× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

বারবার বন্যায় ভেসে যায় কামালের স্বপ্ন

মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

বন্যায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া গ্রামে কামাল উদ্দিনের ঘর। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বন্যায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া গ্রামে কামাল উদ্দিনের ঘর। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

২০২৩ সালের বন্যায় বাড়িঘর হারানোর পর নতুন করে ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের গাড়িচালক কামাল উদ্দিন। কিন্তু চলতি বন্যায় ঘর নির্মাণের জন্য কেনা টিনও ভেসে যাওয়ায় আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিলেও তা এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলার ১৩ নম্বর বাজালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল উদ্দিনের একটি টিনের ঘর ছিল। ২০২৩ সালের বন্যায় সেটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। এরপর তিনি পরিবার নিয়ে পাশের বাইতুল ইজ্জত এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। পেশায় গাড়িচালক কামাল উদ্দিনের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিলেন। এর মধ্যে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বর্তমানে স্ত্রী ও অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন তিনি।

নিজের ভিটেতে আবার ঘর নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে ধীরে ধীরে অর্থ সঞ্চয় করে টিন কিনেছিলেন কামাল উদ্দিন। তবে চলতি বন্যায় সেই টিনও ভেসে যায়। ফলে নতুন করে ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা আবারও থেমে যায়। কামাল উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “আমি ড্রাইভার মানুষ, দিনে এনে দিনে খাই। ২০২৩ সালের বন্যায় যখন আমার বাড়িঘর ভেসে গেল, তখন চাল আর শুকনো খাবার ছাড়া আর কোনো সাহায্য পাইনি। ওই সময় এমপি সাহেবরা এসে দেখে গেছেন, কিন্তু কোনো সহযোগিতা করেননি। এমনকি আশপাশের বিত্তবান শ্রেণির মানুষও সহযোগিতার হাত বাড়াননি। এখন ভাড়া থাকি। চেয়েছিলাম আস্তে আস্তে ঘরটা সুন্দর করে তুলব। কিন্তু এবারের বন্যায়ও সেটা হলো ন”।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোরশেদুল মান্নান চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ২০২৩ সালের বন্যায় কামাল উদ্দিনসহ অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় তাদের মধ্যে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। চলতি বন্যায়ও রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

ঘর নির্মাণে সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ খাতে সরকারের কাছ থেকে কোনো আর্থিক বরাদ্দ তিনি পাননি। যে ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন, তা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করেছেন”।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণে আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেখান থেকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে”।

সরকারি সহায়তার সেই আশ্বাসের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন কামাল উদ্দিন। দুই দফা বন্যায় ঘর হারানোর পর নিজের ভিটেতে আবার স্থায়ীভাবে ফিরতে পারবেন কি না, সেই অনিশ্চয়তাই এখন তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা