× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএনপি এখন কী করবে

বাছির জামাল

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৩ ০৮:৩৯ এএম

বিএনপি এখন কী করবে

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের বর্তমান ভূমিকায় ‘আইন কম, রাজনীতি বেশি’- এমন দৃষ্টিতেই দেখছে বিএনপি। বিষয়টি ‘মানবিক’ হলেও সরকার তা নিয়ে রাজনীতি করছে বলে মনে করেন রাজপথের এই প্রধান বিরোধী দলের নেতারা। দলের চেয়ারপারসনের বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে এখন বর্তমান সরকারের পতন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা। এর জন্য আন্দোলনের গতি আরও তীব্র করার তাগিদও অনুভব করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের এ মনোভাবের কথা জানা গেছে। 

আজ সোমবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক। সেখানেই খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, সে বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে পরবর্তী করণীয় কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে। 

খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে করা আবেদনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখন তার পরিবার তাকে বিদেশে নিতে চাইলে খালেদা জিয়াকে আবার জেলে যেতে হবে। তারপর আদালতে আবেদন করতে হবে। 

আইনমন্ত্রী এ সময় বলেন, প্রথম যে আবেদনটি ছিল, যা ২০২০ সালের মার্চে নিষ্পত্তি হয়, সেই আবেদনে বলা ছিল, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা যেন করা হয়। তখন দুটি শর্তে তার দণ্ডাদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এটি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১-এর উপধারা-১-এর ক্ষমতাবলে দেওয়া হয়েছিল। শর্তগুলো হলোÑ প্রথমত তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন। দ্বিতীয়ত তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। সেই শর্তগুলো মেনে খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হন এবং বাসায় ফিরে যান। সেভাবেই সেই দরখাস্ত নিষ্পত্তি করা হয়। তবে প্রতি ছয় মাস অন্তর বৃদ্ধি করা যাবে কি না, বিষয়টি উন্মুক্ত ছিল। এরপর ছয় মাস করে মোট আটবার সময় বাড়ানো হয়েছে।

এ সময় আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১-এর ১ উপধারার ক্ষমতাবলে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, সেটা অতীত এবং শেষ হয়ে গেছে (ক্লোজড)। অর্থাৎ এই আবেদনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে কোনো সিদ্ধান্তের সুযোগ থাকল না।’

অবশ্য একাধিক আইন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া অসম্ভব নয়। সরকার চাইলে সে সুযোগ করে দিতে পারে। আইনমন্ত্রী ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত পোষণ করেই জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার আইনজীবী ও লিগ্যাল এইড কমিটির প্রধান জেড আই খান পান্না বলেন, এক্সসেপশন ইজ এভরিহয়্যার। ব্যতিক্রম সর্বত্রই আছে। ফাঁসির আসামিকেও প্যারোল দেওয়া যায়।

এ ব্যাপারে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন আইনগতভাবে বিবেচনা না করে, রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে দেশে আইনের শাসন নেই। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়ার প্রতি এক ভয়ংকর তামাশা করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুসারে সরকার চাইলেই নির্বাহী আদেশে তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে পারত।

৭৮ বছর বয়সি খালেদা জিয়া গত ৯ আগস্ট থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি লিভার সিরোসিসে ভুগছেন। মেডিকেল বোর্ড অনেক দিন ধরে তার লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে আসছে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র ও কিডনির জটিলতা বেড়েছে। তিনি হাসপাতালে কখনও কিছুটা ভালো থাকছেন, পরক্ষণেই তার স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।’ 

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতির লক্ষণ না থাকায় পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলটি সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে গত ১২ জুলাই থেকে আন্দোলন করে আসছে। এই এক দফার মধ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিও আছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর থেকে তার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিটি সামনে চলে এসেছে। এ দাবিতে সম্প্রতি সারা দেশে লিফলেট বিতরণ, দোয়া মাহফিল হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ সব মহানগর ও জেলায় সমাবেশ করেছে বিএনপি। ২৫ সেপ্টেম্বর বিদেশে পাঠানোর সুযোগ চেয়ে সরকারের নতুন করে আবেদন করে খালেদা জিয়ার পরিবার। সেই আবেদন পেয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তখন বিএনপিসহ অনেকেই আশাবাদী হয়ে ওঠেন। তারা ভাবতে শুরু করেন যে, বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে হয়তো ইতিবাচক সিদ্ধান্তই দেওয়া হবে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে কোন দেশে চিকিৎসা নেওয়া ভালো হবে সে খোঁজখবরও চলে।

কিন্তু এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে ভয়েস অব আমেরিকাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় মন্তব্য করেন, ‘চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে হলে তাকে আবার জেলে যেতে হবে। তারপর আদালতের কাছ থেকে তাকে অনুমতি নিতে হবে।’ দৃশ্যত এরপরই আশার আলো কমে যেতে থাকে। গতকাল আইনমন্ত্রীও একইভাবে খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দেন।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে নতুন করে আবেদনের পর সরকারের উচ্চমহলের অনেকেই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিয়ে বৈঠকও করেছেন। এ কারণেই পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাকর্মীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। 

বিএনপি এখন কী করবে জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে সরকার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, আন্দোলনের মাধ্যমেই সুরাহার পথ বের করতে হবে। আর আমরা তো সরকার পতনের আন্দোলনেই আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় আ স ম আব্দুর রব, মোহাম্মদ নাসিম বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন কেন পাবেন না? খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকার যা করছে, তাতে মনে হয় তাদের কাছে আইনটাইন কিছু না। সরকার পরিকল্পিভভাবে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়াকে তার প্রাপ্য চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। আমাদের নেত্রীর যদি কিছু হয়, তাহলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।’ 

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নেমেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারব এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বহীন এই সরকার স্বেচ্ছায় বিদায় না নেবে ততক্ষণ পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসলে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া বক্তব্যেরই বাস্তবায়ন। তার জীবন, বেঁচে থাকা এবং উন্নত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া সবকিছু প্রধানমন্ত্রী আর আইনমন্ত্রীর তামাশার হিংসার বৃত্তে আটকে রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে মানবতাবিরোধী বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত এবং একটি মাস্টারপ্ল্যানের অংশ।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল। সেই থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা