× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাড়ির পাশে জঙ্গি আস্তানায় হতবাক টাট্টিউলির মানুষ

প্রবা প্রতিবেদক, ঢাকা ও মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১১:০৬ এএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

চায়ের রাজধানী ও পর্যটননগরী মৌলভীবাজারে উগ্রবাদী সংগঠনের আস্তানার বিষয়টি নতুন নয়। এর আগেও এই জেলায় পৃথক জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সর্বশেষ গত শনিবার সকালে কুলাউড়ার দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম পূর্ব টাট্টিউলি থেকে উগ্রবাদী সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’র আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করা হয়।

ইমাম মেহেদীর পূর্বসূরি হিসেবে এই ইমাম মাহমুদ পৃথিবীতে এসেছেন এবং তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের যুদ্ধ বা ‘গাজওয়ায়ে হিন্দের’ নেতৃত্ব দেবেন বলে দাবি করে বিভিন্নজনকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে কথিত ‘হিজরত’ করাতেন বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এর আগে রাজধানীর মিরপুর থেকে আটক এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজনসহ ১১ জনকে গতকাল রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। আদালত এর মধ্যে ৯ জনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে ভারতীয় সীমান্তবর্তী পাহাড়ঘেরা মৌলভীবাজার জেলায় প্রথম উগ্রবাদী সংগঠনের আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মৌলভীবাজার শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে এবং পৌর শহরের বড়হাট এলাকায় ইংল্যান্ড প্রবাসী সাইফুর রহমানের (দুটি বাড়ির মালিকই সাইফুর রহমান) ভাড়া নেওয়া দুটি বাড়িতে জঙ্গি তৎপরতার তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই বছরের ২৮ মার্চ রাতে বাড়ি দুটি ঘেরাও করা হয়। ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল ইউনিট (সোয়াট) অভিযান শুরু করে। তাদের সহযোগিতা করে এপিবিএন ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। 

অভিযানের আগে সোয়াটের পক্ষ থেকে মাইকে জঙ্গিদের প্রতি আত্মসমর্পণের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হয়। এরপর বাড়িতে থাকা জঙ্গিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ে। পরে বাড়িতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই দিন আলোস্বল্পতায় অভিযান বন্ধ হয়ে যায়। পরদিন সকালে সোয়াট জোরদার অভিযান শুরু করলে পালানোর পথ রুদ্ধ হওয়ায় বাড়ির ভেতরে জঙ্গিরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহত্যা করে। সোয়াট ওই বাড়ি থেকে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় নারী, শিশুসহ সাতটি মরদেহ উদ্ধার করে। 

এরপর ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌর শহরের বড়হাট এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করে। অভিযান শুরু হওয়ার পরই ওই বাড়ি থেকে গুলি আর বিস্ফোরণের শব্দ আসতে থাকে। ওইদিন সন্ধ্যায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভিযানে বিরতি দেওয়া হয়। পরদিন ৩০ মার্চ সকালে ফের অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান শেষে তারা ওই ভবনে ঢুকে দুজন পুরুষ ও একজন নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।

সর্বশেষ গত শনিবার সকালে কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম পূর্ব টাট্টিউলির বাইশালীবাড়ি এলাকায় টিলার ওপর অবস্থিত একটি বাড়ি থেকে নতুন উগ্রবাদী সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’র আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ছয় নারী ও চার পুরুষকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের সঙ্গে ছিল তিন শিশুও। নির্জন ও গভীর পাহাড়ে ‘অপারেশন হিল সাইড’ নামের এ অভিযানে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ জঙ্গি প্রশিক্ষণের নানা সামগ্রী। এর আগে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে। 

পূর্ব টাট্টিউলি গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর এলাকাবাসীর চোখেমুখে কৌতূহল আর চাপা আতঙ্কের ছায়া দেখা গেছে। তারা ভাবতেই পারছেন না দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নতুন একটি উগ্রবাদী সংগঠন নিভৃতে পরিকল্পনা করছিল তাদের পাশে থেকেই। স্থানীয়রা জানান, পূর্ব টাট্টিউলি পাহাড়ঘেরা একটি গ্রাম। গ্রামের বাইশালীবাড়ি এলাকাটি পুরোপুরি নির্জন। ওই এলাকার অধিকাংশ জমিই খাস খতিয়ানভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলোও দখলস্বত্ব বেচাকেনা হয়। এসব জমিতে চাষাবাদ করেন স্থানীয়রা। তেমনি একটি জমির দখলসূত্রে মালিক ওই গ্রামের কৃষক মো. রফিক মিয়া। তিনি তার দখলে থাকা ৫০ শতাংশ জমি প্রায় দুই মাস আগে ৭ লাখ টাকায় শরীফুল ইসলাম গংয়ের কাছে দখল বিক্রি করেন। পরে জমি বিক্রির টাকায় রফিক মিয়া দুবাই চলে যান। 

যারা ওই জমিটি ক্রয় করেছিলেন তাদের দাবি ছিল, নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে তারা এখানে এসেছেন এবং উঁচু পাহাড়ে বসতি স্থাপন করে বসবাস করবেন। জমিটি কেনার পর শরীফুল ইসলাম গং এখানে টিলার ওপরে টিন দিয়ে চারটি একচালা ঘর নির্মাণ করেন এবং শিশু-নারীসহ ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য বসবাস শুরু করেন। মাঝেমধ্যে এ বাড়িতে ২০-৩০ জন মানুষ যাতায়াত করত। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ওই বাড়ির বাসিন্দারা বাইরে বের হতো না। আশপাশের কারও সঙ্গে তাদের আলাপ-পরিচয়ও ছিল না। প্রায় সময়ই বাড়ির দরজা বন্ধ থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা ছিল ধর্মভীরু হিসেবে তারা এভাবে চলাফেরায় অভ্যস্ত। তবে অনেকেই মাঝেমধ্যে বাড়ির বাসিন্দাদের গভীর বনাঞ্চলের দিকে যেতে দেখেছেন। কেন তারা গভীর বনাঞ্চলের দিকে যেতেন, গ্রামের কেউই তা জানেন না।

গ্রামের বাসিন্দা মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ‘যখন প্রায় দুই মাস পূর্বে তারা (জঙ্গি) আমাদের গ্রামে আসেন, তখন তারা আমাদের বলেন তাদের বাড়ি ছিল বগুড়ায়। সেখানে নদীভাঙনে তাদের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। তাই তারা আমাদের গ্রামে এসেছেন। প্রথম থেকেই তাদের কথাবার্তা, আচার-আচরণ, চলাফেরা নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ ছিল। প্রথমে দুটি পরিবার এ গ্রামে এলেও বাড়ি করার এক মাস পর থেকে বহিরাগত আরও প্রায় ১০-১২ জন লোক ওই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু তারা যে জঙ্গি, তা আমরা বুঝতে পরিনি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের গ্রামে বিকাশের এজেন্ট থাকলেও প্রায়ই তারা বিকাশে টাকা তুলতেন অনেক দূরের রবিরবাজার এলাকায় গিয়ে। প্রায়ই শুনতাম, তারা টাকা তুলতে রবিরবাজার যাচ্ছেন। তাদের পরিবারের বাজার করা হতো অনেক টাকার। পরিবারের সবাই বেকার থাকা সত্ত্বেও এত টাকার বাজার তারা কীভাবে করেন, তা নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা থাকলেও কেউই বুঝতে পারিনি তারা দেশদ্রোহী কাজে এখানে এসে আস্তানা করেছেন।’

কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মোছা. মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তাররা প্রায় দুই মাস আগে টাট্টিউলি গ্রামে এসে প্রবাসী মো. রফিক মিয়ার কাছ থেকে জমি কিনে বাড়ি করে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রথমে দুটি পরিবার এলেও পরে আরও কয়েকটি পরিবার আসে ওই বাড়িতে। এলাকার কারও সঙ্গে ওই পরিবারগুলো মিশত না। তাদের চলাফেরা ছিল প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছে চরম সন্দেহজনক। শনিবার অভিযানের পর আমরা জানতে পারি, বাড়ির পাশেই গড়ে উঠেছে জঙ্গি আস্তানা। আমরা হতবাক।’

কর্মধা ইউপি চেয়ারম্যান মুহিবুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের পূর্ব টাট্টিউলি গ্রামের বাইশালীবাড়ি নামক পাহাড়ি এলাকায় টিলার ওপরে প্রায় দুই মাস ধরে কয়েকটি পরিবার বসবাস করছে। এলাকার মানুষের কাছে তারা বলত নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখানে এসেছে। তারা এলাকার কারও সঙ্গে মিশত না বলে শুনেছি। তারা কী কাজ করত তাও এলাকার কেউ জানে না। তবে তাদের প্রায়ই গভীর জঙ্গলে ঢুকতে দেখেছে গ্রামের বাসিন্দারা। গভীর জঙ্গলে তারা কী করত, এলাকার কেউ তা জানে না। অবশেষে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তাদের স্বরূপ উন্মোচন হয়েছে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, জঙ্গিরা ওই বাড়িতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, জিহাদি বই, দেশীয় অস্ত্র, খাদ্যদ্রব্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিশাল মজুদ করেছিল। অভিযানের পর ওই আস্তানা থেকে আড়াই কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ৫০টি ডেটোনেট, কয়েক বস্তা জিহাদি বই, নগদ ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা, ছুরি-রামদা, প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বুট, বক্সিং ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।

গাজওয়ায়ে হিন্দে অংশ নিতে হিজরত করাতেন ইমাম মাহমুদ 

ইমাম মেহেদী আসার আগে তার পূর্বসূরি হিসেবে পৃথিবীতে এসেছেন ইমাম মাহমুদ। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের যুদ্ধ বা গাজওয়ায়ে হিন্দের নেতৃত্ব দেবেন। এভাবে বিভিন্নজনকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে কথিত ‘হিজরত’ করাতেন ইমাম মাহমুদ। শনিবার কুলাউড়ায় ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের বিষয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। 

সিটিটিসি প্রধান বলেন, গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা সবাই কথিত ইমাম মাহমুদের নেতৃত্বে স্থাপিত জঙ্গি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে যোগদানের জন্য রওনা করেছিল। তারা মনে করে ইমাম মাহমুদ ইমাম মেহেদীর পূর্বসূরি হিসেবে পৃথিবীতে এসেছেন। তাদের বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে ইমাম মেহেদীর পূর্বে যে ‘দুর্বল প্রকৃতির’ ব্যক্তির আবির্ভাবের কথা বলা হয়েছে, তাদের নেতা ইমাম মাহমুদ সেই ব্যক্তি।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কথিত ইমাম মাহমুদ তাদের বলেছে, যারা এই জিহাদে অংশগ্রহণ করবে, তারা সবাই পরকালীন পুরস্কারপ্রাপ্ত হবে ও জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণের প্রথম ধাপ হলো গৃহত্যাগ তথা হিজরত। তাই জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণের উদ্দেশ্যে কথিত ইমাম মাহমুদের নেতৃত্বে সংগঠিত হওয়ার জন্য তারা সবাই ঘটনাস্থলে মিলিত হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে রাজধানীর মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই গ্রুপের সদস্য মো. ফরহাদকে আটক করা হয়। ফরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সে জানায়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লোকচক্ষুর অন্তরালে কথিত ইমাম মাহমুদের নেতৃত্বে তার বেশকিছু অনুসারী আস্তানা স্থাপন করেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপির সোয়াট টিম ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট মৌলভীবাজারের ওই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা করে। পরে কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব টাট্টিউলি গ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের অবস্থান চিহ্নিত করে সেখানে ‘অপারেশন হিল সাইড’ পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তাররা জানায়, কথিত ইমাম মাহমুদের অনুসারী জামিল প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য ওই জমি কেনে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন বয়সি মানুষ ‘হিজরত’ করছিল। কোনো কোনো জায়গায় অভিভাবকরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (ডিজি) বা রিপোর্ট করেছে। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে থানা-পুলিশকে অভিযোগ করা হয়নি বা অভিভাবকরা থানায় যায়নি। এমন কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কাজ শুরু করি। প্রাথমিকভাবে আমরা সিরাজগঞ্জের চিকিৎসক দম্পতি, যশোরের বাসিন্দা ঢাকার নটর ডেম কলেজের ছাত্র ফাহিম ও জামালপুরের এরশাদুজ্জামান শাহীনের তথ্য পাই। এ ছাড়া আমাদের কাছে তথ্য ছিল সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়া এলাকার কিছু পরিবার জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘হিজরত’ করেছে বা হিজরতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তাররা ইমাম মাহমুদের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদের জন্য হিজরত করে। তবে তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। 

৯ সদস্যের পাঁচ দিনের রিমান্ড 

গ্রেপ্তার ইমাম মাহমুদের কাফেলার ৯ সদস্যকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আরও দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোশাররফ হোসেনের আদালত গতকাল এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলো মো. হাফিজুল্লাহ, রাফিউল, শরীফুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, সানজিদা খাতুন, মাইশা ইসলাম, আমেনা, হাবিবা বিনতে শরীফুল ও ফরহাদ হোসেন ওরফে শিপন। তাদের মধ্যে ফরহাদকে ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলো শাপলা ও মেঘলা আক্তার। এর মধ্যে শাপলাকে তার দুগ্ধপোষ্য দেড় বছর বয়সি মেয়ে ও পাঁচ বছর বয়সি ছেলে এবং মেঘলাকে তার দুগ্ধপোষ্য এক বছর বয়সি মেয়েসহ হাজতে পাঠানো হয়েছে। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিটিসির উপপরিদর্শক শাহজাদা মোহাম্মদ আব্দুল্লা আল মামুন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ৯ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপরদিকে দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৯ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং অপর দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা