× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কৃষকের জলবায়ু স্মার্ট প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে আরও দুই বছর

আহমেদ তোফায়েল

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দেশের কৃষি খাতকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) একটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দেয় ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বরে। যার মূল লক্ষ্য ছিল বন্যানিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা।

২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত চার বছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তাদের কাজের মাত্র ২৮.৫৬ শতাংশ শেষ করতে পেরেছে। এখন প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

গত সপ্তাহে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এ প্রকল্পের একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রকল্পের আর্থিক ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৭.২২ শতাংশ। এই প্রকল্পের মোট বাজেট ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৩৩২ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংক দেবে ৮৫০ কোটি টাকা। দেশের ৮টি বিভাগের ১৭টি জেলার ২৭টি উপজেলায় কৃষকদের সহায়তার জন্য ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় গত ১৭ মে প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে। এখন নতুন সময়সীমা অনুযায়ী একটি সংশোধিত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। তবে আইএমইডি নির্দিষ্ট চার বছরে কাজ শেষ না হওয়ার পেছনে উন্নয়ন সহযোগীদের কঠোর শর্ত ও অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছে।

আইএমডি যা জানাচ্ছে

এদিকে আইএমইডি জানাচ্ছে, প্রকল্পের শুরুতে শুধু পরামর্শক নিয়োগ করতেই প্রায় আড়াই বছর সময় কেটে গেছে। বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে এই দেরি হয়। এই সময়ে মাঠপর্যায়ে কোনো নির্মাণ কাজ বা দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। এর বাইরে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়েও বড় জটিলতা তৈরি হয়। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে নতুন বাজার ও বসতি গড়ে উঠেছে। এতে জমির দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বাঁধের জন্য জমি কেনা এবং উপযুক্ত মাটি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের গাফিলতির একটি বড় চিত্র ওঠে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৮ মার্চ একজন ক্রয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগের কথা ছিল। কিন্তু সেই চুক্তি সই হয় ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, বিশেষজ্ঞ নিয়োগেই প্রায় এক বছর দেরি করা হয়। এই দীর্ঘ সময়ে প্রকল্পের কর্মকর্তারা নিজেরাই দরপত্রের খসড়া তৈরি করেন। কিন্তু সেসব নথিপত্র বিশ্বব্যাংকের নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী হয়নি। ফলে বিশ্বব্যাংক বারবার আপত্তি তোলে এবং সংশোধনের অনুরোধ পাঠায়। এই কারণে পুরো প্রক্রিয়া নিয়মের মধ্যে আনতেই আড়াই বছর পার হয়ে যায়।

আইএমইডি জানিয়েছে, এই বিশাল দেরি চাইলেই এড়ানো যেত। প্রথম দরপত্র আহ্বানের অন্তত তিন মাস আগে ক্রয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা উচিত ছিল। তাছাড়া নিজস্ব প্রকৌশলীদের দিয়ে দরপত্রের খসড়া আগে থেকেই তৈরি করে রাখা যেত। এটি করলে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশেষজ্ঞ যোগ দেওয়ার পরপরই দ্রুত দরপত্র আহ্বান করা সম্ভব হতো। তাহলে মাঠপর্যায়ের কাজে এত বড় স্থবিরতা আসত না।

সামগ্রিক ব্যয় বাড়ছে

এই দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। বর্তমান বাজারে মূল্যস্ফীতি ও নির্মাণ সামগ্রীর দাম অনেক বেশি। শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানি তেল এবং পরিবহন খরচও বেড়েছে। ফলে বাকি কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত ফান্ডের প্রয়োজন হবে। যেহেতু এটি একটি বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্প, তাই মেয়াদ বাড়ার কারণে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক বোঝা তৈরি হবে। আইএমইডি সতর্ক করেছে, বর্ধিত সময়ের জন্য সরকারকে বাড়তি কমিটমেন্ট চার্জ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা খরচ দিতে হতে পারে।

প্রকল্পের সুফল ধরে রাখার জন্য আইএমইডি বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করেছে। সংস্থাটি স্থানীয় পানি ব্যবস্থাপনা সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় করার তাগিদ দিয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় মৎস্যজীবী, নারী ও ক্ষুদ্র কৃষকদের এই কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি নিজস্ব তহবিল গঠন করতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের গেট পরিচালনা ও পানি ব্যবস্থাপনার ওপর আধুনিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

পুনর্খনন করা খাল ও নদীর নাব্য ধরে রাখতে সিল্ট ট্র্যাপ স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ড্রেজিং কর্মসূচি চালু রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইএমইডি নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণের জন্য ইন্টারনেট অফ থিংস (এলওটি) ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে। নদী তীর রক্ষায় ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র দিয়ে জিও ব্যাগের ওজন যাচাই করতে হবে। প্রকৌশলীদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং দুর্বল বাঁধ দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। সঠিক তদারকি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই এখন এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

জিও ব্যাগ হলো এক ধরনের উন্নত ও টেকসই ব্যাগ যা প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সিন্থেটিক ফেব্রিক (যেমন: পলিপ্রোপিলিন বা নন-ওভেন জিওটেক্সটাইল) দিয়ে তৈরি। এগুলি সাধারণত ছাদ বা আঙিনায় গাছ লাগানোর জন্য এবং নদী ও পুকুরের বাঁধ রক্ষায় বালু ভরে ব্যবহার করা হয়।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা