× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি

আওতায় আসবে না প্রথম দ্বিতীয় শ্রেণির পেনশন

আসিফ শওকত কল্লোল

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৩ ১২:১৯ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়া প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের পেনশনে বরাদ্দ অর্থ আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি তহবিলের আওতায় আনা হবে না। মূলত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুসারে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মজীবীদের পেনশনটা এ তহবিলের মধ্যে রাখা হবে। 

আইএমএফের সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের শর্তের মধ্যে পেনশনের বরাদ্দ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তহবিলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টিও রয়েছে।

অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, অবসরে যাওয়া অল্প বেতনের সরকারি কর্মজীবীদের কাছে পেনশনের অর্থটি হচ্ছে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। তবে একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার কাছে পেনশনটা তার জীবনযাপনের বড় কাজে আসে না। কারণ চাকরিতে থাকা অবস্থায় এসব কর্মকর্তা সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ সুবিধার আওতায় ফ্ল্যাট এবং গাড়ি কিনে ফেলেন। তার কাছে জীবনযাপনের জন্য অর্থের অভাব নেই। এ অর্থ কোনোভাবেই সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে আসতে পারে না।

অর্থ বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, আগামী অর্থবছরে অবসরে যাওয়া তৃতীয় এবং চর্তুথ শ্রেণির সরকারি কর্মজীবীদের পেনশনের বরাদ্দ সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচির আওতায় থাকবে।

বর্তমানে পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মজীবীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ। এই পেনশনভোগীদের মধ্যে প্রায় দুই লাখ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা।

গত মাসে আইএমএফ সফররত মিশন সামাজিক নিরাপত্তার বরাদ্দ থেকে পেনশনকে আলাদা রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ সরকারের দেওয়া প্রিমিয়ামকেও সামাজিক নিরাপত্তার বরাদ্দের মধ্যে না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন আইএমএফ কর্মকর্তারা।

তখন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পেনশনের বরাদ্দ অর্থ কোনোভাবেই সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বাজেট নথিতে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর জন্য যে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, তা দরিদ্র মানুষের জন্য প্রকৃত সরকারি ব্যয়কে প্রতিফলিত করে না। সরকার সরকারি খাতে পেনশনকে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর জন্য বরাদ্দের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে, যাতে এটি বড় দেখায় এবং প্রশংসা অর্জন করে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বেশি দেখিয়ে গরিব মানুষের কোনো লাভ হয় না। আসলে উপভোগকারীদের অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে। কারণ দেশে মূল্যস্ফীতি এখন ৯ শতাংশের ওপরে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর বিপরীতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে মোট ২৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা সরকারি খাতের কর্মচারীদের পেনশন দেওয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রের মালিকদের সুদ পরিশোধের জন্য ব্যবহৃত ৯০৭ কোটি টাকা সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সরকার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি খাতের জন্য বরাদ্দ ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা