প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৪ ০০:০৬ এএম
আপডেট : ২৯ মে ২০২৪ ১১:৩৯ এএম
বাংলাদেশ দলে হার্ডহিটার নিয়ে আক্ষেপ দীর্ঘদিনের। এই হাপিত্যেশের সমাধান হতে পারেন জাকের আলী অনিক। সবশেষ বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টরিয়ান্সের জার্সিতে হার্ড হিটিংয়ে নিজের ক্ষমতার জানান দেন। উইকেটকিপার এই ব্যাটারের জাতীয় দলে আগমন অনেকটা আকস্মিকভাবে। স্পিনার আলিস ইসলামের ইনজুরিতে গত মার্চে দরজা খোলে জাকেরের সামনে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার একাদশে সুযোগ পেয়েই নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন। আছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলেও। প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলার অপেক্ষায় থাকা জাকের দেখাচ্ছেন বড় আশা। তিনি চান, দেশের জন্য বড় কিছু করতে, যা বাংলাদেশ আগে কখনও করেনি।
বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে ‘গ্রিন রেড স্টোরি’ নামে ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের ভিডিও প্রকাশ করছে বিসিবি। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে জাকের আলীর সাক্ষাৎকার। সেখানেই ২৬ বছর বয়সি এই ক্রিকেটার শুনিয়েছেন তার উঠে আসা, জাতীয় দলে অভিষেকের মুহূর্ত, বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনা এবং আরও অনেক কিছু।
বিশ্বকাপে নিজের স্বপ্ন ও লক্ষ্য নিয়ে ডানহাতি এই ব্যাটার বলেছেন, ‘দল হিসেবে আমি চাইব, আমরা প্রতিটি ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করে দেখাতে এবং জিততে। নিজের দেশের জন্য বড় কিছু করার ইচ্ছা আছে। এই বিষয়টা সব সময় ভাবনায় কাজ করে। ইচ্ছা থাকবে, আগে যেসব জিনিস অর্জন করতে পারিনি, সেসব যেন এবার অর্জন করতে পারি।’
কথা বলেছেন বিশ্বকাপে নিজের ব্যক্তিগত পরিকল্পনা নিয়েও, ‘দেশের হয়ে খেলাটা সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আর সেটা যদি হয় বিশ্বকাপের মঞ্চে, তাহলে আরও ভালো। যখন থেকে শুনলাম যে আমি দলে আছি, তখন থেকেই ম্যাচ বাই ম্যাচ দেখা শুরু করে দিয়েছি। কার সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে, কোন প্রতিপক্ষের সঙ্গে কী রকম কৌশল নিতে হবে, সেগুলো নিয়ে ভাবছি। সেভাবেই এগোচ্ছি।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেকেই ৩৪ বলে ৬৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে সবার দৃষ্টি কাড়েন জাকের। সেই ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে পেয়েছিলেন অভাবনীয় সংবর্ধনা। এই মুহূর্তটা তার কাছে এখনও স্পেশাল, ‘আমাকে যেভাবে টিমে ওয়েলকাম জানানো হয়েছে, ওই জিনিসটা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে। হ্যাঁ, আমি একটা ভালো ইনিংস খেলছি এটা দেখা যেতে পারে, কিন্তু আমাকে যেভাবে ওয়েলকাম করা হয়েছে, ওটা আমার কাছে স্পেশাল।’
জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়ে মায়ের স্বপ্নও পূরণ করেছেন জাকের, ‘আম্মার স্বপ্ন ছিল যে, আমি দেশের হয়ে খেলব। সব সময় বলত, ‘তোর তামিম ভাই, সাকিব ভাই, মাশরাফী ভাইয়ের টিমে কবে তুই খেলবি।’ এটাই আমার আম্মার স্বপ্ন ছিল। এখন আম্মা এই জিনিসগুলা নিয়ে খুবই গর্বিত। আব্বা যত দিন বেঁচে ছিলেন, খেলা থাকলে মাঠে বসে থাকতেন। আব্বা যখন থাকতেন না, আমার বোন নিয়ে যেত।’
হবিগঞ্জ থেকে উঠে আসা এ ক্রিকেটার জানিয়েছেন নিজের শুরুর কথা, ‘ক্রিকেট দেখেই ক্রিকেটে আসা। ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট খুব ভালোভাবে অনুসরণ করি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই বিশ্বকাপ থেকে ক্রিকেটটা ভালোভাবে বোঝা শুরু করি। তখন থেকেই আসলে ইচ্ছে ছিল যে বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেট খেলব। দেশের হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। তখন থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা।’