× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এসি বিলাসে ঝুঁকিতে ভবন

ইউছুব ওসমান, জবি

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শহীদ সাজিদ ভবনে স্থাপিত শতাধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের (এসি) পানি দীর্ঘদিন ধরে ভবনের দেয়ালে পড়ায় অবকাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দেয়ালে শেওলা জমছে, নষ্ট হচ্ছে রঙ এবং তৈরি হচ্ছে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ।

একই সঙ্গে এসি সুবিধা বণ্টনে বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখনও জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য হলেও প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বিভাগে এসির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এসব এসির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, শহীদ সাজিদ ভবনের বিভিন্ন তলায় স্থাপিত এসিগুলোর আউটলেট পাইপ থেকে পানি সরাসরি ভবনের বাইরের দেয়ালে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি পড়ায় দেয়ালের রঙ নষ্ট হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সবুজ শেওলা জমেছে এবং কোথাও কোথাও ক্ষয়ের চিহ্নও দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিটি এসির নিষ্কাশন পাইপ নির্দিষ্ট ড্রেনেজ লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করলে সহজেই এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এসি ব্যবহারকারী অনেক বিভাগ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে যথেষ্ট দায়িত্বশীল নয়। নিয়মিত তদারকির অভাবে এসির পানি ভবনের দেয়ালে পড়ে ভবনের ক্ষতি করছে। শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভবন আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অতীতে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাদের দাবি, ভবন সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের তুলনায় নির্দিষ্ট কিছু বিভাগে এসি সুবিধা নিশ্চিত করায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মতে, এসি স্থাপনের আগে ভবনের ধারণক্ষমতা, বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এসি ব্যবহারে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন দেয়ালে পানি পড়লে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়। এতে শেওলা ও ছত্রাক জন্ম নিতে পারে এবং ধীরে ধীরে দেয়ালের রঙ, প্লাস্টার ও কাঠামোগত স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংস্কার ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার বলেন, শহীদ সাজিদ ভবনের দেয়ালে নিয়মিত এসির পানি পড়ে শেওলা জমছে। এটি শুধু দৃষ্টিকটু নয়, ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিরও প্রমাণ। প্রশাসন চাইলে সহজেই এসির পানির জন্য নির্দিষ্ট নিষ্কাশন ব্যবস্থা করতে পারে।

১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবনের এমন অবস্থা হতাশাজনক। একদিকে অধিকাংশ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, অন্যদিকে এই ভবনটিকেও অবহেলার কারণে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। ভবনের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি এসি ব্যবহারকারী বিভাগগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে”।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “বিবিএ ভবনের বিভাগগুলোর এসি সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে রয়েছে। তবে এসির পানি পড়ে দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা আছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ স্থাপনের একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

তিনি বলেন, “এসির সংখ্যা বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বৈদ্যুতিক তার পুরনো। আমরা সেগুলো পরিবর্তন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছি। তা না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে”।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা