ঢাকার মাতুয়াইলে অবস্থিত শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। ছবি: ফেসবুক থেকে
ঢাকার মাতুয়াইলে অবস্থিত শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইসিএমএইচ) সরকারি ২০ টাকার বহির্বিভাগের টিকিট ২০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলে সহজেই টিকিট ও চিকিৎসকের সিরিয়াল মিললেও নিয়ম মেনে লাইনে দাঁড়ানো অনেক রোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও রোগী-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, টিকিট কাউন্টারের কিছু কর্মচারী, কয়েকজন আয়া এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কিছু আনসার সদস্যের যোগসাজশে টিকিট বাণিজ্যের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত টিকিট ও চিকিৎসকের সিরিয়ালের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক রোগী টিকিট পান না। তবে কাউন্টারের আশপাশে অবস্থানকারী কিছু ব্যক্তি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন একাধিক ভুক্তভোগী।
এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা পাব বলে এসেছি। কিন্তু এখানে টাকা না দিলে কোনো কাজই এগোয় না।’
সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে শিশু ও গাইনি বহির্বিভাগে। রোগীদের ভাষ্য, ২০০ টাকা দিলে লাইনে দাঁড়াতে হয় না এবং দ্রুত চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশের সুযোগ মেলে। অন্যদিকে নিয়ম অনুসরণকারী রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
শুধু টিকিট নয়, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অতিরিক্ত উপস্থিতিও রোগীসেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রোগী দেখার ব্যস্ত সময়েও প্রেসক্রিপশন সংগ্রহে তাদের তৎপরতায় রোগী ও স্বজনরা বিরক্ত হচ্ছেন বলে জানান কয়েকজন ভুক্তভোগী।
শিশুদের টিকাদান কক্ষেও কার্যকর সিরিয়াল ব্যবস্থার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। টিকিট বা ডিজিটাল কিউ ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় প্রতিদিনই টিকা গ্রহণকে কেন্দ্র করে রোগীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীলদের তৎপরতা পর্যাপ্ত নয় বলেও অভিযোগ করেন রোগীরা।
একাধিক রোগীর স্বজন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, হাসপাতালের প্রধান ফটক ও জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় সারাদিন অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার যানজট লেগে থাকে। এতে গুরুতর রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে প্রবেশে বিলম্ব হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হচ্ছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের বাইরে সক্রিয় কিছু দালাল বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের পাঠানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সার্বিক বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ইমদাদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কোনো অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।