এম আর মাসফি
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৩২ পিএম
সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম একটি হলো মাতারবাড়ী কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহজগম্যতায় জাতীয় মহাসড়ক এন-১-এর সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিতের জন্য একটি সহযোগী প্রকল্পে কাজ কমলেও ৩৬৪ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এতে প্রকল্পটির মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে কয়েকটি খাতে ২ থেকে ১৩ গুণ পর্যন্ত খরচ বেড়েছে। প্রকল্পটি ২০১৫ সালে শুরু হয়ে ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২২ সালেও শেষ হয়নি। নতুন করে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটিতে সড়ক নির্মাণকাজ ৩ কিলোমিটার কমলেও খরচ বেড়েছে ১০৪ কোটি টাকা। সাড়ে ৭ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসনের কাজ কমলেও খরচ বেড়েছে ৫ কোটি টাকা। সাড়ে ১৯ কিলোমিটার জেনারেল সাইট ফ্যাসিলিটিজ এবং মেরামতকাজ কমলেও খরচ কমেছে মাত্র ১৬ কোটি টাকা। এখন ১ কিলোমিটারের জন্যই খরচ করা হচ্ছে ৩০ কোটি টাকা। এই অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাবই আগামী একনেকে অনুমোদন হতে চলেছে।
পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো প্রকল্পটির প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, মাতারবাড়ী কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সংযোগ সড়কে মূল ডিপিপিতে ১০ দশমিক ৩১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ৯৬ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনীতে সড়ক নির্মাণকাজ কমিয়ে ৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার করা হয়েছে। কমেছে ২ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার। তবে কাজ কমলেও খরচ কমেনি, বরং বেড়েছে। এখন ৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ১০৪ কোটি টাকা খরচ বাড়িয়ে ২০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে যেখানে মূল ডিপিপিতে খরচ ধরা হয়েছিল ৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে সেই খরচ দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ২১ লাখ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে খরচ বেড়েছে ৩ গুণ।
একইভাবে প্রকল্পটির মূল ডিপিপিতে ১২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসনে খরচ ধরা হয়েছিল ৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনে এ খাতে কাজ কমেছে ৭ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার। এখন ৫ দশমিক ২৩ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসনে ৪০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নতুন করে খরচ বেড়েছে ৫ কোটি টাকা। মূল ডিপিপিতে যেখানে সড়ক পুনর্বাসনে খরচ ছিল ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। সেখানে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা প্রায় দ্বিগুণ।
মূল ডিপিপিতে প্রকল্পটির ২০ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার জেনারেল সাইট ফ্যাসিলিটিজ এবং মেরামতকাজে খরচ ধরা ছিল ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সংশোধিত ডিপিপিতে সেই কাজ কমে হয়েছে ১ কিলোমিটার। তবে ১ কিলোমিটার কাজের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। যে কাজের খরচ ছিল মাত্র ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এ খাতে খরচ বেড়েছে ১৩ গুণের বেশি।
সংযোগ সড়কটির অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রথম সংশোধনীর তুলনায় খরচ কেন এত বেশি, তার ব্যাখ্যা চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। যদিও পিইসি সভার পরে সেই বেশি খরচেই অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি একনেকে উঠছে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি)।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ প্রকল্পটির পিইসি সভার আগে যিনি এখানে সদস্য ছিলেন তিনি করেছেন। যেহেতু একনেকের জন্য সুপারিশ করেছেন, সেহেতু প্রস্তাব যৌক্তিক হওয়ায় সেটি অনুমোদন দিয়েছেন। তবে বেশ কিছু অঙ্গ নতুন করে যুক্ত হয়েছে, তার কারণেও ব্যয় বেড়েছে।
কাজ কমলেও ব্যয় বাড়ার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সড়ক পরিবহন উইংয়ের যুগ্ম সচিব নিখিল কুমার দাস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, যে সড়ক হচ্ছে, সেটা সাগরের পাশে। সেখানের মাটি দুর্বল। তাই মাটিকে সেভাবে সাপোর্ট দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে, এতে ব্যয় বাড়ছে। অন্য যেসব খাতে ব্যয় বাড়ছে, সেগুলোও যাচাই-বাছাই করেই দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির বিভিন্ন অঙ্গে অস্বাভাবিক ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি সঠিকভাবে না হওয়ার কারণে বেশি কিছু নতুন অঙ্গ যোগ করতে হয়েছে। বেশ কিছু অঙ্গে কাজ কমেছে, আবার কিছু অঙ্গে বেড়েছে। কিছু অঙ্গে যে ব্যয় ধরা হয়েছিল সেটা পর্যাপ্ত না। আবার কাজের রেট সিডিউলও বেড়েছে। যে ব্যয় দেওয়া হয়েছে, সেটা পরিকল্পনা কমিশন অনেক যাচাই-বাছাই করেই দিয়েছে।