× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নদ খননে ধীরগতি, বাড়ছে ভোগান্তি

ময়মনসিংহ অফিস

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৫৭ পিএম

ব্রহ্মপুত্র নদে ড্রেজিংয়ের দৃশ্য। প্রবা ফটো

ব্রহ্মপুত্র নদে ড্রেজিংয়ের দৃশ্য। প্রবা ফটো

ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে প্রবহমান হাজার বছরের পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদ। এক সময় এই অঞ্চলের দুই কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ভিত্তি ছিল। নদের উজানে যমুনার উৎসমুখ ভরাট হওয়ায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। নদটি নাব্য হারিয়ে ফেলায় শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। 

এক সময়কার খরস্রোতা এই নদে এখন হেঁটে চলাচল করা যায়। আর বর্ষাকালে দুই কূল ছাপিয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। তাই দীর্ঘদিন ধরেই নদ খননরে দাবি তোলেন স্থানীয় জনসাধারণসহ বিভিন্ন সংগঠন। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় তিন বছর আগে শুরুও হয় খননকাজ। 

নদ খননের উদ্দেশ্য হলো সারা বছর যাতে নদে নাব্য বজায় থাকে, যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ যেন ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু কাজের ধীরগতিসহ নানা কারণে সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শঙ্কা রয়েছে প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে শেষ হওয়া নিয়েও। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ব্রহ্মপুত্র নদ ঘিরে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছিল। নদে নানা প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য ছিল। অসংখ্য জেলে পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল। এছাড়া নৌপথে বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করায় নদতীরবর্তী এলাকায় অনেক ছোট-বড় বন্দর ও হাট-বাজার গড়ে উঠেছিল। ব্রহ্মপুত্রের পলি মাটিতে কৃষিপণ্য আবাদ হতো। তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৪০ হাজার একর জমি চাষাবাদে ব্রহ্মপুত্রের পানিই সেচের একমাত্র উৎস ছিল। প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে নদ ক্রমান্বয়ে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদ এখন স্রোতহীন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে স্থানীয় সার্কিট হাউস মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় ব্রহ্মপুত্র নদ খননের প্রতিশ্রুতি দেন। সরকার গঠনের পর তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী ময়মনসিংহে এক নাগরিক সভায় মতবিনিময় করে নদ খননের আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপরও ময়মনসিংহবাসীকে প্রতীক্ষা করতে হয় প্রায় এক যুগ। অবশেষে ২০১৯ সালের জুন মাসে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত ব্রহ্মপুত্র নদের খনন। 

ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নদের খননকাজ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রকল্পের আওতায় জামালপুর জেলার ব্রহ্মপুত্র নদের উৎসমুখ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার টোক পর্যন্ত মোট ২২৭ কিলোমিটার অংশে খনন করার কথা।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের জুনে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় রয়েছে ৯০ কিলোমিটার অংশ। প্রকল্প শর্ত অনুযায়ী ১০০ মিটার প্রস্থ ও ৬ মিটার গভীরতা রেখে খননকাজ করার কথা। 

ময়মনসিংহ পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদটি যখন মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে তখনই এই অঞ্চলের মানুষ নদ খননের উপলব্ধি করেন। বিভিন্ন সময় খননের দাবিতে সোচ্চার হন। এখন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এ নদের খননকাজ চলছে।

আমাদের প্রত্যাশা ছিল নদ খননের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষিব্যবস্থাসহ নৌপরিবহনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রকল্পের কাজ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। নদ খননের নামে খালে পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে।’ 

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন কালাম বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদ বর্তমান সরকারের মেয়াদে খনন শুরু হলেও বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসী হতাশ। নাব্য ফিরিয়ে আনার আশানুরূপ অগ্রগতি এখনও দেখা যাচ্ছে না।’

নদ খননের প্রকল্প পরিচালক বলেছিলেন, ২০২৩ সালের জুন মাসে ব্র‏হ্মপুত্র নদ দিয়ে বড় বড় স্টিমার চলবে। মালামাল পরিবহনে নদে জাহাজ চলবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি এখনও চোখে পড়ছে না। তিনি দ্রুতই ব্রহ্মপুত্র নদ খননের মাধ্যমে প্রতিশ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জানতে চাইলে ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের ময়মনসিংহের অংশে ড্রেজিং শতকরা ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে নদের ময়মনসিংহের অংশে গভীরতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। তখন নৌচলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে, বড় বড় মালবাহী পরিবহন যাতায়াতের উপযোগী হবে।’

নির্ধরিত সময়ে ও ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টাকা ছাড়ের ধীরগতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে বাড়তে পারে প্রকল্প ব্যয়ও।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘ডিসেম্বর মাসে নদীরক্ষা কমিটির সভায় ব্র‏হ্মপুত্র নদ খনন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সভা আহ্বান করে কাজের সর্বশেষ অগ্রগতি জানানো হবে।’

ব্র‏হ্মপুত্র নদ খননের বিষয়ে প্রাধান্য দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা