হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৩ ১০:০০ এএম
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ফটো
গত বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে সোডিয়াম সালফেট আমদানি করে মেসার্স মুমু এন্টারপ্রাইজ। ৮ সেপ্টেম্বর দাখিল করা বিল অব এন্ট্রিতে পণ্যটির ঘোষিত মূল্য দেওয়া হয় প্রতিকেজি দশমিক ১০ মার্কিন ডলার। কিন্তু কাস্টম হাউস শুল্কায়ন করতে গিয়ে অ্যাসেসমেন্ট করে পায়, পণ্যটির দাম প্রতিকেজি দশমিক ১৪ ডলার, যা ঘোষিত মূল্য থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান আমদানিকারক। পরে এ নিয়ে কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট কার্যালয়ে আপিল করে কাস্টম হাউস।
কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী মামুনুর রশিদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আপিল আবেদনটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।
শুধু মেসার্স মুমু এন্টারপ্রাইজের এই চালান নয়, চলতি সপ্তাহে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে ১২টি আপিল আবেদন। সবগুলো চালানে আমদানিমূল্য কম দেখানো হয়েছে। যে কারণে প্রকৃত শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের জন্য কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট কার্যালয়ে আপিল আবেদন করে কাস্টম হাউস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কার্যতালিকায় থাকা আপিলের এসব চালান চারটি প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছে। এর মধ্যে ছয়টি চালান মেসার্স বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের। বাকি ছয়টির মধ্যে দুটি মেসার্স মুমু এন্টারপ্রাইজের, তিনটি মেসার্স শুন শিং এডিবল অয়েল লিমিটেডের এবং অন্যটি মেসার্স বার্জার ফসরক লিমিটেডের।
চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের কার্যালয়ে ১১৯টি আপিল আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে গত অর্থবছরের শুরুতে অনিষ্পন্ন আপিলসহ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে মোট অনিষ্পন্ন আপিল আবেদন ছিল ১১৩টি। ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন করে আপিল আবেদন জমা পড়ে ২২টি। একই মাসে ১৮টি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি হয়। সেই হিসাবে মার্চ মাসের শুরুতে কার্যালয়ে ১১৭টি আবেদন ছিল। চলতি মাসে আরও পাঁচটি আপিল আবেদন জমা পড়ে। এ নিয়ে চলতি মাসে অনিষ্পন্ন আপিল আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২২টিতে। এর মধ্যে চলতি মাসে তিনটি আপিল আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ১১৯টি পণ্যের চালান আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আটকে রয়েছে। ১৫ থেকে ১৬টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এই পণ্যগুলো আমদানি করেছে বলে জানিয়েছেন মামুনুর রশিদ।
আপিল আবেদনগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অধিকাংশ আপিল আবেদনই জমা পড়েছে আমদানিমূল্য কম দেখানোর কারণে। বিল অব এন্ট্রিতে আমদানিকারক যে মূল্য দিয়েছেন, কাস্টম হাউস অ্যাসেসমেন্ট করতে গিয়ে পণ্যটির দাম আরও বেশি পেয়েছে। পরে তারা সে অনুযায়ী শুল্কায়ন করতে গেলে আমদানিকারক আপত্তি জানান। এরপর বিষয়টি চলে আসে কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেটে।
আবার অনেক সময় দেখা গেছে আমদানিকারক আমদানি মূল্য বেশি দেখিয়েছেন। কিন্তু কাস্টম হাউস দেখেছে পণ্যটির মূল্য কম। এ কারণেও কিছু আপিল আবেদন জমা পড়ে। এ ছাড়া কিছু কিছু আমদানিকারক শুল্ক কম দেওয়ার জন্য আমদানি পণ্যের নির্ধারিত এইচএস কোড না দিয়ে ভিন্ন কোড দেন। যে কারণে পরবর্তীকালে পণ্যের শুল্কায়ন করতে গিয়ে আপিল আবেদন করতে হয়।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট (আপিল) কমিশনারেট কমিশনার শেখ আবু ফয়সাল মোহাম্মদ মুরাদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের এখানে যেসব আবেদন জমা পড়ে, তার মধ্যে অধিকাংশ আবেদন হলো শুল্কায়ন মূল্য (অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু) নিয়ে। প্রায় ৮০ শতাংশের মতো আপিলই শুল্কায়ন মূল্য নিয়ে। বাকি ২০ শতাংশের মতো আবেদন জমা পড়ে এইচএস কোডসহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমদানিকারক এবং কাস্টম হাউস- দুই দিক থেকেই আপিল আবেদন জমা পড়ে। শুনানিতে কোনো পক্ষ সন্তুষ্ট না হলে তারা আপিল ট্রাইব্যুনালে পুনরায় আবেদন করতে পারেন। তবে আমাদের চেষ্টা থাকে যাতে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করা যায়, যেন আপিল ট্রাইব্যুনালে কাউকে যেতে না হয়।’