কাউন্টডাউন : টি-২০ বিশ্বকাপ
আরিফুর রাজু
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৪ ১৬:০৪ পিএম
আপডেট : ২৭ মে ২০২৪ ১৭:২৪ পিএম
মেসবাহ উল হকের সেই শ্বাসরুদ্ধকর স্কুপ— সংগৃহীত ছবি
ফিনিশিং টাচ, খেলাধুলায় বিশেষ করে ক্রিকেটে এটি খুবই দ্ব্যর্থবোধক। একপক্ষের মহা আনন্দ, অন্যপক্ষের দুয়ারে এসে চৌকাঠ পেরুতে না পারার দুঃখ। স্বপ্নপূরণ আর দুঃস্বপ্ন তাড়িত হওয়ার ব্যবধান অনেক সময়ই কয়েক মুহূর্ত মাত্র। শ্বাসরুদ্ধকর এমন ঘটনা যদি হয় বৈশ্বিকমঞ্চে, দুঃখ বেড়ে হয় সমুদ্র সমান। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষ ওভারে ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার, প্রথম বিশ্বকাপ মঞ্চে মিসবাহ উল হকের ভুল ও নিউজিল্যান্ডের সুপারওভার দুঃখ— টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এমন অনেক টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সাক্ষী। যা এখনও দর্শকদের স্মৃতিতে তরতাজা।
২০০৭ সাল, প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চ। প্রতিপক্ষ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। কুড়ি কুড়ির ক্রিকেটে কতটা বাঁক-বদল, নাটকীয়তা আর রঙ বদলের তা প্রথম দৃশ্যমান হয় সেবার। উদ্বোধনী আসরে ইংল্যান্ডকে ধসিয়ে সেমিফাইনাল এবং অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত। শিরোপার মঞ্চে মহেন্দ্র সিং ধোনি ব্রিগেডের প্রতিপক্ষ হয় পাকিস্তান। জোহানেসবার্গে সেদিনের মহারণে প্রথমে ব্যাট করে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে দ্রুত উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে একপ্রান্ত আগলে সতর্কদৃষ্টিতে এগোতে থাকেন মিসবাহ উল হক। ১৭তম ওভারে হরভজন সিংয়ের এক ওভারে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ম্যাচ জমিয়ে দেন। তাতে শেষ ওভারে পাকিস্তানের লক্ষ্যমাত্রা নেমে হয় ১৩ রান। এমনকি যোগিন্দর সিংয়ের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে জয় থেকে হাতছোঁয়া দূরত্বে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। কিন্তু ওভারের তৃতীয় বলেই গলদ। নিজের প্রিয় স্কুপ খেলেন মিসবাহ, শূন্যে ভাসা ক্যাচ লুফে নেন শ্রীশান্ত। তাতেই ইতিহাসের সাক্ষী ভারত।
ছোট দলের বড় কীর্তি ঘটে ২০০৯ বিশ্বকাপে। দিনটি ইংল্যান্ডের জন্য বেদনাময়। যারা ক্রিকেটের জন্মদাতা, যাদের হাত ধরে ক্রিকেট বিশ্ববাজারে, তাদেরই ঘোল খাইয়ে দেয় পুচকে নেদারল্যান্ডস। তাও শেষ ওভারে, নির্দিষ্ট করে বললে শেষ বলে। লর্ডসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরে ইংল্যান্ডের বেঁধে দেওয়া ১৬৩ রানের লক্ষ্যে শেষ বলে ২ রানের সমীকরণ মিলিয়ে দেন টম ডি গ্রুথ। ৩০ বলে ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মহাকাব্যিক জয়ের নায়ক বনে যান এই ডাচ ব্যাটার।
২০১২ বিশ্বকাপে সুপারওভারে দুইবার অঘটনের সাক্ষী নিউজিল্যান্ড। প্রথমবার স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা এবং দ্বিতীয়বার ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বসে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। আসরের ১৩তম ম্যাচে প্রথমবার ২০ ওভারে কিউইরা তোলে ৭ উইকেটে ১৭৪ রান। শ্রীলঙ্কা করে ৬ উইকেটে ১৭৪। সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। বিশেষ এই ওভারে শ্রীলঙ্কা এক উইকেটে তোলে ১৩ রান। জবাবে কিউইরা তুলতে পারে ৭ রান। একই আসরে টানা দ্বিতীয়বার সুপার ওভারে গড়ায় নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ। এবারও একই দশা। উইন্ডিজের বিপক্ষে ১৯.৩ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩৯ রানে অল আউট হয়ে যায়। সমপরিমাণ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। সুপার ওভারে গড়ানো ম্যাচ দুই রানে হারে কিউইরা।
শেষ বলে হারের কালি লেগেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটেও। ২০১৬ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য ভীষণ কষ্টের। হাতছোঁয়া দূরত্বে এসেও খেই হারিয়ে বসে সাকিব আল হাসানরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ১৪৬ রান তোলে ভারত। জয়ের লক্ষ্যে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল লাল-সবুজের দল। তবে শেষ দিকে ঘটে বিপর্যয়। একপর্যায়ে ৩ বলে ২ রান প্রয়োজন পড়ে বাংলাদেশের। শেষ তিন বলে আউট হন মুশফিকুর, মাহমুদুল্লাহ ও মুস্তাফিজুর। অভাবনীয় জয় পায় ভারত। বাংলাদেশ হেরে বসে ১ রানে।