× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভাগ্য খুলছে হাওর পর্যটনে

এম আর মাসফি, টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে ফিরে

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১৩:৫১ পিএম

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১৫:৩২ পিএম

পানিতে থইথই সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রবা ফটো

পানিতে থইথই সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রবা ফটো

দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে প্রকৃতিমুখী পর্যটন। যার অন্যতম হাওর। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তাই ভ্রমণের অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে অসংখ্য পর্যটক এখন ভিড় জমাচ্ছেন টাঙ্গুয়ার হাওরে। তাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এখন বিলাসবহুল সব নৌকার আনাগোনাও বাড়ছে এ হাওরে। আগে বিভিন্ন ঋতুতে চাষবাসের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরা ছাড়া আর তেমন কোনো কাজ ছিল না হাওরাঞ্চলে। এখন বর্ষায়ও পর্যটকদের আনাগোনার ফলে অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে এখানে। ভাগ্য খুলতে শুরু করেছে হাওরবাসীর।

যাদুকাটা নদীর পাশে বারিকটিলায় পর্যটকদের ছবি তোলার কাজ করেন ৩২ বছর বয়সি হাবিব। আগে তিনি কক্সবাজারে পর্যটকদের ছবি তোলার কাজ করতেন। কিন্তু সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের এই হাওরে পর্যটক বাড়ায় এখন তিনি এখানে এসেছেন। হাবিব জানান, ছুটির দিনগুলোতে তিনি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার বেশি আয় করেন। তার মতো প্রায় ২০ জন ফটোগ্রাফার শুধু বারিকটিলাতেই পর্যটকদের ছবি তোলার কাজ করেন।

নীলাদ্রি লেক এলাকায় পর্যটকদের বাইকে করে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরিয়ে দেখান ২১ বছর বয়সি আলামিন। স্নাতক শ্রেণিতে লেখাপড়া করলেও তিনি ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের আনা-নেওয়ার কাজ করেন। এতে তার দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা আয় হয়। যা দিয়ে তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করতে পারেন। নীলাদ্রি লেক এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াতে সহায়তা করতে এমন প্রায় ১৫০টি বাইক সব সময় প্রস্তুত আছে বলে জানা গেছে। 

সম্প্রতি টাঙ্গুয়ার হাওর ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, শুধু ছবি তোলা বা বাইক রাইডার নয়Ñ হাওরের পর্যটনকে কেন্দ্র করে নানা সম্পূরক পেশা বিকশিত হতে শুরু করেছে। ছবি তোলার পাশাপাশি পর্যটকবাহী ইঞ্জিনের নৌকা, মোটরসাইকেল চালানো, নৌকায় রান্না, ভাসমান চায়ের দোকান, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ঘোড়ায় চড়ানোসহ নানা পেশায় কাজ করছেন হাজার হাজার মানুষ। 

সুনামগঞ্জ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি, নীলাদ্রি লেক, লাকমাছড়া, শিমুলবাগান, বারিকটিলা, যাদুকাটা নদী, লাউড়ের গড়, হাছন রাজার বাড়ি ইত্যাদি। এসবের অধিকাংশই তাহিরপুরে অবস্থিত।

মেঘালয়ের কোল ঘেঁষা তাহিরপুর ও মধ্য নগর উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে বর্ষায় থাকে সবচেয়ে বেশি। হাওরে রয়েছে হিজলকরচের জলনিমজ্জিত বড় বাগান। পর্যটকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে উঁচু ওয়াচ টাওয়ার। যেখান থেকে হাওরের সৌন্দর্য দেখা যায় ‘পাখির চোখে’।

শেরপুর থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে এসেছেন নাজমুল হোসাইন। তার সঙ্গে এসেছেন এসএসসি ’৯৬ ব্যাচের ৩০ বন্ধু। নাজমুল বলেন, ‘বর্ষায় ঘুরতে যাওয়া মানেই তো পানি, আর পানি মানে টাঙ্গুয়ার হাওর। তাই বন্ধুরা মিলে ঘুরতে এসেছি। অনেক দিন পরে যেন স্কুলজীবন ফিরে পেলাম।’

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, হাউজবোট বা বড় বোটের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘিরে মানুষের আগ্রহ অনেক বেড়েছে, বিপুল কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া মানুষের ওপর চাপও তৈরি করছে।

মূলত যাদুঘাটা নদী থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর পর্যন্ত নৌপথই হাওর পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ। আগে অল্প-বিস্তর মানুষের আনাগোনা হলেও গত এক দশকের মধ্যে এই হাওরে পর্যটন বিকশিত হয়েছে দ্রুতগতিতে, পেয়েছে বাণিজ্যিক রূপ। তরুণ উদ্যোক্তারা হাওরের জলে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছেন। নামিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের ইঞ্জিনচালিত অভিজাত নৌকা। পর্যটকরা আসছেন, এসব নৌকায় থাকছেন এবং রাত যাপনও করছেন। নৌকায় রান্না হচ্ছে, হাওরের মধ্যে হচ্ছে উচ্চ শব্দে গানবাজনা, শীতল জলে গা ভেজাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

এ রুটে চলাচল করে পাঁচ শতাধিক পর্যটকবাহী হাউজবোট বা বড় ইঞ্জিনের নৌকা। ৫০০ নৌকার প্রতিটিতে কমপক্ষে ৪ জন করে কর্মী আছে। অর্থাৎ কমপক্ষে দুই হাজার মানুষ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

পর্যটকবাহী ইঞ্জিনের বড় নৌকার মাঝি সাইফুল বলেন, ‘এখানে পর্যটক বেশি থাকে চার মাস। এ সময় নৌকায় কাজ করি, অন্য সময় কৃষিকাজসহ অন্য কাজ করি। তবে বর্ষায় কাজ করলে বাড়তি আয় হয়, সারা বছর এই সময়ের আয় থেকে খরচ করতে পারি।’

একটি বোটের মালিক সুজিত বলেন, ‘আমাদের পুঁজি কম। তাই ৮-১০ লাখ টাকার কাঠের নৌকা বানাই। কিন্তু চার বছরেই তা নষ্ট হয়ে যায়। ভাড়া কম। স্টিলের বড় নৌকা বানাতে ২০ লাখ টাকা খরচ হয়। ২০-২৫ বছর চলে। ভাড়াও আমাদের প্রায় ৫ গুণ।’

স্থানীয়রা বলছেন, হাওরে পর্যটনের প্রথম দিকে মানুষজন সাধারণ যাত্রীবাহী নৌকায় কোনোভাবে রাত কাটাত। তারপর নৌকায় এলো ভালো ওয়াশরুম, ফ্যান-লাইট, জেনারেটর। এরই ধারাবাহিকতায় এলো নৌকার ভেতরে আরামে হাঁটাচলার ব্যাপার, সঙ্গে এলো নান্দনিক উপস্থাপন। সবশেষে এসেছে কেবিন, লবি, আইপিএসসহ রিসোর্ট সমমানের সুযোগসুবিধা-সংবলিত দৃষ্টিনন্দন হাউজবোট। প্রতিটি ধাপেই মানুষের আগ্রহের মাত্রা বেড়ে চলেছে। ছুটির দিনগুলোতে এখানে নৌকা পাওয়াই দুষ্কর হয়ে যায়।

স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী কালাম বলেন, এখানকার মানুষ সারা বছর মুখিয়ে থাকে হাওরের পর্যটন মৌসুমের জন্য। জীবিকা নির্বাহের জন্য এটি অনেক বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

টাঙ্গুয়ার হাওর মূলত সুনামগঞ্জের ছোট-বড় প্রায় ১২০টি বিলের সমন্বয়ে গঠিত। তবে প্রধান বিল ৫৪টি। এ ছাড়াও এ হাওরের ভেতর জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য খাল ও নালা। বর্ষা মৌসুমে সব খাল, বিল ও নালা মিলেমিশে একাকার হয়ে এটি যেন নীল জলের সমুদ্র হয়ে ওঠে। জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার ৪৬টি গ্রামসহ পুরো হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার, যার ২ লাখ ৮০ হাজার ২৩৬ হেক্টরই জলাভূমি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা