরা পড়ে যায় অঘোষিত অভিশাপের মুখে। পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জিতেও সেমিতে যাওয়া হয়নি। রান রেটের মারপ্যাঁচে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ স্বপ্ন থামে চ্যাম্পিয়নদের। সেবার পাকিস্তানকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড।
খেরো খাতার শাপ যদি এবারও মিলে যায়, তাহলে হয়তো সেমির বেশিদূর যেতে পারবে না ইংলিশরা। ফাইনালে পৌঁছলেও হারতে হতে পারে! কারণ চ্যাম্পিয়নদের দুঃস্বপ্ন যে পরের আসর। যুক্তরাষ্ট্রে সেই শাপ জশ বাটলাররা মোচন করে কিনা, সেটি দেখার।