আলমগীর হোসেন, জামালপুর ও শফিকুল ভূঁইয়া, সরিষাবাড়ী
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:৫৮ এএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:৪৮ পিএম
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান (বামে), নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল (মাঝে) ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশীদ। প্রবা ফটো
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের নির্বাচন ত্রিমুখী লড়াইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভোটাররা বলছেন, এ আসনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলাল, ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান ও ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তেজগাঁও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশীদের মধ্যে। হেভিওয়েট দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হেলাল।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এই তিন প্রার্থীকে ভোটের মাঠে দেখা গেলেও বাকি চার প্রার্থীকে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। শক্তিশালী এই তিন প্রার্থীর প্রচারে নির্বাচনী মাঠও সরগরম। এরই মধ্যে তিন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯ ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী রেলস্টেশন এলাকায় নৌকা ও ট্রাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২৫ ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী পৌর এলাকার তাড়িয়াপাড়া গ্রামে ডা. মুরাদ হাসানের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ওই হামলায় ১০ জন আহত হন। সেই ঘটনায় মামলা হলে এক নৌকা সমর্থককে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ।
তবে ভোটারদের আশা, এই আসনে এবার অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে। তরুণ ভোটার রাকিব, তুহিন ও শান্ত বলেন, ‘আমরা এবার নতুন ভোটার হয়েছি। এর আগে কখনও ভোট দেওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। ভোটের দিন আমরা এমন পরিবেশ চাই যেন আমরা নতুন ভোটার হিসেবে আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারি এবং আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারি।’
মহাদান ইউনিয়নের সানাকইর পশ্চিম পাড়া গ্রামের শেফালি আক্তার বলেন, ‘এর আগে মেলা এমপি-মন্ত্রী হইছে, আমাদের সরিষাবাড়ী থেকে তারা কেউ ভালো কাজ করে নাই। যে প্রার্থী আমাদের মতন গরিব মানুষের জন্য কাজ করবে, এলাকা উন্নয়ন করবে আমরা তাকে ভোট দেব।’
একই গ্রামের স্কুলশিক্ষক আব্দুল সালাম বলেন, ‘নির্বাচনের দিন যদি কেদ্রে কোনো ধরনের দাঙ্গা-হাঙ্গামা না হয়, তাহলে নির্বাচন খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন। পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ থাকবে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা। নির্বাচনে জনসাধারণের ভোট প্রয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।’
এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ‘সরিষাবাড়ীর সাধারণ মানুষের দাবি পূরণ করতেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী এই নির্বাচনে আমাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কেউ যদি আমরা ভাবি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, নিরপেক্ষ হবে না, কিংবা কেউ যদি মনে করেন নির্বাচনে আমরা নৌকার প্রার্থী হয়েছি, সরকারদলীয় প্রার্থী, আমরা তো বিশেষ সুবিধা পাব, ভোট নিয়ে যাব, ভোট হয়ে যাবেÑ এসব হবে না। জনগণ এসব করতে দেবে না। আমাদের গায়ের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সরিষাবাড়ীর মাটিতে এসব হতে দেব না। ইনশাআল্লাহ আশা করি বাংলাদেশের কোথাও এই ঘটনা ঘটবে না। এই অপচেষ্টা কেউ করলে তার কবর রচনা হবে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ বলেন, ‘নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনগণের সামনে হাজির হয়েছি। আমি অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।’
প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিশালী দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকার ওপর আস্থা রাখছেন দলীয় প্রার্থী মাহবুবুর রহমান হেলাল। তিনি বলেন, ‘সরিষাবাড়ীর মানুষের মার্কা নৌকা, উন্নয়নের মার্কা নৌকা। আর এ আসনের মানুষ নৌকাপাগল মানুষ। সরিষাবাড়ীর মানুষ যেমন নৌকায় চড়তে জানে, তেমনি নৌকার বৈঠা হাতে অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়তেও জানে। তাই এ অঞ্চলের মানুষের রায় সব সময় নৌকার পক্ষে ছিল, ভবিষ্যতেও পক্ষেই থাকবে। এই অঞ্চলের মানুষ নৌকায় ভোট দিতে অভ্যস্ত। কাজেই দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও এই সরিষাবাড়ীতে নৌকার ভোটের ঘাটতি হবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। আমার এলাকার সবাই বিশ্বাস করে।’
আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সরিষাবাড়ী-৪ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামা অন্য প্রার্থীরা হলেনÑ বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) তারিখ মাহাদী (টেলিভিশন), তৃণমূল বিএনপির মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোনালী আঁশ), জাতীয় পার্টির মো. আবুল কালাম আজাদ (লাঙ্গল) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মো. গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ (মশাল)। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৭৭। ৭ জানুয়ারি ৮৯টি কেন্দ্রের ৬১৪টি বুথে হবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।