দাবদাহ ও লোডশেডিং
রাশেদুল হাসান
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৩ ১১:২৫ এএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৩ ১১:৫৯ এএম
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে চার্জার লাইট ও ফ্যানের চাহিদা বৃদ্ধিতে ১ হাজার টাকার ফ্যান ৩-৪ হাজার হাঁকাচ্ছেন দোকানি। ছবি : ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ
কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী তীব্র দাবদাহের সঙ্গে লোডশেডিংয়ের কারণে গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। ফলে বেড়েছে চার্জার ফ্যানের চাহিদা। তবে কিনতে চাইলেও বাজারে তা মিলছে না।
ক্রেতাদের অভিযোগ, মোটা মুনাফার লোভে সংকট তৈরি করা হচ্ছে। দোকান, শোরুমে যাও পাওয়া যাচ্ছে, সরবরাহ কমের কথা বলে সেগুলোর জন্য কয়েকগুণ বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীসহ সারা দেশের ফ্যানের বাজার পরিস্থিতি একই রকম। চার্জার ফ্যান নিয়ে ক্রেতাদের এই অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার যেন কেউ নেই। মাঠে দেখা যায়নি কোনো সরকারি তদারককারী কোনো সংস্থার তৎপরতা।
স্থানীয় বাজার ঘুরে রাজবাড়ী প্রতিবেদক জানিয়েছেন, দোকান ও শোরুমে চার্জার ফ্যানের সংকট রয়েছে। গতকাল বুধবার রাজবাড়ী শহরের বড়বাজারে একটি ফ্যানের শোরুমে চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছিলেন সোহান খান। তিনি বলেন, ‘অসহনীয় লোডশেডিং থেকে বাঁচতে চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছিলাম। দোকানের লোকজন বলছেন, সব ফ্যান বিক্রি হয়ে গেছে।’
বড়বাজারে আরেক ক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘গরমে ছেলেমেয়েরা রাতে ঘুমাতে পারে না। তাই হাতপাখা কিনতে আসলাম। কিন্তু ৩০ টাকার পাখা চাচ্ছে ৮০ টাকা। দামাদামির সুযোগ নেই। বেশি দাম হলেও বাধ্য হয়ে কিনতে হলো।’
একই চিত্র দেখা গেছে বাগেরহাটের রামপালেও। এ উপজেলার উজলকুড় গ্রামের বাসিন্দা খাদেমুল ইসলাম জানান, স্থানীয় ফয়লা বাজারে চার্জার ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। যাও পাওয়া যাচ্ছে দাম নিচ্ছে দ্বিগুণ। ২ হাজার ৫০০ টাকার ফ্যান এখন ৫ হাজার টাকা!
তিনি আরও জানান, একটি সোলার ফ্যান যার বাজারমূল্য ছিল ৫০০ টাকা, তা এখন ৯৫০ থেকে এক হাজার টাকা। আইপিএসের দামও দ্বিগুণ, ২৫ হাজার টাকার আইপিএস তা এখন ৫০ হাজার টাকা ছুঁয়ে গেছে।
ফয়লা বাজারের সুন্দরবন গ্যাস হাউস অ্যান্ড ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী হাফেজ আল আমিন বলেন, ‘আমরা মোকাম থেকে অতিরিক্ত দামে কিনলেও স্বল্প লাভে কাস্টমারকে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে মোকামে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাচ্ছি না।
রাজধানীর বেশিরভাগ শোরুম ও দোকানে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা চার্জার ফ্যানের জন্য আসছেন, না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এই ক্রেতাদের ঠিকানা এখন সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট ও নবাবপুর মার্কেটে। গতকাল এই দুই মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে।
গতকাল সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেটের কয়েকটি দোকানের বিক্রয়কর্মী ও মালিকদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, আগে ৮ ইঞ্চির ফ্যান ২ হাজার টাকা বিক্রি হতো, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। ১২ ইঞ্চির ফ্যানের দাম ছিল ৩ হাজার টাকা, তা এখন ৫ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আবার ১৬ ইঞ্চি ফ্যান বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার টাকায়, যার পূর্ব মূল্য ছিল ৪ হাজার টাকা। ১৮ ইঞ্চি ফ্যান ১১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৯ হাজার টাকা। আবার ব্র্যান্ড ভেদে হাজার টাকা কম-বেশিতেও বিক্রি হচ্ছিল।
সুন্দরবন মার্কেটের মেসার্স সায়মা ট্রেড হাউসের সামনে কথা হয় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ফ্যান কিনতে আসা রাকিবুল হাসানের সঙ্গে। তিনি জানান, একটি ৮ ইঞ্চি চায়নিজ চার্জার ফ্যান কিনেছেন ৩ হাজার ৫০০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকায় পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘ফ্যান কেনার জন্য খুঁজতে খুঁজতে বসুন্ধরা থেকে গুলিস্তানে আসতে হয়েছে। এই মার্কেটে এসেও দেখলাম ফ্যান থাকতেও অনেকে তা বিক্রি করতে চান না।’
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযোগ উপবিভাগের উপপরিচালক মাসুম আরেফিন বলেন, ‘ভোক্তাদের এই অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হয়ে আমাদের মহাপরিচালক ইতোমধ্যে সারা দেশে তদারকি কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন।’