× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শাস্তির আওতায় আসছেন পুলিশের ৮২ কর্মকর্তা

তানভীর হাসান

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

শাস্তির আওতায় আসছেন পুলিশের ৮২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের অনেকেই ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছুড়েছিলেন। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে সরকার পতনের পর থেকে দীর্ঘসময় ধরে অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিতিসহ ফৌজদারি ও বিভাগীয় মামলাও চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ জনের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার চারজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও অপরাধ অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের বেশিরভাগই অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার। এদের বেশিরভাগই বিসিএস ২১, ২২ ও ২৪ থেকে ৩৬ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায় সূত্রে জানা গেছে। 

বরখাস্ত হওয়া চার কর্মকর্তা হলেনÑ ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের মিশু বিশ্বাস, জুয়েল চাকমা, ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের মাহমুদুল হাসান এবং সাবেক শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত ও পলাতক) আফজালুন নেছা। 

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের অন্তত ৮২ জন ক্যাডার কর্মকর্তা পলাতক আছেন। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তি প্রদান করা হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাস্তির তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেনÑ সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, রিফাত রহমান শামীম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সঞ্জিত কুমার রায়, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, মো. ইকবাল হোসাইন, মো. নাজমুল ইসলাম, মানস কুমার পোদ্দার, কাজী মনিরুজ্জামান, মো. শাহ নূর আলম পাটওয়ারী ও এটিইউর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। এ ছাড়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে তালিকায় রয়েছেনÑ মো. আলী আশরাফ ভূঞা, জেসমিন কেকা, মো. আবু মারুফ হোসেন, আয়েশা সিদ্দিকা, মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী, মো. তারেক বিন রশিদ, মো. আসাদুজ্জামান, আরিফুর রহমান মন্ডল, মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, মো. শাহজাহান, গোলাম মোস্তফা রাসেল, হাসান আরাফাত, রাজীব দাস, হাসানুজ্জামান মোল্যা, মো. হাফিজ আল ফারুক, রুবাইয়াত জামান, এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, রাজন কুমার দাস, মো. মাসুদুর রহমান মনির, মো. রাশেদুল ইসলাম, তোহিদুল ইসলাম, মো. রওশানুল হক সৈকত ও এস এম শামীম।

সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে বরখাস্তের তালিকায় আছেনÑ মো. হাবিবুল্লাহ দালাল, মো. আরিফুজ্জামান, মো. আল ইমরান হোসেন, মোহাম্মদ ইমরুল, শাহ আলম মো. আখতারুজ্জামান ইসলাম, ইফতেখারুল ইসলাম, পলাশ রঞ্জন দে, মফিজুর রহমান পলাশ, মো. গোলাম রুহানী ও নাহিদ ফেরদৌস। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন। 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর অভিযোগের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রত্যেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অতিউৎসাহী অনেক পুলিশ কর্মকর্তা নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। এমনকি সরকার বিরোধী আন্দোলের সময় তারা বেপরোয়া হয়ে নিরীহ জনগণের ওপর হামলা ও গুলি চালান। পাশাপাশি অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম-খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপকর্মের কারণে সরকার পতনের পর অনেকে পালিয়ে যান। আবার অনেককেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাসপেন্ড ও সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে। সে অবস্থায় থেকেও তারা বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকার পতনের পর অনেকের বিরুদ্ধে খুনের মামলার তদন্ত চলছে। সেখানে কারও নামে চার্জশিট হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও আলাদা বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয় পলাতক ৮২ জন কর্মকর্তার নামে। এসব মামলায় ৫৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি সদস্যদের তদন্ত চলমান রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ৫৭ জনের নামে পুলিশের বিভাগীয় মামলার প্রতিবেদন জমা পড়েছে। সেখানে অপরাধ অনুযায়ী শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে বরখাস্ত, পদাবনতি, বেতন কর্তন-বৃদ্ধি স্থগিত, পদোন্নতি স্থগিত, সতর্কসহ নানা ধরনের শাস্তির কথা আছে। ওই সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশে বাধ্যতামূলক অবসর ও শাস্তির বিধান চাকরিবিধিতেই আছে। যখন চাকরিবিধিতে থাকে, তখন সেটাকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ কম। তবে অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রাজনৈতিক কিংবা কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে নির্দিষ্ট সময় পর অনেককে শাস্তির আওতায় আনা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অপরাধের ধরন বা সময়কাল যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

তিনি বলেন, অভিযোগের ধরন ও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যদি স্পষ্ট থাকে, তাহলে এ বিষয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়। অভিযোগের ধরন ও সম্পৃক্ততার প্রশ্নে যেন কোনো অস্পষ্টতা না থাকে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় যদি এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই রাজনৈতিক বিবেচনা বা ব্যক্তিগত রোষানলের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। অন্যায়ভাবে, জোরপূর্বকভাবে যেন কাউকে কোনো ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে না হয়, সেদিকে সরকারের দায়িত্বশীলদের সতর্ক থাকা উচিত।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা